সতীর্থদের ভরসাতেই
ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন দি হিয়া

সতীর্থদের ভরসাতেই<br>ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন দি হিয়া
+

কাজান, ১৭ই জুন— রাশিয়া বিশ্বকাপে শুরুতেই তাঁর এক ভুলে জয় হাতছাড়া হয়েছে ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের। ৪৮ ঘণ্টা পরেও সমালোচনা, বিদ্রুপ চলছেই। এর মাঝেও নিজেকে ঠান্ডা রাখছেন স্পেন গোলরক্ষক ডেভিড দি হিয়া। বাইরের হই-হট্টগোলও তাঁকে উত্তেজিত করছে না। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে নিজের শেষ মরশুমে দি হিয়াকে এনেছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তারপর ম্যান ইউ ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের দম্ভ হারিয়েছে। মরশুমের পর মরশুম এক নাগাড়ে দুর্ধর্ষ সব গোল বাঁচিয়ে নিজেকে সেরা গোলরক্ষক প্রমাণ করেছেন দি হিয়া। জানতেন না, বিশ্বকাপে কেরিয়ারের প্রথম ম্যাচই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেবে। রোনাল্ডোর দুর্বল শট ঝুঁকে গ্লাভসবন্দি করার সময় বেখেয়ালে সেই বল দি হিয়ার পায়ে লেগে সোজা গোলে। স্পেন-পর্তুগাল ৩-৩ হয়েছে। দি হিয়া নিজেও জানেন, তাঁর ভুলে গোল হজম না করলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করত স্পেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে ২০শে জুন ইরানের মুখোমুখি সার্জিও র‌্যামোসের স্পেন। সমর্থক মহলে জোরালো দাবি, কোনোভাবেই দি হিয়াকে যাতে না খেলানো হয়। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছেন, তা ভেবে একেবারেই রোমাঞ্চিত হচ্ছেন না ম্যান ইউর এক নম্বর জার্সিধারী। পাশাপাশি পর্তুগাল ম্যাচের খারাপ স্মৃতির কথা ভেবেও হতাশায় ডুবতে নারাজ। স্পেনের অভিজ্ঞ ফুটবলাররাই আপাতত দুর্গের শেষ প্রহরীর প্রাণশক্তি। র‌্যামোসরা ওভাবে পাশে না দাঁড়ালে, কুৎসিত গোল খাওয়ার হতাশায় দি হিয়া পরের ম্যাচের জন্য মানসিক প্রস্তুতিই নিতে পারবেন না। প্রথমার্ধের বিরতিতেও স্পেনের বাকি দুই গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগা ও পেপে রেইনা ছুটে যান মাঠে। দি হিয়ার পাশে দাঁড়াতে। অনেকের ধারণা, দি হিয়ার গোল হজম স্পেনের আখেরে লাভই করেছে। মনে করা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে কোচ বিতারণের পর দলকে সংঘবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে দি হিয়ার এই ঘটনা। বর্তমান কোচ হিয়েরো বার্তা দিয়েছেন, ‘স্পেন একটা পরিবার। কাউকেই আলাদা করার কথা ভাবি না।’ লা লিগার গোলরক্ষকরাও মনে করছেন, ভুলবশত দি হিয়া গোল খেয়েছেন ঠিকই। তবে তিনিই পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রথম পছন্দ।
সতীর্থরা পাশে থাকলেও স্পেন সমর্থকদের বেশিরভাগ অংশ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। দি হিয়াকে ইরান ম্যাচে রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ইনিয়েস্তাদের দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র এক অনলাইন ভোট করে। ৪১ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া উচিত। বাকি ৪৯ শতাংশই পরের ম্যাচে কেপা-কে গোলের নীচে দেখতে চাইছেন। কেপা বলছেন, ২৩ জনের বাকি ১২ জনের মতো তিনিও নিজেকে প্রতি ম্যাচের জন্য তৈরি রাখেন। জানান, ‘অনুশীলনে সবাই চেষ্টা করি, নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে। তাতে প্রথম একাদশ বাছাইয়ে কোচের কাজটা কঠিন হয়। দি হিয়া ও রেইনার সম্পর্ক খুব ভালো। সুস্থ প্রতিযোগিতা দলের জন্যই ভালো।’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement