উদ্বাস্তুদের দাবি নিয়ে
আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক
আন্দোলনে জোড়ার আহ্বান

উদ্বাস্তুদের দাবি নিয়ে<br>আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক<br>আন্দোলনে জোড়ার আহ্বান
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৭ই জুন— রাজ্যের ১৬৯০টি উদ্বাস্তু কলোনির এখনও স্বীকৃতি মেলেনি। রাজ্যের উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে উদাসীন কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই। প্রতিটি উদ্বাস্তু কলোনির নিজস্ব দাবিদাওয়ার আন্দোলনকে জুড়তে হবে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। প্রতিটি কলোনি অঞ্চলে সংগঠনকে করে তুলতে হবে প্রাণবন্ত। সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদের (ইউ সি আর সি) কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সভা থেকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। 
রবিবার কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ইউ সি আর সি-র কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সভা। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জীবন রঞ্জন ভট্টাচার্য। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মধু দত্ত। এদিনের সভায় বিভিন্ন জেলার সংগঠকদের আলোচনায় উঠে এসেছে বামপন্থীদের দুর্জয় ঘাঁটি কলোনিগুলিতে থাবা বসাচ্ছে বি জে পি এবং তৃণমূল। উদ্বাস্তু মানুষদের মধ্যেও মেরুকরণের বিষ ঢোকাচ্ছে দুই শক্তি। সভা থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে শক্তিশালী কলোনিভিত্তিক ইউনিট সংগঠন আর উদ্বাস্তু দরদি বামপন্থী শক্তি ও গণতান্ত্রিক মানুষের সংগঠনের কর্মসূচির পাশে জড়ো করে রুখে দিতে হবে উদ্বাস্তু মানুষদের বিভ্রান্ত করার রাজনীতি। উদ্বাস্তুদের দাবিদাওয়া নিয়ে নিবিড় প্রচার করা, বেশি সংখ্যায় তাদের সদস্য করা, ইউনিটি কমিটিগুলির বাৎসরিক অনুমোদন ও নবীকরণ করা, তহবিলকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে পুষ্ট করা, প্রত্যেক স্তরের কমিটির নিয়মিত সভা করা, কর্মসূচিগুলিতে উদ্বাস্তু মানুষদের বেশি করে শামিল করা এই ধরনের সব কাজগুলির মাধ্যমেই সংগঠনকে শক্তিশালী করা যাবে, সরকারকে বাধ্য করা যাবে দাবি আদায়ে। 
এদিনের সভায় অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রেখে বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই উদ্বাস্তু মানুষদের নিয়ে রাজনীতির খেলা খেলছে। নাগরিকত্বের অধিকার অধিকার থেকে এখনও বঞ্চিত থেকে গেছেন এ রাজ্যের অনেক উদ্বাস্তু মানুষ। 
সুজন চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যেমন দীর্ঘদিন ধরে বিমাতৃসুলভ আচরণ নিয়ে এরাজ্যের উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধান করেনি, একই পথে এখন হাঁটছে মমতার সরকার। ১৯৮৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকার উদ্বাস্তু পুনর্বাসনমন্ত্রক তুলে দিয়ে তা জুড়ে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে। বামফ্রন্ট সরকার এই রাজ্যে উদ্বাস্তুদের পাশে থেকে উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে যে নজির তৈরি করেছিল তা ধ্বংস করেছে তৃণমূল। ২০১৬ সালে তৃণমূলও রাজ্য সরকার থেকে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনমন্ত্রক তুলে দিয়েছে।
সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, ২০০৩ সালে কেন্দ্রের বি জে পি সরকার নাগরিকত্ব নিয়ে যে কালাকানুন এনেছিল, তার শরিক ছিল তৃণমূলও। বি জে পি এবং তৃণমূল দুই দলই উদ্বাস্তুদের ব্যবহার করে এসেছে ভোটের প্রয়োজনে। বি জে পি  আসামের নির্বাচনের সময় সব উদ্বাস্তু মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল, ভোট মিটতেই বি জে পি এখন নাগরিকত্বের অধিকার চেয়ে উদ্বাস্তুরা আন্দোলন করলে পুলিশ দিয়ে পেটাচ্ছে। এরাজ্যেও মমতার মতুয়াদের কথা মনে পড়ে ভোটের সময়। বামপন্থীরা মতুয়াদের সামাজিক আন্দোলনকে কখনো রাজনৈতিক সংকীর্ণতা নিয়ে দেখেনি। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ, দিনহাটায় ছিটমহল সমস্যা এখনো মেটেনি। ছিটমহলের বাসিন্দাদের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে লোকালয় থেকে দূরে নদীর চরে, তাঁরাও এখন ভাবছেন আগেই ভালো ছিলেন। উদ্বাস্তুদের কলোনির স্বীকৃতি পেলেও এখনো সেখানে দলিল নেই, দলিল থাকলে পরচা নেই। উদ্বাস্তু মানুষের সামগ্রিক দাবিগুলিকে সামনে রেখেই প্রতিটি কলোনি অঞ্চলে শক্তিশালী সংগঠন গড়তে হবে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement