‘দিল্লি সংকটে’
পথে নামল বামপন্থীরাও

‘দিল্লি সংকটে’<br>পথে নামল বামপন্থীরাও
+

নিজস্ব প্রতিনিধি : নয়াদিল্লি, ১৭ই জুন — আপের আন্দোলনে শামিল হলো সি পি আই (এম)। দিল্লিতে রবিবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নেতৃত্বে কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে যোগ দেন আপ-এর ডাকা প্রধানমন্ত্রী বাসভবন চলো অভিযানে। কেন্দ্রের বি জে পি সরকারের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি ওই সরকারের মদতে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো যেভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে সেকথাই প্রতিবাদ সভায় বলেন ইয়েচুরি। এরই সঙ্গে এদিন নজিরবিহীনভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেন দিল্লির আই এ এস আধিকারিকরা। আবার এদিনই চার মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে ‘দিল্লি সংকট’ মেটানোর দাবি জানান।
এদিন সকাল থেকে আপের কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে এসে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী বাসভবন অভিযানে। মিছিল শুরুর আগেই ইয়েচুরির নেতৃত্বে সি পি আই (এম) কর্মী-সমর্থকরা লালপতাকা নিয়ে সেই মিছিলে যোগ দেন। আবার আপের মিছিলের জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা হিসাবে মিছিল পথের পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এমনকি আগাম অনুমতি নেই অজুহাত দেখিয়ে মিছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় গতিরোধ করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রায় টানা চারমাস ধরে দিল্লির রাজ্য সরকারে কর্মরত আই এ এস আধিকারিকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার পরিচালনায় ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে স্বাভাবিক কারণেই। কেন্দ্রের প্রতিনিধি উপ রাজ্যপালের কাছে প্রতিকার চেয়ে সাতদিন অবস্থানে বসেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দিল্লিতে কার্যত জরুরি অবস্থা চলছে। আধিকারিকদের কর্মবিরতিতে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপ রাজ্যপাল অনিল বাইজল। তার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী অপর মন্ত্রীদের নিয়ে বাইজলের বাসভবনে টানা সাতদিন অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভে অফিসারদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারে বাইজলকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে সাড়া নেই উপ রাজ্যপালের। বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীকেও দুবার চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও কাজ হয়নি।
এরই প্রতিবাদে এদিন মিছিলের ডাক দিয়েছিল আপ। প্রতিবাদসভায় সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, সংবিধানে বর্ণিত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং মৌলিক নীতিগুলি লঙ্ঘন করে চলেছে কেন্দ্রর বি জে পি সরকার। ভয়ানক এই প্রবণতার প্রতিবাদেই এদিনের প্রধানমন্ত্রী বাসভবন অভিযানে শামিল হয়েছে সি পি আই (এম)। রাজ্যপাল এবং উপ রাজ্যপালের দপ্তরকে ব্যবহার করে একের পর এক গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলিকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে বি জে পি। দিল্লি ও পুদুচেরির সরকারের স্থিতিশীলতা এভাবেই নষ্ট করার উদ্যোগ চলছে। কর্ণাটকে মানুষের রায়কেও নস্যাৎ করতে চেয়েছিলেন রাজ্যপাল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। গোয়া, মণিপুর এবং মেঘালয়ের মতো নির্বাচনে পরাস্ত হওয়ার পরেও কর্ণটকে বি জে পি সরকার প্রতিষ্ঠায় উঠেপড়ে লেগেছিলেন রাজ্যপাল। বিহারেও রাজ্যপালের দপ্তরকে ব্যবহার করে কার্যত পিছনের দরজা দিয়ে বি জে পি-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রাজ্য সরকারে। অথচ বিধানসভা ভোটে ওই রাজ্যে পরাস্ত হয়েছিল বি জে পি।
তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে ভঙ্গুর করে দিয়েছে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ককে। অথচ এই সম্পর্কই হলো ভারতীয় সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় চরিত্রের মেরুদণ্ড। এটা বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রের কর্তৃত্ববাদের প্রথম শিকার অবশ্য কমিউনিস্টরাই। ১৯৫৯সালে কেরালায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকারকে অগণতান্ত্রিকভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বামপন্থী নেতৃত্বাধীন সরকারকে এভাবেই কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গে বার বার ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামী এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। পরে মমতা জানান যে, ‘দিল্লি সংকট’ মেটানোর ব্যাপারে কোনও কথা বা আশ্বাস দেননি প্রধানমন্ত্রী।
দিল্লির আই এ এস আধিকারিকরা এদিন দাবি করেন যে, তাঁরা মোটেই কর্মবিরতি পালন করছেন না। উলটে তাঁদের ঘাড়ে দোষ চাপানো হচ্ছে অহেতুকভাবে। বেশ ঔদ্ধত্যের সঙ্গেই তাঁরা বলেন, কোনও মুখ্যমন্ত্রী নয়, তাঁরা আইন এবং সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement