সাদা-কালো কিছু
নেই,ফ্রান্স রঙীন

সাদা-কালো কিছু<br>নেই,ফ্রান্স রঙীন
+

প্যারিস, ১১ই জুলাই— শুধু লাল নীল আলো। পতাকা। মানুষের মাথা। অভাবনীয় মুহূর্ত। দেশের বিভিন্ন জায়গায়, একই চিত্র। বাদ নেই, ছোটো বড় কেউই। মাঝরাতেও ভরদুপুরের মতো আলো ফ্রান্সের রাস্তায়। সাদা-কালোর ভেদাভেদ নেই। ফুটবল মাঠের মতোই। গ্রিজম্যান, পাভার্ডদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলকে জেতানোর চেষ্টায় পোগবা, উমতিতিরা। মাঠের বাইরে জয়োৎসবেও তাই। কেউ সাদা কিংবা কালো নন। সকলেই ফ্রান্সের সমর্থক। সেটাই শেষ কথা। উচ্ছ্বাসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। ভিড় থেকে সমস্বরে চিৎকার ভেসে আসছে, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন।’ অভাবনীয় ঐক্য। ফ্রান্স শুধুই রঙিন। রবিবারের ফাইনাল বাকি। তা নিয়ে চিন্তিত নন কেউই। আপাতত ফাইনালে ওঠার আনন্দেই ভাসতে চায় ফ্রান্স।
নিস, প্যারিস, কান, ফ্রান্স-বেলজিয়াম সীমান্ত এলাকা, এবং ফ্রান্সের অন্যান্য বিভিন্ন জায়গার চিত্র আলাদা করা মুশকিল। চিৎকার, আলো, পতাকা, ভিড়, গান। ফাইনাল প্রসঙ্গে কথা বলতে উত্তেজনায় ভাষা হারাচ্ছেন। পিছন থেকে ভেসে আসছে জয়োল্লাস। সকলের কথায় একটা বিষয় স্পষ্ট, ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ তারা। হবে নাই বা কেন? এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ভয়ংকর দলকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়া কম কৃতিত্বের নয়। বিশেষত, বেলজিয়াম যেখানে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে এসেছিল। বেলজিয়ামকে কর্তৃত্ব নিয়ে হারানো ফ্রান্সকে নিয়ে সেদেশের সকলে স্বপ্ন দেখবে সেটাই স্বাভাবিক।
বয়সে তরুণ দল, তবে অভিজ্ঞ। দলে যেন সব আছে। তবু কিছু একটা নেই। আন্তর্জাতিক স্তরের একটা ট্রফি। অনেক দিন হয়ে গেল। ১৯৯৮ সাল। প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০০৬ সালে ফাইনালে উঠেছিল। ট্রফি আসেনি। বর্তমান দলের পারফরম্যান্স অনবদ্য। ২০১৬ ইউরো কাপের ফাইনালে উঠেছিল এই তরুণ দলই। সেখানেও ট্রফি আসেনি। অধরা আন্তর্জাতিক ট্রফির সঙ্গে পার্থক্য একটা ম্যাচের। পল পোগবা, কিলিয়ান এমবাপ্পে, স্যামুয়েল উমতিতিরা অপেক্ষা করছেন। স্বপ্ন দেখছেন। পরিশ্রম করছেন। ওরা এখন ‘ট্রফি ত্যুর দ্য ফ্রান্স’ প্রতিযোগিতায় নেমেছে যেন।
পোগবা, গ্রিজম্যান, এমবাপ্পেরা গুটিকয়েক নন। বিশ্বকাপ স্বপ্নের সঙ্গী ফ্রান্সের প্রায় ৭কোটি মানুষ। বিশ্বের অন্যান্য অনেক জায়গাতেই রয়েছে ফ্রান্সের সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাতের প্যারিস এবং সেন্ট পিটার্সবার্গকে আলাদা করা কঠিন। শুধু সংখ্যার দিক থেকে পার্থক্য। প্যারিসের সিটি হলের সামনেটা স্টেডিয়ামের গ্যালারির আকার নিয়েছিল মঙ্গলবার রাতে। প্রচুর সমর্থক জড়ো হয়েছেন এক জায়গায়। সঙ্গে জার্সি, পতাকা, বাদ্য যন্ত্র এবং অবশ্যই আতশবাজি। আলোর রোশনাই ছাড়া উৎসব সম্ভব নয় যেন। উমতিতির গোলের সঙ্গে গগনভেদী চিৎকার। ভূমিকম্পের পরিস্থিতি। দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বকাপের ফাইনালে দল। উৎসবের আতিশয্য থাকাই স্বাভাবিক। ম্যাচ শেষ হতেই উৎসব থেমে গিয়েছে তা নয়। রাতের সঙ্গে উৎসব বেড়েছে। যারা স্নায়ুর চাপ সামলে বাড়িতে বসে খেলা দেখেছেন। ফাইনাল নিশ্চিত হতেই তাঁরা রাস্তায়। ভিড় বেড়েছে বিভিন্ন জায়গায়। 
শার্লি হেবডো, কিংবা প্যারিসে নাশকতার ঘটনা নতুন নয়। প্রতিমুহূর্তেই যেন চাপা আতঙ্ক কাজ করে। ফুটবলের মধ্যে দিয়ে আপাতত আতঙ্ক ভুলেছিল ফ্রান্স। পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। হয়তো সে কারণেই সাধারণ ঘটনাও আতঙ্কের জন্ম দেয়। যেমনটা হল ফ্রান্সের নিস শহরে। ফ্রান্স বনাম বেলজিয়ামের সেমিফাইনাল ম্যাচটি বড় পর্দায় দেখছিলেন প্রচুর সমর্থক। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আতঙ্কে আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। জানা গিয়েছে, শেষ বাঁশি বাজার আগের মুহূর্তে দুটি আতশবাজি জ্বালিয়েছিলেন এক সমর্থক। হঠাৎই সেটাকে বোমা ভেবে চিৎকার করেন দুএকজন। মুহূর্তের ভুলবোঝাবুঝিতে সকলে এলোমেলো ছুটতে শুরু করেন নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে। রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে অন্তত ২৭জন সমর্থক।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement