এর থেকে ব্রাজিলের
কাছে হারা ভালো ছিল

এর থেকে ব্রাজিলের<br>কাছে হারা ভালো ছিল
+

সেন্ট পিটার্সবার্গ : ১১ই জুলাই— স্যামুয়েল উমতিতির একটি গোলই নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়াল। বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজের কাছে এই বিষয়টাই আক্ষেপের। মানতে পারছেন না তাঁর সোনালি প্রজন্মের ফাইনালে না যেতে পারা। ৬০ শতাংশ বল পজেশন রেখেও ফ্রান্সের দুর্ভেদ্য রক্ষণ টপকাতে পারেননি ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু বা কেভিন দি ব্রুইনরা। নিজের দলের প্রচেষ্টায় কোনও ত্রুটি পেলেন না মার্টিনেজ। বরং ফ্রান্সের রক্ষণভাগের প্রশংসাই শোনা গেল তাঁর গলায়। বলেন, ‘খুব হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হয়েছে। ফয়সালা হওয়ার মতো মুহূর্তও বেশি তৈরি হয়নি। একটা ডেড বল পরিস্থিতিই ফ্রান্স কাজে লাগিয়েছে। পায়ে অধিকাংশ সময়ই বেলজিয়াম বল রেখে খেলেছে। তা সত্ত্বেও গোল না পাওয়ার কারণ ফ্রান্সের শক্তিশালী রক্ষণভাগ। ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা অনেকটা নিচ থেকে খেলে আমাদের সমীহ করেছে। তারপরও গোলের সামনে একটুকুও সুযোগ তৈরি হতে দেয়নি। ছেলেরা হারলেও আমি ওদের নিয়ে গর্বিত। বাস্তবটা মেনে নিতেই হবে। ফাইনালের জন্য ফ্রান্সকে শুভেচ্ছা।’
কোচের মতো দলের খেলোয়াড়রাও এক গোলে হার মানতে পারছেন না। বেলজিয়ান অধিনায়ক ইডেন হ্যাজার্ড বা গোলরক্ষক থিবাউত কুর্তোয়া ফ্রান্সের ফুটবলকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন। দিদিয়ের দেশঁর কৌশলকে নেতিবাচক বলেও মন্তব্য করছেন তাঁরা। হ্যাজার্ডের ভিতর থেকে ক্ষোভ ঠিকরে বেরোচ্ছিল। জানান, ‘এই ফ্রান্সের হয়ে জেতার চেয়ে বেলজিয়ামের হয়ে খেলে হারাও আনন্দের।’ কুর্তোয়া সেখানে আরও সুর চড়িয়ে বলেন, ‘একটা কর্নার থেকে হেড করা ছাড়া ফ্রান্স আর কিছুই করল না ম্যাচটায়। এর চেয়ে শেষ আটে ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে হারা আনন্দের ছিল। ওরা অন্তত ফুটবলটা খেলতে চেয়েছিল। ফ্রান্স নেতিবাচক ফুটবল খেলা একটা দল।’ বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ভিনসেন্ট কোম্পানি যদিও বিবাদে যেতে চান না এ নিয়ে। তিনি নিশ্চিত, তাঁদের সেমিফাইনাল পৌঁছানো বেলজিয়ামের পরবর্তী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। ফ্রান্সের কাছে হারের পর কোম্পানি জানান, ‘প্রজন্ম আসে যায়। বেলজিয়ামের কাছে ভবিষ্যতেও সুযোগ থাকবে ফাইনালে ওঠার। আমাদের এই সাফল্যের জন্য পরবর্তী প্রজন্মও ফুটবল নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবে।’ এই হারেই সব শেষ নয়। বিশ্বের বড় বড় সংবাদপত্রও বেলজিয়ামকে গোটা বিশ্বকাপে মনোরঞ্জনের জন্য অভিবাদন জানিয়েছে। অনেকে বলছেন, ফ্রান্সের মতোই ফিরে আসবেন হ্যাজার্ডরা। ইউরো ২০১৬-তে পর্তুগালের কাছে ০-১ ব্যবধানে হেরে খেতাব হাতছাড়া করতে হয়েছিল গ্রিজম্যান, পোগবাদের। ভেঙে পড়েননি। ঠিক দুবছর পর আরও বড় মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চলেছেন। ২০২০ইউরোতে বেলজিয়াম প্রায় এই দলই পাচ্ছে। অন্যতম ফেভারিট হয়ে ইউরোতে নামবেন তাঁরা। ফুটবলে আর পাঁচটা দেশের মতো বেলজিয়ামকে কিছু বছর আর ওই নজরে দেখা হবে না। বলা যায়, রাশিয়া বিশ্বকাপে হ্যাজার্ডদের পারফরম্যান্স তাঁদের দেশকে ফুটবলে কৌলীন্য এনে দিল। এই কৌলীন্য সাময়িক কি না তা নির্ভর করে থাকবে হ্যাজার্ড-দি ব্রুইনদের পায়ের ছোঁয়ায়। 
বুধবারের প্রথম সেমিফাইনালের আগে অবধি রাশিয়া বিশ্বকাপের পাঁচটি ম্যাচেই রেড ডেভিলরা জিতেছিল। শুধু জয়ই নয়, সেমিফাইনালের পথে হ্যাজার্ডরা মোট ১৪বার প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে হার মানিয়েছিলেন। স্যামুয়েল উমতিতির ৫১ মিনিটে করা গোলে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দুরমুশ। মার্টিনেজ বলছেন, তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচ জিতে মাথা উঁচিয়ে রুশ মুলুক ছাড়তে চান। সেমিফাইনালের আগে তাঁর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। হারের ফলে অনেকাংশে সেই চ্যালেঞ্জ আরও শক্ত হয়েছে বলে মার্টিনেজের ধারণা। যোগ করেন, ‘সেমিফাইনালে হারের পর আরেকটা ম্যাচ খেলার মতো অনুপ্রেরণা জোগানো খুব শক্ত। আবেগ সামলে রেখে তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে নামার মতো ইতিবাচক দিক বাস্তবে থাকে না বললেই চলে।’ সেমিফাইনালে হারলেও বিশ্বকাপে দেশের সেরা পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে কুর্তোয়া, দি ব্রুইনদের সামনে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ চারের ম্যাচে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচেও ফ্রান্সের কাছে হারে বেলজিয়াম। চার নম্বরই বেলজিয়ামের সেরা কৃতিত্ব। শনিবার জিতলে সেরা পারফরম্যান্স হবে ২০১৮ সংস্করণই।

Featured Posts

Advertisement