যাদবপুরে বিভাগই নেবে
প্রবেশিকা,শুরু ২১শে

যাদবপুরে বিভাগই নেবে<br>প্রবেশিকা,শুরু ২১শে
+

কলকাতা, ১১ই জুলাই— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা বিভাগের ছটি বিষয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় থাকছে না কোনও আউটসোর্সিং। এই পরীক্ষায় থাকবে না এম সি কিউ ধাঁচের প্রশ্নও। বুধবার কলা বিভাগের ছটি বিষয়ের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং কলা বিভাগের ডিন শুভাশিস বিশ্বাস। রেজিস্ট্রার জানান, গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা, তা নিয়ন্ত্রণ করবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ বাইরের কোনও এজেন্সি এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না। 
মঙ্গলবার কর্মসমিতির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কলা বিভাগের স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য হবে প্রবেশিকা পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার ৫০ শতাংশ ও দ্বাদশের পরীক্ষার ৫০ শতাংশ নম্বর মিলিয়ে তৈরি হবে ক্রমতালিকা। গোটা প্রবেশিকা পরীক্ষা দায়িত্বে থাকবেন রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং কলা বিভাগের ডিন শুভাশিস বিশ্বাস। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক শেষে ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনে বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২১শে জুলাই ইংরেজি এবং ২৩শে জুলাই বাংলার প্রবেশিকা পরীক্ষা হবে। ওই দুদিনই ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত পরীক্ষা হবে। ২৪শে জুলাই দর্শনের পরীক্ষা হবে সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরীক্ষা হবে দুপুর আড়াইটে থেকে বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত। ২৫শে জুলাই তুলনামূলক সাহিত্যের পরীক্ষা হবে সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ও ইতিহাস পরীক্ষা হবে আড়াইটে থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত। ওই ছটি বিষয়ের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ৩রা আগস্ট। কাউন্সেলিং হবে ৮ থেকে ১০ই আগস্ট। স্নাতকের ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ই আগস্ট। পাশাপাশি স্নাতক স্তরে অর্থনীতির কাউন্সেলিং এবং ভর্তির কাজ হবে ৩০শে জুলাই। সংস্কৃত এবং সমাজবিদ্যার কাউন্সেলিং ও ভর্তির কাজ হবে ৩১শে জুলাই। ওই তিনটি বিষয়ের ক্লাস শুরু হবে ১লা আগস্ট। 
অন্যদিকে স্নাতকে এই ভর্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন উপাচার্য এবং সহ উপাচার্য। মঙ্গলবার কর্মসমিতির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস জানিয়েছিলেন, কর্মসমিতির এই প্রস্তাবে সহমত না হওয়ার কথা সরকারকে জানানো হবে এবং পদ থেকে তিনি অব্যাহতি চাইবেন। উপাচার্যের এই কথা ঘিরে বুধবার জল্পনার শেষ ছিল না। সূত্রের খবর, সংবাদমাধ্যমে এই কথা বললেও উপাচার্য রাজভবনে যাননি। 
মঙ্গলবার প্রবেশিকা পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পর ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছিল, এটা প্রাথমিক জয়। তারা দাবি জানায়, পরীক্ষা ব্যবস্থায় বাইরের কোনও সংস্থা যুক্ত থাকতে পারবে না এবং এম সি কিউ ধাঁচে প্রশ্ন করা যাবে না। বুধবারের বৈঠকে ছাত্রছাত্রীদের দাবিকে মেনে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের প্রশ্ন এই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ছাত্র আন্দোলনের জয় বলেই মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাংশ। এস এফ আই-র পক্ষ এক বিবৃতিতে ‘রাজ্য সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হার না মানা আন্দোলনকে সংগ্রামী অভিনন্দন’ জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল স্বাধিকারে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রবণতার বিরুদ্ধে।’’
একমাস ধরে প্রবেশিকা ঘিরে টালমাটাল পরিস্থিতি চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (জুটা) কনভেনশনের ডাক দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অশোকনাথ বসু বলেন, খুবই দুঃখজনক যে, স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসার, পরিচিতি বিরাট। এই বিষয়ে যাঁরা কৃতিত্ব নিতে চাইছেন, তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, গবেষক বিশ্বের দরবারে যাদবপুরকে নিয়ে গিয়েছেন। তা সরকার বা কোনও উপাচার্য করেননি। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আক্রমণ তীব্র হলে আন্দোলনও তীব্র হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা শিলা লাহিড়ী চৌধুরি বলেন, এই প্রবেশিকা ব্যবস্থা হঠাৎ করে ঠিক হয়ে যাওয়া নয়। যাঁরা এর বিরোধিতা করছেন বা স্বাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের মনে রাখতে হবে, এটি একটি পরীক্ষিত ব্যবস্থা। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় ১৯৬০-এর দশকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা সেই সময়েও ছিল। তখন উপাচার্য শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে একটি সিদ্ধান্তে আসতেন। আর্টস ফ্যাকাল্টি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেবরাজ দেবনাথ বলেন, সবাই মিলে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। ২০১১সালের পর থেকে শিক্ষাঙ্গনে আক্রমণ নেমে আসছে। এই আন্দোলন এখানেই থেমে থাকবে না। আক্রমণ যত বাড়বে, আন্দোলন তত বড় হবে। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (কুটা) সাধারণ সম্পাদক পার্থিব বসু ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম নৈরাজ্য চলছে। সময় এসেছে একসঙ্গে মিলে স্বশাসনের জন্য লড়াই করার। 
প্রসঙ্গত, টানা কয়েক দিন অচলাবস্থা চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজ্য সরকারের ইচ্ছাকে মান্যতা দিতে গিয়ে এবার যাদবপুরে ভর্তি নিয়ে তিন বার সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের অনশন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

Featured Posts

Advertisement