কলকাতার উত্তাল জনস্রোত
রাজভবনের সামনে গ্রেপ্তার ১৯

কলকাতার  উত্তাল জনস্রোত<br>রাজভবনের সামনে গ্রেপ্তার ১৯
+

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ৯ই আগস্ট— লড়াই ছিল শেষ পর্যন্ত। ব্যারিকেডের এপার-ওপারে ধরা কবজির জোরের লড়াই যেমন, তেমনই মস্তিষ্কের চাপের লড়াইও জারি ছিল।
জেল ভরো, আইন অমান্যের কর্মসূচিতে শামিল গণআন্দোলনের কর্মী-নেতৃত্বের পিছু না হটার মানসিকতার কাছে শেষমেশ হার মানল রাজ্যের শাসকদলের ধামাধারী পুলিশ কর্তারা। এদিন দুপুরে রাজভবনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা ১৯জন বাম কর্মীকে লালবাজারের পুলিশ কর্তারা রানি রাসমণির কর্মসূচিতে আনতে বাধ্য হল। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশকর্তা ঘোষণা করলেন পাঁচ হাজার বাম কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হল। লালবাজার থেকে নিয়ে আসা গ্রেপ্তার হওয়া ১৯জন বাম কর্মীকে অভিনন্দন জানালেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।
বৃহস্পতিবার এলিট সিনেমার উলটোদিকে কেন্দ্রীয় পৌরভবন লাগোয়া চত্বরে কলকাতা জেলার কেন্দ্রীয় আইন অমান্য কর্মসূচির শুরুতেই কৃষক আন্দোলনের সর্বভারতীয়নেতা সূর্য মিশ্র কর্মী সংগঠকদের কাছে বলেছিলেন ভাষণ দিতে আমরা এখানে আসিনি। শেষটা কিন্তু দেখে যাব। বললেন, দাবি শুধু প্রচার আর ভাষণের জন্য নয়, দাবি আদায় করতে হবে। মিছিলশেষে রানি রাসমণি রোডের মুখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের মুখোমুখি সংঘাতের জায়গায় ট্যাবলো গাড়ির মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্য বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বললেন, শুধু কলকাতায় নয়, আজ গোটা রাজ্যের সমস্ত জেলাগুলিতেই রুটিরুজির লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন মানুষ। এই ছোট ছোট লড়াইগুলোকেই এক সুতোয় বাঁধতে হবে। এই মিথ্যাচারের সরকারটাকে যদি ধাক্কা মারতে হয় তাহলে রাস্তায় নেমে উত্তাল তরঙ্গ তৈরি করতে হবে। আগামী মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে বি পি এম ও-র আন্দোলন কর্মসূচি।
রানি রাসমণির রোডের মাথায় ইস্পাতের ব্যারিকেড ছিল বেশ আঁটোসাঁটোই। কিন্তু কলকাতা জেলার এই কেন্দ্রীয় জেল ভরো কর্মসূচিতে শামিল সি আই টি ইউ-র নেতৃত্বে অন্যান্য বাম গণসংগঠনের কর্মীদের মেজাজও ছিল যে কোনও বাধা অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়ে। তাই বেলা তিনটের কয়েক মিনিট আগে ব্যারিকেড প্রান্তে পৌঁছে বাম কর্মীদের একজোট ধাক্কাধাক্কিতে সে গণ্ডি ভেঙে পড়ার উপক্রম। ইস্পাতের ব্যারিকেডের লাগোয়া আরও দুসারি ব্যারিকেডের অংশ ততক্ষণে খুলে ওপারে পুলিশের ঘাড়ে পড়েছে আন্দোলনকারীদের ধাক্কায়। তবে গোটা কর্মসূচিতেই পুলিশ কর্তারা সংযম দেখাতে বাধ্য হয়েছেন। কেননা ব্যারিকেডের ওপারে হাজারো বাম কর্মীকে আক্রমণ করা দূরের কথা, স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন এতজনকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এদিন সন্ধ্যায় লালবাজার থেকে কোনও এক পুলিশকর্তা জানান ব্যারিকেড তো ভাঙাই হয়নি, তাই গ্রেপ্তার হবে কেন?
বৃহস্পতিবার দুপুর একটার কিছু পর থেকেই এলিট সিনেমার উলটোদিকে জেল ভরো কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে আসা বাম কর্মীদের উপস্থিতিতে নেতৃত্বের বক্তব্য শুরু হয়। শ্রমিক সংগঠন, যুব, মহিলা, ছাত্র সংগঠন, বস্তি ফেডারেশন, অসংগঠিত শিল্প শ্রমিকদের বিভিন্ন ইউনিয়ন, আইনজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃত্ব বক্তব্য রাখেন। সি আই টি ইউ সর্বভারতীয় নেতা শ্যামল চক্রবর্তীও এখানে কর্মীদের কাছে বক্তব্য রাখেন। এদিন সূর্য মিশ্র বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত গোটা দেশে এই দিনে জেল ভরোর কর্মসূচি সংগঠিত হচ্ছে। মিছিল শুরুর আগেই বাম কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, খবর পেয়েছি জেলায় জেলায় আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, বাঁকুড়া সর্বত্র ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। মেদিনীপুরে দুটো ব্যারিকেড ভেঙে জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে এগচ্ছে জনস্রোত। পাঁচ মিনিট আগে খবর এল দক্ষিণ ২৪পরগনায় রাস্তাতেই মিছিল আটকেছে। কিন্তু থামাতে পারেনি, ডায়মন্ডহারবারের দিকে এগচ্ছে। এদিন আইন অমান্যের এই কর্মসূচিতে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সি আই টি ইউ সর্বভারতীয়নেতা দীপক দাশগুপ্ত, রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু, নিরঞ্জন চ্যাটার্জি, মানব মুখার্জি, দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, কল্লোল মজুমদার, দিলীপ সেন, মধুজা সেনরায় এবং মহিলা, ছাত্র, যুব সংগঠনের নেতৃত্ব। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন খোকন মজুমদার।

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement