ত্রিপুরায় জলকামান, টিয়ার
গ্যাসে আক্রমণ পুলিশের

ত্রিপুরায় জলকামান, টিয়ার<br>গ্যাসে আক্রমণ পুলিশের
+

নিজস্ব সংবাদদাতা : আগরতলা, ৯ই আগস্ট— ত্রিপুরায় কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে জেল ভরো কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক হামলা চালালো বি জে পি জোট সরকার। আগরতলা শহরে জলকামান, টিয়ারগ্যাস, শূন্যে গুলি সবই ব্যবহার করল পুলিশ। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বি জে পি-আই পি এফ টি জোটের দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। বিলোনিয়া, গন্ডাছড়া, কাঞ্চনপুরে হামলা চালানো হয়। ধলাই, সিপাহিজলা জেলায় সভা সমাবেশ করতেই দেওয়া হবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বি জে পি-আই পি এফ টি। 
হিংসা-সন্ত্রাসের এই পরিবেশকে উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার ‘জেল ভরো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বেলা ১১টার আগেই আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনিতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে যান। যদিও অনেক আগে থেকেই প্যারাডাইস চৌমুহনির দিকে আসার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মসূচি বানচাল করতে শহর অচল করে রাখে পুলিশই। জেল ভরো কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসা কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়। সমস্ত বাধা অতিক্রম করেই দলে দলে নারী-পুরুষ, যুবক-প্রৌঢ় হাজির হয়ে যান। সেখান থেকে মিছিল করে পশ্চিম জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার কর্মসূচি স্থির ছিল। কিন্তু পুলিশ প্যারাডাইস চৌমুহনিতেই ব্যারিকেড করে দেয়। এখানে বক্তব্য রাখেন কৃষকনেতা নারায়ণ কর। দেশজুড়ে মোদী সরকার কৃষক, খেতমজুর, গরিব মানুষের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তার বিরুদ্ধেই এই কর্মসূচি বলে জানান। এরপরেই মিছিল এগতে শুরু করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। মানুষের চাপে ব্যারিকেড ভাঙার উপক্রম হলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য মানিক সরকারসহ নেতৃবৃন্দ সকলেই জলকামানের সামনে পড়েন। জলকামানেও বিক্ষোভকারীদের অনড় দেখে যথেচ্ছ টিয়ার গ্যাসের শেল ছোঁড়ে পুলিশ। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। চোখের জ্বালায় জমায়েত খানিক ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশ শূন্যে গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জলকামানের আঘাতে অনেকেই লুটিয়ে পড়েন। সি পি আই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমা দাস, পার্টিনেত্রী কৃষ্ণা রক্ষিত, ঝলক মুখার্জি, শঙ্কর সরকার, রতন দাস প্রমুখ আঘাত পান। 
এখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, বি জে পি শাসনে রাজ্যে অরাজক অবস্থা তৈরি হয়েছে। আইনের শাসন চুরমার হয়ে গেছে। রাজ্যে জঙ্গলের রাজত্ব কায়েমের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। গ্রামে-পাহাড়ে খাবারের সংকট, কাজের সংকট। তীব্র সন্ত্রাস চলছে। মহিলাদের উপর, কিশোরীদের উপর অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সমস্যাপীড়িত মানুষের কথা শুনতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন বিরোধী বিধায়করা। এইরকম এক পরিস্থিতিতে মানুষ পথে নেমেছেন। বি জে পি-আই পি এফ টি-র পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হচ্ছে বিরোধিতা করা যাবে না। সরকার যা বলবে তাই মানতে হবে। এর থেকেই স্পষ্ট বি জে পি সরকার মানুষকে ভয় পাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে বামপন্থীরা লড়াই চালিয়ে যাবে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement