পথে নেমেই মোদি সরকারকে
হুঁশিবারি কৃষক-খেতমজুরের

পথে নেমেই মোদি সরকারকে<br>হুঁশিবারি কৃষক-খেতমজুরের
+

নিজস্ব প্রতিনিধি : নয়াদিল্লি, ৯ই আগস্ট — স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শুরুর দিনেই ফের নয়া ইতিহাস লিখলো দু’হাজার আঠারোর ভারতবর্ষ। 
ভয়াবহ সংকটে বিপর্যস্ত কৃষি এবং কৃষকের সমস্যা অবিলম্বে সমাধানের দাবিতে দেশজুড়ে উত্তাল ‘জেল ভরো’ আন্দোলনে বৃহস্পতিবার লক্ষ লক্ষ কৃষক এবং শ্রমিককে গ্রেপ্তার করলো সরকার। গত কয়েক মাসের টানা প্রচার অভিযানের পরে এদিন সারা দেশে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সারা ভারত কৃষকসভা। ‘অন্নদাতা’ কৃষকদের এই লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছিল শ্রমিক, মহিলা, ছাত্র, যুবসহ বিভিন্ন গণসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনও। কেন্দ্রের মোদী সরকারকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিতে দেশের রাজপথে রাজপথে এদিন তাই নেমে এসেছিলেন লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের দৃপ্ত মেজাজে জেলায় জেলায় তাঁরা একের পর এক ভেঙে ফেলেছেন অনুভূতিহীন শাসকের সাজানো ব্যারিকেড। রাজ্যে রাজ্যে বেপরোয়া হামলা আর দমনপীড়ন চালিয়েও প্রতিস্পর্ধী দামাল জনস্রোতকে রুখতে ব্যর্থ হয়েছে শাসকপক্ষ। পুলিশ-প্রশাসনের নির্মম লাঠিতে রক্তাক্ত হয়েও রাস্তা ছাড়েনি তারা। কারাগার ভরিয়ে তুলতে বদ্ধপরিকর হাজার হাজার মানুষকে শেষপর্যন্ত গ্রেপ্তারই করতে বাধ্য হয় সরকার। দেশের অন্তত ৪০০টি জেলায় এদিনের ‘জেল ভরো’ আন্দোলন সর্বাত্মক হয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। এদিনের লড়াইকে ঐতিহাসিক চেহারা দেওয়ায় রাতে এক বিবৃতি প্রকাশ করে আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানিয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা। 
তীব্র আন্দোলনের তরঙ্গশীর্ষে এদিন রাজ্যে রাজ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন কৃষকসভা এবং সি আই টি ইউ-র সর্বভারতীয় নেতারাও। সারা ভারত কৃষকসভার সভাপতি অশোক ধাওয়ালেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার দাহানুতে। নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থেকে অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা, সি আই টি ইউ-র সাধারণ সম্পাদক তপন সেন, সি আই টি ইউ-র সম্পাদক এ আর সিন্ধু প্রমুখকে। কৃষকসভার অন্যতম নেতা পি কৃষ্ণপ্রসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হরিয়ানার ভিওয়ানি থেকে। কৃষকনেতা এন কে শুক্লা গ্রেপ্তার হন মুজফ্‌ফরপুরে। কেরালার পালাক্কাদে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কৃষকনেতা বিজু কৃষ্ণাণ। কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুরদের সঙ্গেই এদিনের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি ও গণসংগঠনের কর্মী-সমর্থকরাও। ‘জেল ভরো’ কর্মসূচিতে প্রকাশ্য সংহতি জানিয়েছিল ইন্ডিয়ান এক্স-সার্ভিসম্যান মুভমেন্ট, সারা ভারত আম্বেদকর মহাসভার মতো সংগঠনগুলিও। 
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বি জে পি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে কৃষি ও কৃষকের দুর্দশা চরমে উঠেছে। প্রতিদিনের লোকসানে জর্জরিত, সর্বস্বান্ত কৃষকের বুকের ওপর দিয়ে কর্পোরেটমুখী নয়া উদার অর্থনীতির নিষ্ঠুর বুলডোজার চালিয়ে দিয়ে কৃষক-খেতমজুরের মুখের ভাতটুকুও আজ কেড়ে নিয়েছে মোদী সরকার। কেন্দ্রের নীতিতেই আজ চাষের খরচ আকাশচুম্বী। কপর্দকহীন কৃষক গলা পর্যন্ত ধার নিয়ে ফসল ফলিয়েও লাভজনক দাম পাচ্ছেন না। ২০১৪সালে লোকসভা ভোটের আগে ফসলের ন্যায্য দাম এবং কৃষকের ঋণমুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে কৃষকসমাজকে শুধুই ‘প্রতারণা’ উপহার দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী! সরকারি ঔদাসীন্যে ফসলের লড়াইয়ে পর্যুদস্ত হয়ে তাই আজ প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্তে আত্মঘাতী হচ্ছেন কৃষকরা।
আত্মহত্যা নয়, এই অবস্থায় প্রতিরোধের লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার ডাক দিয়ে কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক আন্দোলন চালাচ্ছে কৃষকসভা। সরকারকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করার এই লড়াই ইতিমধ্যেই ঐক্যবদ্ধ চেহারা পেয়েছে। মধ্য প্রদেশের মন্দসৌরে জোরালো কৃষক আন্দোলনে গুলি চালিয়ে কয়েক মাস আগেই ৫জন কৃষককে খুন করেছে সে রাজ্যের বি জে পি সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র কৃষক আন্দোলন আছড়ে পড়েছে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যেও। এবারে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে সারা দেশে ১০কোটি কৃষক, খেতমজুর, গ্রামীণ শ্রমজীবীর সই সংগ্রহ করেছেন সংগঠকরা। সভা-সমাবেশ-ডেপুটেশন ইত্যাদির মাধ্যমে ব্লকে ব্লকে চলেছে নিবিড় প্রচার অভিযান।
এদিন রাজ্যে রাজ্যে আন্দোলনের রাজপথ থেকে আরও একবার জোরালো দাবি উঠেছে, কৃষক ও খেতমজুরের সব ধরনের এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্তির ব্যবস্থা করতেই হবে সরকারকে। ড. এম এস স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মতো চাষের খরচের সঙ্গে আরও ৫০শতাংশ যুক্ত করে ফসলের সরকারি সহায়ক মূল্য ঘোষণা করতে হবে এবং এই ব্যবস্থার আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। প্রকৃত কৃষকের নামে কৃষিজমি নথিভুক্ত করতে হবে। বনাঞ্চল অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। বয়স্ক খেতমজুর, গরিব ও মধ্য কৃষকদের প্রতি মাসে ৫হাজার টাকা করে পেনশন দিতে হবে। শস্য ও আয়হানির বিমা এবং সব রকমের ফসলকে আওতায় এনে কৃষক-অনুসারী সুসংহত ফসল বিমা প্রকল্প চালু করতে হবে। কৃষক পরিবার এবং গবাদি পশুর স্বাস্থ্যবিমা চালু করতে হবে। দাবি উঠেছে খেতমজুরের ন্যূনতম মজুরি, সামাজিক সুরক্ষার। আন্দোলন থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির শপথও নেওয়া হয় এদিন।
সম্প্রতি নাসিক থেকে মুম্বাই ৫০হাজার কৃষকের ‘লং মার্চ’ করে সাড়া জাগানো মহারাষ্ট্রে প্রত্যাশিতভাবেই সর্বাত্মক হয়েছে এদিনের ‘জেল ভরো’ আন্দোলন। প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, রাজ্যের ২৫টি জেলার গ্রাম-শহরে অসংখ্য শ্রমজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানে-পালঘর, নাসিক এবং সোলাপুর, মাত্র এই তিনটি জেলাতেই এদিন গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৫হাজারেরও বেশি মানুষকে। কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুরদের সঙ্গে আন্দোলনে ছাত্র, যুবক, মহিলাদের অংশগ্রহণও ছিলো নজরকাড়া। সারা ভারত কৃষকসভার সভাপতি ড.অশোক ধাওয়ালেকে দাহানুতে, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম ধাওয়ালেকে বিক্রমগড়ে, কৃষকসভার প্রাদেশিক সভাপতি কিষাণ গুজরকে তালাসারিতে গ্রেপ্তার করা হয়। রাস্তা অবরোধ, বিরাট বিরাট মিছিলে এদিন কার্যত অবরুদ্ধ ছিলো মহারাষ্ট্রের নানা প্রান্ত। সোলাপুরে সি আই টি ইউ-র নেতৃত্বে ৫হাজার শ্রমিকের মিছিল বের হলে পুলিশ সকলকেই গ্রেপ্তার করে। 
এদিন ‘জেল ভরো’ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও পাশের যন্তরমন্তর এলাকা। রাজধানীর সদাব্যস্ত এই এলাকার চেহারাই এদিন পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে আগেই বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও দলিতদের সংগঠন। সংহতির বিক্ষোভ সমাবেশে ভরে গিয়েছিল গোটা এলাকা। দিল্লি ও লাগোয়া এলাকা থেকে সকাল থেকেই বহু দলিত মানুষ এসেছিলেন সমাবেশে। এসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনারাও। উল্লেখ করা যেতে পারে, এই এলাকায় গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সমস্ত সভা-সমাবেশ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত মামলায় গ্রিন ট্রাইব্যুনালের ঐ নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবাদ আন্দোলন হলো মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। তা কোনওভাবে খর্ব করা যায় না। এর পরে আজই ওই এলাকা ফের সোচ্চার হলো প্রতিবাদ আন্দোলনে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও দলিতদের সঙ্গে এদিন প্রতিবাদী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরাও। ছিলেন ছাত্রযুব মহিলারাও।
বিহারেও বি জে পি-জনতা দল (ইউ) সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে জোরালো ‘জেল ভরো’ আন্দোলন হয়েছে বিহারে। রাজ্যের ৩৮টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতে আইন অমান্য হয়েছে। সহর্ষ, দ্বারভাঙা, বেগুসরাই, পূর্ব চম্পারণ, খাগারিয়া, ভাগলপুরের মতো জেলাগুলির স্টেডিয়ামে পুলিশকে ক্যাম্প বসিয়ে গ্রেপ্তার করতে হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। সারা ভারত কৃষকসভার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সি আই টি ইউ এবং খেতমজুর ইউনিয়নের কর্মীরা। বিশষত মিড ডে মিল এবং মেডিক্যাল ও সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউনিয়নের কর্মীরাও আন্দোলনে ছিলেন বড় সংখ্যায়। 
সারা ভারত কৃষকসভার অন্যতম নেতা অবধেশ কুমার জানিয়েছেন, সহর্ষ জেলাকেন্দ্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ৬হাজার বিক্ষোভকারীকে। অন্তত ১৫টি জেলার প্রতিটিতে জমায়েত ছিল কয়েক হাজারের। কয়েকটি জেলায় যোগ দেন অখিল ভারতীয় কৃষক মহাসভার কর্মীরা। বিভিন্ন জায়গায় জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। স্তব্ধ হয়ে পড়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জনতা দল (ইউ)-বি জে পি জোট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিফলিত হয়েছে ক্ষোভ। কখনও বন্যা, আবার খখনও খরায় বিপর্যস্ত বিহারের কৃষিজীবী। বিপর্যয়ের পরও মিলছে না ক্ষতিপূরণ। উৎপাদনের খরচ বাড়ছে সমানে। অথচ সহায়ক মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। কম দামে ফসল বেচতে বাধ্য হচ্ছেন। ২তারিখে বিহার বন্‌ধ করেছিল যৌথভাবে তিন বামপন্থী দল। সি পি আই (এম), সি পি আই এবং সি পি আই (এম এল)-র ডাকে বন্‌ধে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে। ৯ই আগস্টের জমায়েত এদিন উৎসাহ ছড়িয়েছে বাম এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মহলে। অবধেশ কুমার জানিয়েছেন দিল্লিতে ৫ই সেপ্টেম্বরের সমাবেশেও বড় সংখ্যায় শ্রমজীবী মানুষ অংশ নিতে দিল্লি যাবেন।
মধ্য প্রদেশে রাজধানী ভোপাল, ইন্দোর, উজ্জয়িনী, নিমাচ, জব্বলপুর, অনুপপুর, রেওয়া, সিধি, সেহোর, রতলাম, উমারিয়া এবং রাইসেনের মতো অন্তত ৩২টি জেলায় এদিন ‘জেল ভরো’ আন্দোলন সর্বাত্মক হয়েছে। আন্দোলনে জড়িত ২০হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, কোলার, মহীশূর, গুলবর্গা, মান্ড্য, ধারাওয়ার, উত্তরা কানাড়া, যাদগীরের মতো অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক শ্রমজীবী গ্রেপ্তার বরণ করেন। ছত্তিশগড়ের ধমতরী এলাকায় জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে গ্রেপ্তার হন ৩হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারী।
আসামে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনে শ্রমিক-কৃষকের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালিয়েছে বি জে পি সরকারের পুলিশ। পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে শুধু শোনিতপুর জেলাতেই ৬০জনের বেশি আহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে ৫জনের অবস্থা গুরুতর। রাজ্যের একাধিক জায়গায় গায়ের জোরে মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই আসাম পুলিশ ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি রুখতে নানা ধরনের কসরৎ চালিয়েছে। এন আর সি-র খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন থেকে যেসব জেলায় ১৪৪ ধারা বলবৎ করা হয়েছিল, সেসব জেলাগুলিতে আন্দোলনকারীদের মিছিল শুরুতেই আটকে দেবার চেষ্টা হয়। এর মধ্যেই নাছোড়বান্দা শ্রমিক-কৃষকরা পুলিশের বাধা ঠেলে কেন্দ্র ও রাজ্যের বি জে পি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে জেলাশাসকের কার্যালয়ের দিকে ছুটে যান।
শোনিতপুর জেলার তেজপুরে বিশাল মিছিল করে শ্রমিক-কৃষকরা যখন জেলাশাসকের কার্যালয়ের দিকে যখন এগোচ্ছিলেন তখন মিছিলের পথ আগলে দাঁড়ায় পুলিশ। এরপরই শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে ঘায়েল হয়েছেন ৬০জনের বেশি আন্দোলনকারী। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই চা শ্রমিক। পাবলো পাল নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু মহিলা চা শ্রমিকের ওপর নির্মমভাবে লাঠি চালায় পুরুষ পুলিশ। এমনকি মহিলাদের শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
এদিন সকালে ২হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী গুয়াহাটি পানবাজারে জমায়েত হয়ে কামরূপ (মেট্রো) জেলাশাসকের কার্যালয়ের উদ্দেশে মিছিল শুরু করে। কিন্তু মিছিলের শুরুতে পথ আগলে দাঁড়ায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। একাধিক ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল ঘিরে ফেলা হয়। এরপরই আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এখানে গ্রেপ্তার করা হয় সি আই টি ইউ রাজ্য সম্পাদক তপন শর্মা, সারা ভারত কৃষকসভার রাজ্য সম্পাদক টিকেন দাস, জে সি টি ইউ আহ্বায়ক ভবেন কলিতা, ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য সম্পাদক নয়ন ভুঁইয়া, এস এফ আই রাজ্য সভাপতি কাশ্যপ চৌধুরি, এ আই ডি ডব্লু এ-র রাজ্য সম্পাদিকা নিয়তি বর্মণ প্রমুখকে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement