প্রচুর বিস্ফোরকসহ মহারাষ্ট্রে
গ্রেপ্তার তিন উগ্র হিন্দুত্ববাদী

‘গোরক্ষকের’ বাড়িতে বিস্ফোরকের স্তূপ

প্রচুর বিস্ফোরকসহ মহারাষ্ট্রে<br>গ্রেপ্তার তিন উগ্র হিন্দুত্ববাদী
+

মুম্বাই, ১০ই আগস্ট— বিস্ফোরকসহ মহারাষ্ট্রের পালঘর থেকে গ্রেপ্তার হলো উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সনাতন সংস্থার এক সদস্য। বৃহস্পতিবার রাতে নাল্লাসোপারার ভান্ডার আলি এলাকায় বাড়ি থেকেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী বৈভব  রাউতকে গ্রেপ্তার করে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ দমন শাখা (এ টি এস)। বৈভবের বাড়ি এবং দোকানে তল্লাশি অভিযান চালায় তারা। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। তার মধ্যে ছিল দেশি বোমাও। গ্রেপ্তার হয়েছে আরও দুজন— শারদ কালাসকার ও সুধানভ গোন্ধালেকর। শারদ বৈভবের সঙ্গেই গ্রেপ্তার হলেও সুধানভকে এ টি এস পুনে থেকে ধরেছে। এরাও সনাতন সংস্থারই সদস্য। 
বি জে পি বরাবরই দাবি করে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি কোনও সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়। বিরোধীরা অপপ্রচার চালায় এভাবেই। কিন্তু এদিনের ঘটনা ফের প্রমাণ করে দিয়েছে, বি জে পি-র মিথ্যাচার এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সরকারি যোগসাজশ। যুক্তিবাদী সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুনে গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্তও সনাতন সংস্থার সদস্য। একাধিক যুক্তিবাদীকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, তাও সম্প্রতি তদন্তে উঠে এসেছে। 
উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘সনাতন সংস্থা’র গোরক্ষা শাখা ‘হিন্দু গোবংশ রক্ষা সমিতি’-র সক্রিয় কর্মী বৈভব। সনাতন সংস্থার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। গ্রেপ্তারের পর জেরার জন্য পালঘর থেকে তাকে মুম্বাই আনা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ১৮ই আগস্ট পর্যন্ত তাদের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘সনাতন সংস্থা’-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করুক সরকার, দাবি তুলেছে কংগ্রেস। মহারাষ্ট্রের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অশোক চ্যবন অভিযোগ করেছেন, বৈভবের বাড়ি এবং দোকানে প্রচুর বিস্ফোরক মজুত ছিল। এর থেকেই স্পষ্ট হয়, কোনও একটি বড় ছক কষেছিল তারা। নরেন্দ্র দাভোলকর, গোবিন্দ পানসারে, এম এম কালবুর্গি, গৌরী লঙ্কেশ— ধারাবাহিক যুক্তিবাদী হত্যায় নাম জড়িয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির। গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের সদস্যরাও। সনাতন সংস্থা নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিও জানিয়েছে কংগ্রেস। আগামী ২০শে আগস্ট নরেন্দ্র দাভোলকারের পঞ্চম মৃত্যু বার্ষিকী। ওইদিন কোনও একটি হামলার পরিকল্পনা করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা, এমনই মনে করা হচ্ছে। পুণেতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের গুলিতে খুন হয়েছিলেন নরেন্দ্র দাভোলকার। এন সি পি-ও দাবি তুলেছে, ধৃত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 
এ টি এস জানিয়েছে, গত ৭ই আগস্ট তাদের কাছে খবর আসে, পুনে এবং মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করছে কয়েকজন। বৈভব রাউতের নামও ছিল সেই তালিকায়। বিশ্বস্ত সূত্রে এই খবর পেয়ে তার বাড়ি ও দোকানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে ২২টি দেশি বোমা রয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে বোমাগুলি ফাটানো হবে তা জানিয়ে লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার হয়েছে। দেড়শো গ্রাম বিস্ফোরক পাউডার, দুবোতল বিষ, একাধিক ব্যাটারি উদ্ধার করেছে এ টি এস। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি। যুক্তিবাদীদের হত্যা সম্পর্কেও ধৃতদের জেরা করা হবে বলে জানিয়েছে এ টি এস। 
‘হিন্দু জনজাগ্রুতি সমিতি’ (এইচ জি এস), যারাও দেশে পরপর যুক্তিবাদী খুনে অভিযুক্ত, তাদের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বৈভব একজন নির্ভীক গোরক্ষক। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই বিভিন্ন সময়ে যোগ দিয়েছে বৈভব। পরক্ষণেই এই বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা থেকে নিজেদের বাঁচাতে দাবি করা হয়েছে, ‘যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এধরনের অনুষ্ঠানে দেখা যেত না বৈভবকে।’ এই গ্রেপ্তার ‘মালেগাও বিস্ফোরণের দ্বিতীয় পর্যায়’ বলেও মন্তব্য করেছে এই সংস্থা। তাদের দাবি, ২০০৮ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর নাসিকের মালেগাঁওয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় সনাতন সংস্থার নিরীহ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবারও তেমনই করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই সময় নাসিকের মালেগাঁওয়ে মুসলিম প্রধান ভিখু কে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বিস্ফোরণ ঘটনায়। প্রাণ হারান ৬জন, আহত হন ১০১জন নাগরিক।
সনাতন সংস্থা শুক্রবার বৈভবকে তাদের সদস্য হিসাবে মানতে অস্বীকার করলেও সোস্যাল মিডিয়ায় বৈভব নিজেকে পরিচয় দিয়েছে সনাতন সংস্থার সদস্য বলেই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement