ডেঙ্গুর আতঙ্কে রাজ্যে
জারি চারম সতর্কতা

ডেঙ্গুর আতঙ্কে রাজ্যে<br>জারি চারম সতর্কতা
+

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ই আগস্ট —রাজ্যে ফের ডেঙ্গুর আতঙ্ক। মেডিক্যাল কলেজের পাঁচ পড়ুয়ার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু ধরা পড়তে থাকায় কলকাতা কর্পোরেশনকে বিশেষভাবে সতর্ক করল স্বাস্থ্যদপ্তর। কলকাতা কর্পোরেশনের পাশাপাশি শহরতলির পৌরসভাকে ডেঙ্গু দমনে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। 
বর্ষা লাগাতার চলতে থাকায় শহর ও শহরতলির এলাকায় জ্বর দেখা দিচ্ছে। অনেক জায়গাতেই আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় শুক্রবার কলকাতা কর্পোরেশনের পাশাপাশি সাত পৌরসভাকে ‘চরম সতর্ক’ করল স্বাস্থ্যদপ্তর। বাকি চার পৌরসভাকে ‘উদ্বেগজনক’ পরিস্থিতি বলে কী করণীয় তার নির্দেশিকা এদিন পাঠানো হলো। ওই পৌরসভাগুলোর মধ্যে রয়েছে পানিহাটি, ভাটপাড়া, কামারহাটি, উত্তর দমদম, বারাকপুর, বরানগর পৌরসভা। শহর ছাড়িয়ে উত্তর ২৪পরগনার অশোকনগর পৌরসভাকেও ডেঙ্গু রুখতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 
ডেঙ্গু নিয়ে শুক্রবার সাতটি পৌরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী  ফিরহাদ হাকিম।  ডেঙ্গু থেকে সর্তক থাকতে এবার পৌরসভাগুলিকে কিছুটা আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গতবার ডেঙ্গু যখন লাগাতার বেড়েছে তখন জারি করা হয়েছিল ‘রেড অ্যালার্ট’। এবার সেই ‘চরম সতর্কতা’ জারি হলো চলতি মাসেই। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে অবিলম্বে সাত পৌরসভায় জোরালো তেমন কোনও পদক্ষেপ না নিলে ওইসব পৌরসভার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি মতে এখনও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। নিহতের নাম কাসের আলি মোল্লা। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাদুড়িয়ায়। এরপরে স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর না থাকলেও রাজ্যে যে ডেঙ্গু এরই মধ্যে জাঁকিয়ে বসেছে তার প্রমাণ মিলছে অনেক পৌর হাসপাতাল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। এই পরিস্থিতি দেখে স্বাস্থ্যদপ্তর আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলল।
স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, কলকাতায় এখনই পরিস্থিতি মারাত্মক জায়গায় না গেলেও বেলেঘাটা, বাগুইআটি ও মানিকতলায় ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। গত দুই সপ্তাহে জ্বর ও গায়ের ব্যথার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১৫জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রত্যেকের রক্তেই প্লেটলেটের মাত্রা অনেকটা কম। শুধু বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতাল নয়, শহরের অনেক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেই এখন নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে। গত বছর বর্ষা শেষে রাজ্যে ব্যাপক ভয়াল হয়ে দেখা গেছিল ডেঙ্গু। 
২০১৭সালে রাজ্যে কমপক্ষে ১৪ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। মারা গেছিলেন অনেকে। গত বছর ডেঙ্গু কার্যত হাতের বাইরে চলে যাওয়ার জেরে স্বাস্থ্য মহল এবছরের প্রথম থেকে ডেঙ্গু নিয়ে একটা চিন্তায় ছিল। সেই সব হিসাব করেই এদিন আগাম সর্তকতা নেওয়ার কথা জানালো স্বাস্থ্যদপ্তর। এবারে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা স্বাস্থ্য নজরদারি কমিটিকে খামতির এলাকাগুলো নাম জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেইমতোই গত বুধবার পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এদিন স্বাস্থ্যদপ্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করল।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement