বেআইনি অস্ত্র পাচারকারীরা ধৃত

বেআইনি অস্ত্র পাচারকারীরা ধৃত
+

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১০ই আগস্ট — গাড়িতে বেআইনি অস্ত্র নিয়ে শুক্রবার দুপুরে ক্যানিংয়ের মাতলা নদী পার হতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল তিন অস্ত্র পাচারকারী। ক্যানিং থানার সঙ্গে বারুইপুর পুলিশের বিশেষ বাহিনীর তৎপরতায় এদিন ধরা পড়ে গেল তিন দুষ্কৃতী। ধৃতদের নাম আনোয়ার মেহবুব মণ্ডল, রুবেল মণ্ডল এবং গাড়ি চালক ঝণ্টু পাল। ধৃতদের কাছ থেকে ১২টি ওয়ান শর্টার পাইপ গ্যান, ৯টি তাজা কার্তুজ পাওয়া গেছে।  গ্রেপ্তার হওয়া অস্ত্র পাচারকারীরা স্বীকার করেছে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থেকে ওই অস্ত্র নিয়ে আসছিল। ওই অস্ত্রপাচারের কথা ছিল বাসন্তীর কোনও এলাকায়।
ধৃত পাচারকারীদের এদিন আলিপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরেই ধৃতদের নিয়ে ক্যানিং থানা পুলিশ বাসন্তীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঠিক কোথায় তাদের ওই অস্ত্র দেওয়ার কথা ছিল তার সন্ধান শুরু হয়েছে শুক্রবার রাতে। ধৃতদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। সেই ফোনের কলরেকর্ডস থেকে এলাকা ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারী দল।
এদিকে, ক্যানিংয়ের অস্ত্রপাচারে মুর্শিদাবাদের নাম আসার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদেও বৃহস্পতিবার রাতে বিপুল বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। অস্ত্রের পাশাপাশি দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে এসে আলেমুল শেখ ও ওয়াহিদ মোমিন নামে দুই অস্ত্র কারবারি গ্রেপ্তার হয়। ধৃতদের কাছ থেকে ৭টি পিস্তল, ৩টি ওয়ান শটার, ১০রাউন্ড গুলিসহ ১৪টি ম্যাগজিন উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা মালদহের কালিয়াচকের এক বেআইনি অস্ত্র কারখানা থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্র এনেছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। 
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় দিন দিন বেআইনি অস্ত্রের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর জেরেই সাফল্য মিলেছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরে অপেক্ষা করছিল পুলিশের দল। বাস থেকে নামতেই গ্রেপ্তার করা হয় আলেমুল শেখ ও ওয়াহিদ মোমিনকে। লাইলনের ব্যাগের মধ্যে গামছায় মুড়ে আনা হচ্ছিল ওই অস্ত্রগুলো। তবে ধৃতরা শুধুই অস্ত্রবাহক বলে মনে করছেন পুলিশদল। এক একটি অস্ত্রপাচার পিছু তাদের এক হাজার টাকা করে দেওয়া হতো বলে ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে।
ধৃতরা জানিয়েছে ওই অস্ত্রশস্ত্র মালদহে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মালদহের ওই ব্যবসায়ীর খোঁজখবর শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের দাবি মুর্শিদাবাদে যেখানে যেখানে ওই অস্ত্র সরবরাহ করা হতো তাদের কয়েকটি ডেরার সন্ধান মিলেছে। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় দেদার অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সঙ্গে বিহারের মুঙ্গের থেকে অস্ত্র ঢুকছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। মুর্শিদাবাদে উগ্রপন্থী জে এম বি-র প্রভাব বাড়ার পিছনেও এই বেআইনি অস্ত্র ঢোকার সম্পর্ক আছে বলে মনে করছে জেলা পুলিশ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement