ভরসা এখন লন্ডনের পূর্বাভাস

ভরসা এখন লন্ডনের পূর্বাভাস
+

 
লন্ডন, ১১ই আগস্ট — আলোচনা চলছে। লর্ডস টেস্টে ইনিংসে হারবে না তো ভারত? সম্ভাবনা যেন তেমনই। বৃষ্টির জন্য টেস্টের প্রথম দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়। দর্শকদের মধ্যে আপশোস, একটা দিন নষ্ট হওয়ায়। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রার্থনা বৃষ্টিরই। লন্ডনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, রবি এবং সোমবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইংল্যান্ড সফরের আগে আত্মবিশ্বাসের কোনও অভাব ছিল না ভারতীয় দলে। বাস্তবায়ন হলো না। বার্মিংহামে সিরিজের প্রথম টেস্টে হার। প্রত্যাবর্তনের কথা বললেও পারফরম্যান্সে ছাপ নেই তার। দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংসে হারের ভ্রুকুটি ভারতীয় দলের সামনে।
মেঘলা আবহাওয়া, বৃষ্টি, আর্দ্র পিচ এবং জেমস অ্যান্ডারসন। দ্বিতীয় দিন মাত্র ৩৫.২ ওভার খেলা হয়। এটুকু সময়েই শেষ ভারতের ইনিংস। মাত্র ১০৭ রানে। ম্যাচের তৃতীয় দিন মন্দ আলোয় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে খেলা হলো ৮১ ওভার। দিনের শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৩৫৭/৬। ইতিমধ্যেই এগিয়ে ২৫০ রানে। হাতে এখনও ৪ উইকেট।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর ভুবনেশ্বর কুমারের অনুপস্থিতি যেন আরও বেশি করে চোখে পড়ছে। নতুন বলে ভয়ংকর স্পেল চোখে পড়ল না ভারতীয় আক্রমণে। রোদ ঝলমলে আবহাওয়ায় ঘরের মাঠে সমর্থকদের স্বস্তি দিলেন ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। 
ভারতকে ব্রেক থ্রু দিলেন মহম্মদ সামি। কিটন জেনিংসকে লেগ বিফোর আউট করেন তিনি। পরের ওভারেই অভিজ্ঞ ওপেনার অ্যালেস্টার কুককে ফেরালেন ঈশান্ত শর্মা। কোনও সময়ই ভারতের পেসারদের সামনে বিব্রত দেখায়নি ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের। কিছু সময়ের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরলেন অভিষেককারী ওলি পপ (১৯) এবং অধিনায়ক জো রুট। মধ্যাহ্নভোজের আগের মুহূর্তে রুটের উইকেট ভারতীয় শিবিরে বাড়তি অক্সিজেন আমদানি করেছিল। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৮৯। ভারতীয় দলনায়ক বিরাট কোহলির উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। হয়তো আশা করেছিলেন, ম্যাচে ফেরা যাবে। মধ্যাহ্নভোজের পর সামির তৃতীয় শিকার জোস বাটলার (২৪)। এই অবধি সব ঠিক ছিল। ভারতের সমস্ত আশায় জল ঢেলে দিলেন জনি বেয়ারস্টো এবং ক্রিস ওকস।
চোটের জন্য প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। ফিরেই বেন স্টোকসের অনুপস্থিতি ঢেকে দিলেন। বোলিংয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। এদিন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতরান করলেন ওকস। বেয়ারস্টোর সঙ্গে তাঁর ১৯৯ রানের জুটি ভারতের হাত থেকে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি ছিনিয়ে নেয়। অল্পের জন্য শতরান হাতছাড়া হলো উইকেটরক্ষক বেয়ারস্টোর। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। ক্রিস ওকসকে টলানো যায়নি। পেস হোক কিংবা স্পিন, দারুণভাবে সামলালেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড ব্যাটিংয়ে ত্রাস ছিলেন ভারতের বাঁ হাতি স্পিনার কুলদীপ যাদব। অভিজ্ঞ অশ্বিন কিংবা কুলদীপ, স্বচ্ছন্দে ব্যাট করলেন অলরাউন্ডার ওকস। দিনের শেষে ১২০ রানে অপরাজিত তিনি। দ্বিতীয় দিনের তুলনায় পিচও ব্যাটসম্যানদের সহায়ক হয়ে উঠেছে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফল মহম্মদ সামি। তিন উইকেট নিলেন এই পেসার।
রবিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন ইংল্যান্ডকে দ্রুত আউট করলেও ইনিংসে হারের ভ্রুকুটি থাকছেই। গত তিন ইনিংসে ভারতের সর্বোচ্চ রান ২৭৪। কোহলির ইতিবাচক ভাবনায় বাধা দিচ্ছে এই পরিসংখ্যানই।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement