ইঞ্জেকশন নিয়ে এশিয়াডে
দ্রাবিড়ের ছাত্রী স্বপ্না

ইঞ্জেকশন নিয়ে এশিয়াডে<br>দ্রাবিড়ের ছাত্রী স্বপ্না
+

অরিত্র বসু: কলকাতা, ১১ই আগস্ট— ২০০৫ সালের কোটলা টেস্ট। রাহুল দ্রাবিড় নেতৃত্বে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের আগে সংক্রমণে ভুগছিলেন ভারত অধিনায়ক। কড়া অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েই ম্যাচ খেলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান। ভারত শেষমেশ ১৮৮ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারায়। প্রায় ১৩ বছর পর তাঁরই ছাত্রী আরও বড় মঞ্চে নামতে চলেছেন। তাঁর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতিতে। লড়াই জিতেই ফিরতে চান অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ।
গো স্পোর্টস ফাউন্ডেশন থেকে ক্রীড়া ভাতা পাওয়া স্বপ্নার কাছে অর্থসাহায্যের চেয়েও বড় পাওনা দ্রাবিড় স্যারকে সামনে পাওয়া। প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ক্লাসে মাঝেমধ্যেই প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের সান্নিধ্য পান স্বপ্নারা। তাঁর এই লড়াই দ্রাবিড়ের কোটলার সংক্রমণ নিয়ে মাঠে নামার থেকে অনেক কঠিন। লিগামেন্টে আগেই চোট ছিল। তা প্রায় কাটিয়ে উঠেছেন। শনিবার রাতে জানালেন, ‘চোট প্রায় ৯৫ শতাংশ সেরে গিয়েছে। ও সব নিয়ে ভাবছিই না একদম। তবে দীর্ঘদিন ট্র্যাকের বাইরে ছিলাম। এই দিকটাই একটু নার্ভাস করে দিচ্ছে। আন্তঃরাজ্য ইভেন্টে অংশগ্রহণের পর সরাসরি এশিয়ান গেমসেই নামছি। হাঁটুর সমস্যার জন্য আজই মুম্বাইতে চিকিৎসককে দেখিয়ে ফিরেছি। হাড়ে ইঞ্জেকশন পর্যন্ত নিতে হয়েছে। সব সহ্য করে নিয়েছি শুধু এই একটা স্বপ্নের জন্যই। এশিয়ান গেমস। কতদিন ধরে অপেক্ষা করেছিলাম এই ইভেন্টটার জন্য। দেশকে পদক এনে দেওয়ার জন্য সব করতে পারি।’
তাঁর চোট নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত বছর ভুবনেশ্বর এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী আশ্বস্ত করলেন, ‘এতে ভয়ের কিছু নেই। চোট সব অ্যাথলিটের জীবনের অঙ্গ। বাংলার মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। এভাবেই আমার পাশে থাকুক সবাই। ঠিক ভালো ফল করব।’ এত ঝড়-ঝাপটা বয়ে গিয়েছে। তবু বাড়িতে তার বিন্দুমাত্র আঁচ পেতে দেননি। স্বপ্নার মতে, ‘বাড়িতে চোটের কথা জানাইনি। অযথা চিন্তা করবে। খবরের কাগজওয়ালা অত বেশি যায় না বাড়ির দিকে। তাই বুঝতে পারেনি। আজই বাবা বলছিলেন : তোর গলাটা এরকম শোনাচ্ছে! কিছু হয়েছে? কী লুকোচ্ছিস? আমি বাবাকে বলেছি, ঘুম থেকে উঠেছি বলে গলা ভারী। কিছু একটা আন্দাজ করেছেন।’ ২৮ ও ২৯শে আগস্ট এশিয়ান গেমসে ইভেন্টে নামবেন স্বপ্না। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চলা বাকি অ্যাথলিটদের সঙ্গে আপাতত পাতিয়ালায় রয়েছেন। ২৩ তারিখ কোচের সঙ্গে জাকার্তায় উড়ে যাবেন। হেপ্টাথলনের সাতটি ইভেন্টেই অংশ নিচ্ছেন বাংলার ২২ বছরের উঠতি অ্যাথলিট।

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement