বড় জয়ে লালহলুদে রংধনু

ইস্টবেঙ্গল ৩ (জবি ২, ডানমাওইয়া) – পাঠচক্র ০

বড় জয়ে লালহলুদে রংধনু
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৪ই আগস্ট— আকাশে সাতরং। রামধনু। মাঠে শুধুই লালহলুদ।
ভয় একটাই। গোল হবে? আবার আটকে যাবে না তো? গোলও হলো। জয়ও এলো। তারচেয়েও বড় কথা, দর্শনীয় ফুটবল। ইস্টবেঙ্গল খেললো ইস্টবেঙ্গলের মতোই। প্রথম মিনিট থেকে শেষ মুহূর্ত অবধি।
জবির গোলটা ১৫ মিনিটে। এরই অপেক্ষা ছিল। জার্সির লালহলুদ রং আরও উজ্জ্বল। আকাশেও তখন বিষ্ময়ের শেষ নেই। প্রকৃতি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। সকাল থেকে দফায় দফায় হঠাৎ বৃষ্টি। কখনও রোদ্দুর। ইস্টবেঙ্গল ১ গোলে এগনোর পরই আকাশে রামধনু। সাতরঙা। মনোরম। একটা সময় কালো মেঘে ঢাকা পড়ল। ইস্টবেঙ্গলে এমন কিছু হয়নি। দলে ফিরেই জোড়া গোল জবি জাস্টিনের। আরেকটি ডানমাওইয়ার। তিন গোলে পাঠচক্রকে ‘পাঠ’ শেখালো লালহলুদ।
তিনটি পরিবর্তন, পালটে দিল ইস্টবেঙ্গলের খেলা। শুরু থেকেই আল আমনা। মাঝমাঠে খেললেন রাজার মতো, ক্লান্তিহীন। সংক্রমণের জন্য হাসপাতালে ছিলেন জবি জাস্টিন। সুস্থ হয়ে দুদিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন। ম্যাচে ফিরেই নায়ক জবি। ম্যাচের ১৫ মিনিটে চুলোভার সেন্টারে অনবদ্য হেডে গোল। প্রথমার্ধজুড়ে শুধুই ইস্টবেঙ্গলের দাপট। দ্বিতীয় গোল ৪০ মিনিটে। এবারও ভূমিকায় সেই জবি। পেনাল্টি বক্সে জবির সাইডভলি হাতে লাগে মনোতোষ চাকলাদারের। পেনাল্টি থেকে ২-০ ডানমাওইয়ার।
দ্বিতীয়ার্ধে আকাশের রং বদলালো। আলো কমল। লালহলুদের রং অবশ্য ফিকে হয়নি। আমনা, ডানমাওইয়ারা অল্পের জন্য গোল পেলেন না। তৃতীয় গোল ৭৯ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে আল আমনার সেন্টার। ডানপ্রান্তে বল ধরে ছোট টোকায় জবিকে বল বাড়ালেন ডানমাওইয়া। গোল না করাই যেন অপরাধ। জবি অপরাধী হননি। পুরো সময় মাঠে থাকলে হয়তো হ্যাটট্রিকও হয়ে যেত। পরিবর্তে মাঠে নামেন গত ম্যাচের ‘খলনায়ক’ বালি গগনদীপ। এদিনও গোল পেলেন না। ম্যাচের শেষ দিকে বিদ্যাসাগরের সেন্টারে বালির হেড। পাঠচক্র গোলরক্ষক অরিন্দম ঘোষের হাতে লেগে বারপোস্টে আটকে গেল।
লিগের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল টিডি বলে আসছিলেন আমনাকে বিশ্রাম দিতে চান। গত ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট পরিস্থিতি পালটেছে। কর্তাদের চাপ। সঙ্গে ডিকার চোট। আমনা খেললেন, দলকে খেলালেন নেতার মতো। স্বস্তি দিলেন ইস্টবেঙ্গলকে। প্রমাণ করলেন তিনিই দলের হৃদপিণ্ড। সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ বাস্তব রায় অবশ্য দলগত জয় বললেন। সেটা স্বাভাবিকও। ‘এটা টিম গেমের জয়। ডিকার চোট ছিলো। তাই শুরু থেকে আমনা। তিন গোলে জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে’ বলছেন বাস্তব। বাস্তব রায় যাই বলুন। লিগে এই প্রথম ইস্টবেঙ্গলকে চেনা লাগল। সেটা আমনার জন্যই। এটাই ‘বাস্তব’।
হাসপাতাল থেকে মাঠে ফিরলেন জবি। যেন মাঠে ফেরালেন ইস্টবেঙ্গলকে। নিজের রাজ্য কেরালা ভাসছে বন্যায়। জবির মন খারাপ। জানালেন বন্যা দুর্গতদের সাহায্য করেছেন। ম্যাচ প্রসঙ্গে বলছেন ‘দলের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নিয়েছি। গোল করাই আমার কাজ। বিদেশি স্ট্রাইকার এলে, তাঁর সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতাও চলবে। এ জয় দলের জয়।’
লিগে দুই শক্তিশালী দল মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলেছে পাঠচক্র। দুই প্রধানের মধ্যে কার বিরুদ্ধে খেলা সবচেয়ে কঠিন ছিল। প্রশ্ন শুনে মুহূর্তের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের নাম বললেন পাঠচক্রের কোচ রেমকো বোয়েরে। এদিনের হারে, নিজের দলের মাঝমাঠকেই মূলত দায়ী করলেন পাঠচক্র কোচ।
ইস্টবেঙ্গল এবারের আই এস এলে খেলতে পারবে না। চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে ফেডারেশন। ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা জানালেন, অক্টোবর-নভেম্বরে পরের আই এস এলের জন্য টেন্ডার ডাকা হবে। ইস্টবেঙ্গল তখন অংশ নেবে। জনি অ্যাকোস্টা পরের দিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করবেন।
ইস্টবেঙ্গল : রক্ষিত, সামাদ, মেহতাব, কিংশুক, চুলোভা, ডানমাওইয়া, কমলপ্রীত, কাশিম, আমনা (সঞ্চয়ন), ব্রেন্ডন (বিদ্যাসাগর), জবি (গগনদীপ)

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement