একসঙ্গে ভোটের ‘আইনি কাঠামো’
এখনই নেই, জানাচ্ছে কমিশন

একসঙ্গে ভোটের ‘আইনি কাঠামো’<br>এখনই নেই, জানাচ্ছে কমিশন
+

নয়াদিল্লি, ১৪ই আগস্ট— লোকসভা ভোটের সঙ্গেই রাজ্য বিধানসভার ভোট করানোর যে প্রস্তাব কেন্দ্রের শাসক দলের পক্ষ থেকে ছোঁড়া হচ্ছে, তাতে এখনই রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। ‘আইনি কাঠামো’ ছাড়া তা অসম্ভব বলেই মঙ্গলবার জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও পি রাওয়াত। রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ বৃদ্ধি বা ছাঁটাই করতে সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন। 
একসঙ্গে ভোটের প্রস্তাব আসছে একাধিক দিক থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘এক দেশ এক ভোট’ তত্ত্ব সামনে এনে সওয়াল করেছেন। আইন কমিশন এই বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মতামত চেয়েছে। এখনও পর্যন্ত কয়েকটি দল দিলেও সকলে দেয়নি। বি জে পি সভাপতি সদ্যই দলের মতামত জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। জানা গেছে, তাতে তিনি বলেছেন, কোষাগারের খরচ কমবে। ভারতে গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত। সভার মেয়াদও নির্দিষ্ট থাকা উচিত যাতে জনপ্রতিনিধিরা পুরো মেয়াদ কাজ করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে আইন কমিশনকে দিয়ে এই বিতর্কের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এই বিতর্ককে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। 
এইসঙ্গেই প্রায় দশটি রাজ্যে ভোট এগিয়ে-পিছিয়ে ২০১৯-র লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে করার পরিকল্পনা করছে বি জে পি— এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। এর মধ্যে মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়ে ভোট পিছোতে চাইছে বি জে পি। এই তিন রাজ্যেই এই বছরে ভোট। তিন রাজ্যেই বি জে পি সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। একের পর এক উপনির্বাচনে বি জে পি হেরেছে। সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় এই তিন রাজ্যেই বি জে পি হারবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বি জে পি চাইছে বিধানসভার মেয়াদ ফুরোলে এই তিন রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে। আগামী লোকসভা পর্যন্ত যদি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা যায় তাহলে লোকসভা ভোটের সঙ্গেই ভোট করা যাবে। অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং ওডিশায় লোকসভা নির্বাচনের সময়েই ভোট হবার কথা। হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্রে সরকার বি জে পি-র। এই তিন রাজ্যে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে রাজ্যের মন্ত্রিসভাই। 
নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার এখনই বিধানসভা-লোকসভা ভোট করার সম্ভাবনা নস্যাৎ করেছে। তবে কোনোদিনই হবে না, এমন কথা বলেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও পি রাওয়াত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ বাড়াতে-কমাতে গেলে সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন। এক দেশ এক ভোটের ব্যাপারে কমিশন ২০১৫সালেই মত দিয়েছিল। পরিকাঠামোগত অসুবিধাও রয়েছে। ১০০শতাংশ ভি ভি প্যাট পাওয়া কঠিন হবে। অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ও ভোটকর্মীও প্রয়োজন হবে। তবে, গত ১৬ই মে আইন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল একসঙ্গে ভোট করা সম্ভব। তা করতে গেলে ১২লক্ষ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র লাগবে। তার জন্য প্রায় ৪৫০০কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বস্তুত এখনই সম্ভব না হলেও একসঙ্গে ভোটের পক্ষে নীতিগত সম্মতি রয়েছে কমিশনের। 
এদিকে, তিন-চার রাজ্যে ভোট এগিয়ে আনা ও একসঙ্গে ভোটের প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসনেতা অশোক গেহলট বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীই বরং লোকসভা ভেঙে দিয়ে এখনই লোকসভা নির্বাচন করুন। বোঝা যাবে তাঁর তাকত কতটা। 
কংগ্রেস বলেছে, অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই একসঙ্গে ভোট করার ব্যাপারে সরকার কোনও আলোচনা করেনি। চার রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ ফুরোনোর পরে ভোট না হলে আদালতে যাওয়া হবে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement