বোলারদের দাপটে
জয়ের গন্ধ পাচ্ছে ভারত

বোলারদের দাপটে<br>জয়ের গন্ধ পাচ্ছে ভারত
+

সন্দীপন ব্যানার্জি, নটিংহ্যাম, ১৯শে আগস্ট— বল নড়ল। উইকেট পড়ল।
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের দ্বিতীয় দিন সব মিলিয়ে ১৬ উইকেট। ১৫টিই পেসারদের দখলে। ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ ৩২৯ রানে। জবাবে ইংল্যান্ড ‘এক সেশনে’ অলআউট ১৬১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের শেষ ভারতের স্কোর ১২৪/২। ওকসের বলে ধাওয়ানের ক্যাচ ফেললেন কুক। ৩৪ রানে ব্যাট করছিলেন। আউট হন ৪৪ রানে। দিনের শেষে পূজারা ৩৩ এবং কোহলি ৮ রানে অপরাজিত। ভারত সবমিলিয়ে ২৯২ রানে এগিয়ে।
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ভারতের ছাপ। পার্থক্য একটাই। মিডল অর্ডারে কোহলি-রাহানে জুটির মতো কেউ হাল ধরতে পারেনি। 
ইংল্যান্ডের ভেন্যুগুলোর মধ্যে ট্রেন্ট ব্রিজ আলাদা। নতুন বলে রান ওঠে। আবার পুরানো বলেও সুইং হয়। বৃষ্টি এবং মেঘলা আবহাওয়ায় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। খুব বেশিক্ষণ ব্যাট করতে পারেনি। ঋষভ পন্থ (২৪) এদিন ২ রান যোগ করেই সাজঘরে। অশ্বিন করলেন ১৪। সিরিজের সবথেকে ভালো ব্যাটিং উইকেট ভারতকে ৩২৯ রানে আটকে দেওয়া নিঃসন্দেহে ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক দিক। আগের দিন তাদের ব্যাকফুটে মনে হলেও, ৫৪ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ বলে দিচ্ছিল, ভালো ভাবেই প্রত্যাবর্তন করছে ইংল্যান্ড। বেশকিছু ক্যাচও মিস করল ভারত। মধ্যাহ্নভোজের পর ঈশান্ত-বুমরার স্পেল ম্যাচে ফেরালো ভারতকে। শুরুর দিকে রান বিলিয়েছিলেন ভারতীয় দলের পেসাররা। মধ্যাহ্নভোজের পর খানিকটা যেন পরিকল্পনায় বদল আনেন। অযথা শর্ট কিংবা ওভার পিচ না করে খানিকটা গুডলেংথ স্পটে লাগাতার বোলিংয়ের চেষ্টা। ব্যাটসম্যানকে খেলতে বাধ্য করানো। মাঝে মাঝে বাউন্সার। সাফল্যও এল। ঈশান্ত-বুমরার পথে হার্দিক পান্ডিয়াও। বল হাতে টেস্ট কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স। ৬ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন তিনি। পান্ডিয়া আলাদা কিছু চেষ্টা করেছে তা নয়। শুধুমাত্র ধারাবাহিকভাবে নিজের পরিকল্পিত জায়গায় বল রেখেছে। পরিবেশ, পরিস্থিতি বাকি কাজটুকু সহজ করে দিয়েছে।
ভারতীয় শিবিরে অস্বস্তি এনেছিল বাটলার-অ্যান্ডারসন জুটি। মনে হচ্ছিল, ছত্রভঙ্গ হতে পারে ভারতীয় বোলিং। ৪ বছর আগে এই মাঠেই দশম উইকেটে ১৯৮ রান যেগ করেছিলেন জো রুট এবং জেমস অ্যান্ডারসন। রুট শতরান এবং অ্যান্ডারসন ৮১ করেছিলেন। বাটলার আক্রমণাত্মক কিছু শট খেললেও ভারতীয় পেসাররা ২০১৪’র স্মৃতি ফিরতে দেয়নি।
ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জো রুটের আউট অবশ্য দ্বিমত রয়েছে। হার্দিকের বলে স্লিপে ক্যাচ নেন লোকেশ রাহুল। বল মাটিতে পড়ে রাহুলের হাতে জমা পড়েছে কিনা এই নিয়ে সন্দেহ ছিল। মাঠের আম্পায়ার এরাসমাস তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলেও সফট সিগন্যালে আউট দেখান। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেন তৃতীয় আম্পায়ারও। দর্শকরা বড় স্ক্রিনে ক্যাচের রিপ্লে দেখে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে বিদ্রুপ করেন। জো রুটও মাথা নাড়তে নাড়তে মাঠ ছাড়েন। অনেকেই বলছেন, সফট সিগন্যাল বিষয়টি তুলে দেওয়া হোক। নাসের হুসেন যেমন বলছিলেন, সফট সিগনাল নট আউট থাকলে, তৃতীয় আম্পায়ারও হয়তো আউট দিতেন না।
টেস্ট সিরিজের শুরু থেকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আত্মসমর্পণ পরিচিত চিত্র ছিল। কোচ শাস্ত্রী এবং অধিনায়ক কোহলি বারবার বলেছেন পরিস্থিতি দুদলের জন্যই শক্ত। বল নড়লে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরাও চাপে পড়তে পারে সেটা বোঝা গেল। পরিবেশ পরিস্থিতি কিংবা পিচই শুধু এর জন্য দায়ী তা নয়। ইংল্যান্ড এবং ভারত দুদলের ক্রিকেটাররাই সারা বছর এত বেশি সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলেন যে লাল লাল বলের বাড়তি সুইংয়ে চাপ। ইংল্যান্ড দলে অ্যালেস্টার কুক ছাড়া বাকি কাউকেই তথাকথিত টেস্ট বিশেষজ্ঞ বলা যায় না।
ট্রেন্ট ব্রিজ শুরু থেকে ইংল্যান্ড শিবিরের বেন স্টোকসকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তিনি নায়ক। ছন্দে থাকা স্যাম কারানকে বাদ দিলেও কেউ হতাশ হননি। প্রবল প্রত্যাশা ছিল স্টোকসকে নিয়ে। প্রথম ইনিংসে ব্যাটে-বলে ব্যর্থ। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর প্রাপ্তি লোকেশ রাহুলের উইকেট।
ট্রেন্ট ব্রিজে ভারতের প্রাপ্তির ভাড়ারে যোগ হল ঋষভ পন্থ। ব্যাট হাতে ২৪ রান। প্রথম ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ। সবচেয়ে কমবয়সি উইকেটরক্ষক হিসাবে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন। এর মধ্যে দুটি ক্যাচ অনবদ্য। যদিও এক ইনিংস দিয়েই ঋষভকে মূল্যায়নে রাজি নন কেউই। এখনো অনেকটা রাস্তা বাকি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement