হকিতে সতেরো
গোল মনদীপদের

হকিতে সতেরো<br>গোল মনদীপদের
+

জাকার্তা, ২০শে আগস্ট— এশিয়ান গেমস পুরুষদের হকিতে রেকর্ড গড়ল ভারত। আয়োজক ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-০ গোলে উড়িয়ে দিল তারা। পুল ‘এ’-র ম্যাচে দেশের হয়ে তিনজন হ্যাটট্রিকই করেন। দিলপ্রীত সিং ৬, ২৯ ও ৩২ মিনিটে গোল করেন। সিমরনজিৎ সিং তাঁর গোল তিনটি পান ১৩, ৩৮ ও ৫৩ মিনিটে। যথাক্রমে ২৯, ৪৪ ও ৪৯ মিনিটে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সারেন মনদীপ সিং। এছাড়া রুপিন্দর পাল সিং, আকাশদীপ সিংরা দু’টি করে গোল পান। বাকি গোলগুলি করেন এস ভি সুনীল, বিবেক সাগর, হরমনপ্রীত সিং ও অমিত রোহিদাস। এটিই এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। ১৯৭৮ এশিয়ান গেমসে পাকিস্তান বাংলাদেশকে ১৩-০ ফলে হারিয়েছিল। ভারতের সোমবারের সতেরো গোল সেই ইতিহাস ছাপিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করল।
বিশ্ব ক্রমতালিকায় পাঁচ নম্বরে থাকা ভারত এদিন যে ইন্দোনেশিয়াকে গুঁড়িয়ে দেবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। আয়োজক না হলে এশিয়ান গেমস হকিতে খোলার সুযোগও পেত না ইন্দোনেশিয়া। প্রথম থেকে শেষ হুটার পর্যন্ত গোলের উৎসব চলল। ভারতীয় খেলোয়াড়রা মোট ৪০টি শট গোলে রাখেন। যার মধ্যে ১৭টি গোলে রূপান্তরিত করেন দিলপ্রীত, মনদীপরা। ভারত ১০টি ফিল্ড গোল করে। ছ’টি গোল আসে পেনাল্টি কর্নার থেকে। একটি স্পট গোল। বুধবার হংকংয়ের বিরুদ্ধে নামবে ভারতীয় হকি দল।
এশিয়াডের দ্বিতীয় দিন ভারতের কাছে প্রথম দিনের চেয়েও ভালো গেল। বিকেলের পর ভিনেশ ফোগটের সোনা জয়ের আগেই দুটি পদক চলে এসেছিল। দুটিই শুটিংয়ে। দুটিই রুপো। প্রথমে দীপক কুমার রুপো জিতলেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে। তারপর পুরুষদের ট্র্যাপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন লক্ষয় শেরাওন। নিজের অষ্টাদশ শটের আগে অবধিও পদকের আশপাশে ছিলেন না দীপক। পরের শটে পারফেক্ট স্কোর করে রুপো জেতেন। এর আগে কোনও বড় প্রতিযোগিতার ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক জেতেননি দীপক। লক্ষয় ৪৫ পয়েন্টের মধ্যে ৩৯ স্কোর করে পোডিয়ামে দ্বিতীয় স্থান পান।
এদিকে, ভারতীয় পুরুষ কবাডি দল সবাইকে অবাক করে হার মানে। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সোনা ছাড়া কোনওদিন রুপোও জেতেনি তারা। সোমবার রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে হারে ভারত। গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে জাংকুন লি-র দক্ষিণ কোরিয়া ২৪-২৩ পয়েন্টে হারায় ভারতকে। ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও দল এশিয়াডে ভারতকে পরাজিত করল। ভারতকে হারাতে বড় ভূমিকা নিলেন ‘ঘরের ছেলে’ জাংকুন লি। প্রো কবাডি লিগে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলেন জাংকুন। প্রো কবাডি-তে ‘বাবুমশাই’ নামেই পরিচিত তিনি। মঙ্গলবার শেষ গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবে ভারত।
এদিন ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ ছিল কুস্তিগির সাক্ষী মালিকের সামনে। তিনি জিতলে আরও একটি পদক আসতে পারত। তাঁর মতোই ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে হারেন পূজা ধান্দা ও সুমিত মালিক। এদিন দলগত ব্যাডমিন্টনে ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা— দুদলই হার মানে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement