গণশক্তি বিলির কাজেই
হৃদরোগে মৃত সর্বক্ষণের কর্মী

গণশক্তি বিলির কাজেই<br>হৃদরোগে মৃত সর্বক্ষণের কর্মী
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: বহরমপুর, ২০শে আগস্ট— প্রতিদিনের মতো সোমবারও কাকভোরেই চলে এসেছিলেন গণশক্তি পত্রিকা বিলির কাজে। কিন্তু আচমকাই গুরুতর অসুস্থ বোধ করেন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেন সি পি আই (এম) কর্মীরা। কিন্তু চিকিৎসার সুযোগটুকুও না দিয়ে চলে গেলেন কমরেড সমীর গুপ্ত। তিরিশ বছর ধরে নিরলসভাবে প্রতিদিনের গণশক্তি পত্রিকা পৌঁছানোর অক্লান্ত সৈনিক, পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী কমরেড সমীর গুপ্তের জীবনাবসান ঘটল ৬৯বছর বয়সে।
এদিনও ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয়ে বহরমপুরের মোহনা বাসস্ট্যান্ড থেকে গণশক্তি পত্রিকা নিতে আসেন। আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ বোধ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা এক পার্টিকর্মী তাঁকে সি পি আই (এম) জেলা দপ্তরে নিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গেই জেলা দপ্তরের কর্মীরা তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, পুত্রবধূ বর্তমান। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন গণশক্তির সম্পাদক অভীক দত্ত।
দীর্ঘ তিন দশক পাঠকের হাতে গণশক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজে তিনি ছিলেন নিরলস, অবিচল। পার্টির সভা, সমাবেশ, মিছিলে নিয়মিত হাজির থাকতেন গণশক্তি, দেশহিতৈষী, মার্ক্সবাদী পথ নিয়েই। পত্রিকা বিলির সাথেই গ্রাহকদের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্কও গড়ে তুলেছিলেন। এদিন সকাল সাড়ে দশটা পর্যন্ত পার্টির জেলাদপ্তর সত্য চন্দ্র ভবনে শায়িত ছিল কমরেড সমীর গুপ্ত’র মরদেহ। এখানেই তাঁর মরদেহে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান সি পি আই (এম) মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, পার্টিনেতা শেখর সাহা, সচ্চিদানন্দ কান্ডারি, তুষার দে, তিমির ঘোষ, শ্বেতা চন্দ্র, মুজফ্‌ফর হোসেন, সুলেখা চৌধুরি, রঘু নন্দী, দুলাল দত্ত, গণশক্তি দপ্তরের পক্ষে দেবাশিস ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য পার্টিকর্মীরা।
১৯৮৮সালে সি পি আই (এম)-র সদস্যপদ অর্জন করেন কমরেড সমীর গুপ্ত। ২০১০সাল থেকে ২০১৭সাল পর্যন্ত তিনি পার্টির গোরাবাজার লোকাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১৭সালে সি পি আই (এম) বহরমপুর শহর এরিয়া কমিটি গঠিত হলে তিনি এরিয়া কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১১সালে তিনি সি পি আই (এম)-র সর্বক্ষণের কর্মী হন। কমরেড সমীর গুপ্ত পার্টি, গণশক্তি পত্রিকা বিলি-বণ্টনের কাজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সৃষ্টি’র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বহরমপুর জে এন আকাদেমির পরিচালন সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। গোরাবাজার ঈশ্বরচন্দ্র ইনস্টিটিউশন স্কুলে পড়াশোনার শেষে কৃষ্ণনাথ কলেজে ভর্তি হন। বিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে তিনি পারিবারিক প্রেসের সাথে যুক্ত হন। আটের দশকের শেষদিকে তিনি গণশক্তি পত্রিকাকে মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেন।
এদিন প্রয়াত কমরেডের মরদেহে মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান জেলার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, কর্মীরা। এদিন সাড়ে দশটার সময় অর্ধনমিত রক্তপতাকা নিয়ে মরদেহবাহী শোক মিছিল সি পি আই (এম)-র গোরাবাজার দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পার্টি দপ্তর হয়ে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন এলাকার মানুষ। এরপর গোরাবাজার শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এদিন পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির পক্ষে প্রয়াত কমরেডের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পার্টির জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য বলেন, কমরেড সমীর গুপ্ত’র প্রয়াণ এক বড় ক্ষতি। পার্টির কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও পরিশ্রম সবার কাছে অনুপ্রেরণার।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement