অতিরিক্তি ভার বইছে বিদ্যাসাগর সেতু
ট্রাকের জট কমাতে টোল ছাড় বাইককে

অতিরিক্তি ভার বইছে বিদ্যাসাগর সেতু<br> ট্রাকের জট কমাতে টোল ছাড় বাইককে
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৩ই সেপ্টেম্বর— ঝুঁকির মুখে বিদ্যাসাগর সেতুও। তাই পণ্যবাহী ট্রাকের গতি মসৃণ করতে বাইকের ওপর টোল তুলছে রাজ্য। 

বিদ্যাসাগর সেতুতে এখন ৫ টাকা করে টোল দিতে হয় দুচাকার যানকে। এবার বাইক আরোহীদের আর দিতে হবে না সেই টাকা। টোল প্লাজা দিয়ে সটান চলে যেতে পারবে। বাইকের ভিড়ে জট পাকাবে না ট্রাক। বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘টু হুইলারদের প্রতিটি যাতায়াতে ৫ টাকা করে টোল ট্যাক্স নেওয়া হতো। সেটা আমরা ছাড় দিচ্ছি।’ 
কেন এই ছাড়?
মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ‘টোল ট্যাক্স দেওয়ার জন্য বাইককে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। ৫টাকা করে ট্যাক্স দিতে হতো। ভিড় হয়ে যেত।’ মমতা ব্যানার্জিই জানিয়েছেন, বিদ্যাসাগর সেতু দিয়ে ৩ কোটি ১১ লক্ষের ওপর গাড়ি যাতায়াত করে। তারমধ্যে বাইক চলে ৯০ হাজার। টোল আদায় বন্ধ হলে বাইককে আর টোল দেওয়ার জন্য টোল প্লাজায় অপেক্ষা করতে হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ভিড়টা কমে যাবে। দূষণটাও কম হবে।’ 
 আসলে মাঝেরহাট-কাণ্ডের জেরে সেতুর ওপর চাপ এখন সরকারের কাছে বড় বোঝা। ২৬ বছর পার হচ্ছে বিদ্যাসাগর সেতুর। ১৯৯২ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে চালু এই সেতুর ওপরও এখন বাড়তি বোঝা। রাইটার্স বিল্ডিং থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নে চলে আসার পর বিদ্যাসাগর সেতুর ওপর বোঝা চেপেছে ভয়ানক। মুখ্যমন্ত্রীর খেয়ালি মনোরঞ্জনের ধাক্কায় সেতুর ওপর বসছে গাছের টব। চেপেছে অতিরিক্ত ভার। মাঝেরহাটের পর সেই টবের বোঝা সরিয়েছে সরকার। কিন্তু সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি যাতায়াত যে হারে বেড়েছে, তা কমানো যায়নি। সেতুর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থা এইচ আর বি সি সূত্রেই জানা গিয়েছে, দৈনিক ৮৫ হাজার গাড়ির বহন করতে পারে বিদ্যাসাগর সেতু। এখন সেই সেতু দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করছে ৯০ হাজার গাড়ি। 
এখন টু হুইলারকে ছাড় দিয়ে এই গাড়ির চাপ সাময়িকভাবে কমাতে চায় রাজ্য প্রশাসন। কীভাবে? নবান্নের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, টোল দেওয়ার জন্য বাইকের টোল প্লাজায় দাঁড়িয়ে গেলে পিছনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভারী পণ্যবাহী যানকে। ফলে আরও চাপ বাড়ে সেতুর উপর। সেই চাপ মুক্ত করতেই বাইকের ওপর থেকে বন্ধ হচ্ছে টোল আদায়। যাতে বাইকের জন্য টোল প্লাজা থেকে ট্রাকের লম্বা লাইন না পড়ে।
প্রশাসন সূত্রেই জানা গেছে, এই ব্যবস্থা সাময়িক। বাইকের ওপর ট্যাক্স বন্ধ করে পরিস্থিতি দেখা হবে। তাতে যদি ফলপ্রসূ না হয় তারজন্য অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।
কী সেই নয়া ব্যবস্থা?
নতুন ব্যবস্থায় বিদ্যাসাগর সেতুর ওপর দিয়ে টোল ট্যাক্স বাড়ানোর কথাও সরকার বিবেচনা করছে। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যসাগর সেতু নিয়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রাইটস’কে দিয়ে সমীক্ষা করানো হয়েছিল। সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ ও কর আদায় এই দুই বিষয় নিয়েই সমীক্ষা করে রাইটস পরিবহণ দপ্তরকে রিপোর্ট জমা দেয়। সেই সমীক্ষা রিপোর্টে ‘রাইটস’ জানিয়েছে, যে পরিমাণ টোল আদায় হচ্ছে, তা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ জন্য যথেষ্ট নয়। 
ফলে টোল আদায় বাড়ানোর জন্য নবান্নের অর্থ দপ্তরের কাছে রিপোর্ট পাঠায় পরিবহণ দপ্তর। এখন চার চাকার গাড়ির জন্য টোল নেওয়া হয় ১০ টাকা। তা বাড়িয়ে ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে বাসের টোল ট্যাক্স ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা, ট্রাকের টোল ৮০ থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা, বড় ট্রেলারের টোল ১১০ থেকে বাড়িয়ে ২২০ টাকা করার প্রস্তাব এখন অর্থ দপ্তরের বিবেচনাধীন। সেখানেই বাইকের টোল ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা ছিল। 
বিদ্যাসাগর সেতুতে এর আগে ২০১০ সালে টোল ট্যাক্স পুনর্গঠন করা হয়েছিল। আদায় হওয়া টোল থেকেই বিদ্যাসাগর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ হয়ে থাকে। এমনিতেই নবান্নে রাজ্য প্রশাসন চলে আসার পর বিদ্যাসাগর সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে কোনও ত্রুটি হয় না। ভি আই পি যাতায়াতের জন্য সেতুর স্বাস্থ্যে নজরদারির অভাব নেই। নবান্নের জন্য এটা যেমন সুবিধা আবার সমস্যা হচ্ছে সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়া। পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিকদের কথায়, কর আদায় বাড়ানোর অর্থ শুধু এই নয় যে, বেশি টাকা দিয়ে সেতুর মেরামতি ভালো করে করা। বরং টোল আদায় বাড়িয়ে সেতুর ওপর যানের বোঝা কমে সেটাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্যে সেতুর ওপর টোল আদায়ের জন্য নতুন করে টেন্ডার ডেকেছে এইচ আর বি সি। গত ২৪শে আগস্ট থেকে দরপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। ১৫ই সেপ্টেম্বর চলবে অন লাইনে দরপত্র জমা দেওয়ার কাজ। সোমবার দরপত্র খোলা হবে। 
ফলে আপাতত বাইককে ছাড় দিয়ে ভবিষ্যতে অন্য গাড়িতে চড়া হারে টোল আদায়ে যেতে পারে রাজ্য সরকার। ঝুঁকির সেতুযাত্রায় গাড়ির চাপ কমাতে এমনই কড়া দাওয়াইয়ের পথে হাঁটবে সরকার। 
 
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement