জেটলি-মালিয়া একান্তে বৈঠকও হয়েছিল

সাংসদের অভিযোগে আরও ফাঁসলেন অর্থমন্ত্রী

 জেটলি-মালিয়া একান্তে বৈঠকও হয়েছিল
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১৩ই সেপ্টেম্বর- ঋণ লোপাট করে কর্পোরেট বিজয় মালিয়া বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে যে একান্তে বৈঠক করেছেন সংসদে তার প্রত্যক্ষদর্শীও মিলেছে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সাংসদ পি এল পুনিয়া নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে দাবি করে পরিষ্কার জানিয়েছেন সংসদের সেন্ট্রাল হলে ১৫-২০ মিনিট মালিয়া ও জেটলির একান্ত বৈঠক হয়েছে। ঐ বৈঠকের দুদিন বাদে লন্ডনে সরে পড়েন মালিয়া। সংসদের সিসি টিভি ক্যামেরায় তার রেকর্ড আছে বলে তিনি জানান। বুধবার লন্ডনে সাংবাদিকদের মালিয়া জানিয়ে দিয়েছিলেন দেশ ছেড়ে চলে আসার আগে তিনি অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে রফা করার বিষয়ে কথা হয়েছিল। মালিয়া ও অর্থমন্ত্রী জেটলির এই গোপন বোঝাপড়া ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এনিয়ে সরব হন বিরোধীরা। ফেসবুকে সাত তাড়াতাড়ি বিবৃতি দিয়ে জেটলি মালিয়ার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা অস্বীকার করেন। তিনি জানিয়ে দেন তার সঙ্গে কোনও বৈঠকই হয়নি মালিয়ার। জেটলির এই দাবি খণ্ডন করে সাংসদ পুনিয়া জানান জেটলি অসত্য কথা বলছেন। তাঁর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিদেশে পালিয়েছে মালিয়া। এই গোপন বোঝাপরা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর অসত্য বলা শুরু করেছেন জেটলি। ধনকুবের বিজয় মালিয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যঙ্কের ৯হাজার ৫০০কোটি টাকা লোপাট করে দুবছর আগে বিদেশে সরে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে বহাল তবিয়তে আছেন। বিরোধীরা এভাবে ব্যাঙ্কের টাকা লোপাট করে কর্পোরেটদের বিদেশে সরে পড়া নিয়ে মোদী সরকারের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুললে এতে কিছুটা নড়ে চড়ে বসে মোদী সরকার। বিজয় মালিয়াকে দেশে ফেরত আনতে ব্রিটিশ আদালতে প্রত্যর্পণের মামলা দায়ের করে ভারত সরকার। সেই মামলার শুনানির সময়ে বুধবার সাংবাদিকদের জেটলির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর ফাঁস করেন মালিয়া। গতকাল তা অস্বীকার করায় এদিন বৈঠকের দিনক্ষণ জানিয়ে তা আবার ফাঁস করেন সাংসদ পুনিয়া। তিনি বলেন, আমি সে সময় সংসদে ছিলাম। মালিয়াকে দেখলাম সংসদের সেন্ট্রাল হলে অর্থমন্ত্রী জেটলির সঙ্গে দেখা করলেন। সে দিনটি ছিল ২০১৬ সালের ১লা মার্চ। এর পরে তারা একসঙ্গে বসে বৈঠক করেন। ১৫/২০ মিনিট তাঁদের বৈঠক হয়। এর দুদিন পরে ৩রা মার্চ মিডিয়ায় সংবাদ হয় মালিয়া ২রা মার্চ বিদেশে সরে পড়েছেন। আমি সেসময় মিডিয়ার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলাম মালিয়া জেটলির সঙ্গে বৈঠক করে বিদেশে পালিয়ে গেছে। আমি আজও একই কথা বলছি। এটা এখন মালিয়া নিজেই ফাঁস করে দিয়েছেন। পুনিয়া বলেন, জেটলি এখন মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছেন। তিনি বৈঠকের কথা অস্বীকার করছেন। আমি বলছি সেই বৈঠক সেন্ট্রাল হলের সিসি টিভির ক্যামেরাতে ধরা আছে। তা খোঁজ নিলেই ধরা যাবে। তিনি বলেন, আমার এই তথ্য যদি ভুল প্রমাণ হয় তাহলে আমি ইস্তফা দেব। আর তা প্রমাণ হলে অর্থমন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে হবে। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, মোদী সরকার একের পর এক মিথ্যা কথা বলে চলেছে। তারা রাফালে চুক্তি নিয়ে মিথ্যা কথা বলেছে। এখন অপরাধী মালিয়ার সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে মিথ্যা কথা বলছেন। তা আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, জেটলি ও মালিয়ার বৈঠকে আসলে কিভাবে পালানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এখন তা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা আড়াল করার চেষ্টা করছেন জেটলি। তিনি আরও বলেন, জেটলি নিজে মালিয়ার বিদেশে সরে পড়ার কথা জানলেও তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য সি বি আই বা ইডি কাউকে নির্দেশ দেননি। এতেই পরিষ্কার হয়ে যায় মালিয়ার সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে অর্থমন্ত্রী জেটলির। মোদীর উচিত তাঁকে বরখাস্ত করা। মালিয়ার ব্যাঙ্কের ঋণের টাকা লোপাট করে দেওয়া নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে তদন্ত করছে সি বি আই। ২০১৫ সালের অক্টোবরে মালিয়া পালাতে পারে ভেবে বিশেষ লুক আউট নোটিস জারি করে সি বি আই। সেই নোটিসে তাঁকে বিদেশে যেতে দেখলে গ্রেপ্তারের নোটিস দেওয়া হয়। আশ্চর্যজনক ভাবে তাঁকে বিদেশে যেতে দেখলেই গ্রেপ্তারের যে নোটিস দেওয়া হয়েছিল তা নভেম্বরে বদলে তাতে শুধু বিদেশে যাওয়ার খবর সি বি আই-কে দিতে হবে বলেই ইমিগ্রেশন দপ্তরকে সি বি আই জানায়। নোটিসে তাঁকে গ্রেপ্তারের ধারা লঘু করে দেওয়ার পর পাঁচবার বিদেশে যান এবং দেশে ফেরত আসেন। এর পরে ২রা মার্চ তিনি লন্ডনে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরত আসেননি। এদিকে যেদিন বিদেশে পালিয়েছেন মালিয়া তার পরের দিনই কোর্টে তাকে গ্রেপ্তারের আরজি জানিয়ে মামলা দায়ের করে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক। তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ লঘু করে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের বিশিষ্ট আইন অফিসার বরিষ্ঠ আইনজীবী মুকুল রোহাতগি বলেছেন লুক আউট নোটিসে গ্রেপ্তারের নির্দেশ যদি বদলানো না হতো তবে মালিয়া হয়তো পালাতে পারতো না। কারণ এখন লুক আউট নোটিস যেমন একটা সাধারণ নোটিস তা তখন সাধারণ ছিল না। তাতে তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা বলা ছিল। লুক আউট নোটিস মালিয়া লন্ডনে থাকার সময় জারি করা হয়। তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন সে সময় তা সংশোধন হয়। এর পর তিনি ফের লন্ডনে গেলে তাঁকে আর গ্রেপ্তারের কোনও ব্যবস্থা নোটিসে থাকে না। রোহাতগি মালিয়ার বিদেশে পালানোর পর সব ব্যাঙ্কের তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর পিছনে সরকারের কারও সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কাজ করছে বলেও জানান। তিনি বলেন তাকে গ্রেপ্তারের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাঙ্ক তা আগাম মালিয়াকে সরকারের কেউ জানিয়ে দেয়। তাই মামলা দায়েরের আগের দিনই সে পালিয়ে যায়। এই পালানোর আগেই জেটলির সঙ্গে কথা বলেই তার পালানোর বন্দোবস্ত পাকা করা হয়েছিল বলেই মনে করছে বিরোধীরা। বি জে পি-কে নামতেই হয়েছে সাফাইয়ে। একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন একই সুরে বলেন, মালিয়া একজন অপরাধী, তার কথা বিশ্বাস করছেন বিরোধীরা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement