আমডাঙায় পুলিশি হয়রানি
বন্ধে দাবিপত্র আইনজীবীদের

আমডাঙায় পুলিশি হয়রানি<br>বন্ধে দাবিপত্র আইনজীবীদের
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: বারাসত, ১৩ই সেপ্টেম্বর- এন ডি পি এস ধারার সঙ্গে আমডাঙার নিরীহ গ্রামবাসীদের কী সম্পর্ক? এই ধারা প্রয়োগের বিরুদ্ধে যিনি দেশের অন্য প্রান্তে সোচ্চার হচ্ছেন, তিনি এই রাজ্যে কী করছেন? আমঙাঙার বোদাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধি এনতাজুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে এন ডি পি এস ধারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। আমডাঙায় আইনের প্রশাসন নেই। পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লোক মারা গেছেন। অথচ পুলিশ একপক্ষের মানুষ শুধু নয় একাধিক নিরীহ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করছে। আমডাঙার পুলিশের এই দমন পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে শুধু রাজ্য নয় সারা দেশজুড়ে অল ইন্ডিয়া ল-ইয়ার্স ইউনিয়ন প্রচার সংগঠিত করবে। প্রয়োজনে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে আমডাঙার পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত ঘটনা তুলে ধরা হবে। তাতেও যদি পুলিশের টনক না নড়ে তাহলে সারা ভারতের ল-ইয়ার্স ইউনিয়নের আইনজীবীদের নিয়ে আমডাঙার অত্যাচারী মানুষের সামনে হাজির করানো হবে। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪পরগনা জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে একথাগুলি বলেন অল ইন্ডিয়া ল-ইয়ার্স ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক অরিন্দম ভট্টাচার্য। এদিন উত্তর ২৪পরগনা জেলা সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ও রাজ্যস্তরের প্রায় ৬০জন আইনজীবী জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে আমডাঙায় অপরাধীর নামে সাধারণ মানুষের উপর পুলিশের দমন পীড়নের বিরুদ্ধে এবং ৬দফা দাবির পক্ষে দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়। যদিও দাবিপত্র নেন পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতে ডি এস পি হেড কোয়ার্টার সুভাশিস চৌধুরি। এদিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অরিন্দম ভট্টাচার্য, কার্যকরী সভাপতি ভারতী মুৎসুদ্দি, মিহির দাস, রতন আইচ,জেলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চন্দ্রশেখর দে। দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আমডাঙার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা, সেখানকার সাধারণ মানুষকে প্রযোজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া, ঘটনার প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, কোনও নিরীহ মানুষকে যেন অন্যায়ভাবে অপরাধী সাজিয়ে গ্রেপ্তার করা না হয়, পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যাতে হাজির থাকতে পারেন এবং তাঁদের নিরাপত্তার উপযুক্ত ব্যবস্থা পুলিশকেই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিন পুলিশ সুপারের অফিস থেকে বার হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে রাজ্য সম্পাদক অরিন্দম ভট্টাচার্য জানান, আমডাঙায় আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত খেটে খাওয়া মানুষকে তাঁদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। যাতে তাঁদের রোজগারে ব্যঘাত না হয়। মহিলাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। গ্রামের মানুষ যাতে তাঁদের অর্থকরী ফসল ঘরে তুলতে পারেন তারজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা পুলিশকেই করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আমডাঙা যাব। সেখানকার মানুষদের সঙ্গে কথা বলবো। ভয়-ভীতি কাটিয়ে গ্রামের স্বাভাবিক পরিস্থিতি যাতে ফিরে আসে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রশাসনকেই করতে হবে। একইভাবে অতীতে আমরা ভাঙড়ে গেছি, ভাবাদিঘি গিয়েছি। মণিপুর এমনকি কাশ্মীরেও গিয়েছি। আমডাঙায় পুলিশ যদি একতরফা অত্যাচার বন্ধ না করে। তাহলে ফের আমরা আসবো।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement