সেতু ভাঙা নিয়ে বামফ্রন্টের প্রস্তাবে না কর্পোরেশনে
প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ

সেতু ভাঙা নিয়ে বামফ্রন্টের প্রস্তাবে না কর্পোরেশনে<br>প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৩ই আগস্ট— মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়ে দোষীদের শাস্তির দাবিতে কলকাতা কর্পোরেশনের অধিবেশনে প্রস্তাব আনলেন বামফ্রন্ট কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী। কিন্তু সেই প্রস্তাব তুলতেই দেওয়া হলো না। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তাল হলো কর্পোরেশনের মাসিক অধিবেশন। বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা বিক্ষোভ দেখিয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়েও যান। চলতি মাসের ৪ তারিখে কলকাতায় মাঝেরহাট সেতু ভেঙে বিপর্যয় ঘটে। ঘটনায় প্রাণ হারান ৩ জন, আহত হন অনেকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সি পি আই (এম) কাউন্সিলর মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব এনেছিলেন। তাতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনার জেরে শহরের সমস্ত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসনিক ব্যর্থতায় মানুষ আতঙ্কিত। অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে দায়ীকে শনাক্ত করে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে জনমানসে নিরাপত্তা বোধকে সুনিশ্চিত করতে হবে। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে প্রস্তাব পর্বে দেখা যায়, বামফ্রন্ট কাউন্সিলরের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মালা রায়। তারপরেই কেন প্রস্তাব খারিজ করা হলো, সে নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা। তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েই কক্ষ ত্যাগ করেন। চেয়ারম্যান মালা রায় দাবি করেন, ওই সেতু কলকাতা কর্পোরেশনের আওতায় নয়। রক্ষণাবেক্ষণও কর্পোরেশন করে না। তাই কর্পোরেশন সংক্রান্ত বিষয় নয় বলেই তা খারিজ করা হয়েছে। বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। মেয়রের ঘরের সামনে থেকে ঘুরে তাঁরা চেয়ারম্যানের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে কাউন্সিলর্স ক্লাবে মিছিল শেষ করেন। এই বিষয় বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায় মজুমদার বলেন, পোস্তার পর শহরে মাঝেরহাট সেতু ভেঙে প্রাণ গেল ৩ জনের। একাধিক মানুষ আহত। মুখ্যমন্ত্রী তারপর দাবি করেন, ২০টি সেতুর অবস্থা খারাপ। এক দিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রমিকদের দেহ উদ্ধার হচ্ছে, আর অন্য দিকে ঘটনার পরের দিন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যাবেন বলে রাস্তা পিচ করা হচ্ছে তড়িঘড়ি। শাসকের এমন মানসিকতাকে ধিক্কার। প্রতিদিন যে মানুষজন যাতায়াত করছেন, তাঁদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যেই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। ঘটনায় দায়ী কারা? দোষীদের শাস্তির দাবি করা অপরাধ না কি? তার জন্য অন্যায়ভাবে খারিজ করা হলো এই প্রস্তাব। চেয়ারম্যান নিরপেক্ষ থেকে সভা পরিচালনা করছেন না। তিনি স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ করছেন। সেতু ভেঙে মৃত্যু হলেও অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাবে মৃতদের প্রতি শোক জ্ঞাপন না করা নিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বামফ্রন্ট কাউন্সিলররা।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement