হামলার জন্য আমেরিকা,
মিত্রদের দায়ী করল ইরান

হামলার জন্য আমেরিকা,<br>মিত্রদের দায়ী করল ইরান
+

 

তেহেরান, ২৩শে সেপ্টেম্বর— সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসবাদী হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের দায়ী করল ইরান। হামলার পরেই পশ্চিমের তিনটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে তেহেরান। ইরানের সরকার পরিচালিত সংবাদসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার’ প্রতিবাদ জানাতে তলব করা হয়েছিল ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতদের।
দেশের দক্ষিণ পশ্চিমের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরে শনিবার সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বেপরোয়া হামলা চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। ইরাক-ইরান যুদ্ধের স্মরণে এই অনুষ্ঠানে অভিজাত রেভেলিউশনারি গার্ড ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় মহিলা ও শিশুসহ নিহতের সংখ্যা ২৯ জন। আহত হন ৭০ জন। নিহতদের মধ্যে বারোজন সেনা জওয়ান। বাকিরা কুচকাওয়াজ দেখতে আসা সাধারণ নাগরিক।
হামলার দায় স্বীকার করেছে আরবকেন্দ্রীক সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-আহভাজিয়া। পাশপাশি, ইসলামিক স্টেট-ও হামলার ‘কৃতিত্ব’ দাবি করেছে। যদিও, ইরনাকে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের সামরিকবাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকার্চি ইসলামিক স্টেটের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ওরা দায়েশ (ইসলামিক স্টেটের আরবি প্রতিশব্দ), কিংবা (ইরানের) ইসলামিক ব্যবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য গোষ্ঠী নয়, ওরা আসলে আমেরিকা ও মোসাদের (ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা) সঙ্গে যুক্ত।’
‘ওই সন্ত্রাসবাদীরা প্রশিক্ষণ পেয়েছে এবং সংগঠিত হয়েছে দুটি উপসাগরীয় দেশে।’ বলেছেন শেকার্চি। ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আই এস এন এ) জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-আহভাজিয়া হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই গোষ্ঠীটি ইসলামিক স্টেটের তুলনায় কম পরিচিত হলেও, ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আই আর জি সি)-র মুখপাত্র রামিজান শরিফ বলেছেন, একে ‘আর্থিক মদত দেয় সৌদি আরব।’ 
‘যুৎসই জবাব’ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি হাসান রৌহানি। সামান্যতম হুমকিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি টুইট করেন। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনি এই হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ‘এই অঞ্চলের মিত্রদের’ দায়ী করেছেন। এক বিবৃতিতে খামেনি বলেছেন, ‘এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল দেশগুলি যে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, এই অপরাধ হলো তারই একটি অংশ। এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের প্রিয় দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।’ ইরানের বিদেশমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের আঞ্চলিক মদতকারীরাই’ এই হামলার জন্য দায়ী। ‘আর দায়ী হলো তাদের মার্কিন প্রভুরা,’ যোগ করেছেন তিনি। 
‘বিদেশি জমানাই এইসব সন্ত্রাসবাদীদের নিয়োগ করছে, প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে, অর্থ তুলে দিচ্ছে, যারা হামলা চালিয়েছে আহভাজ শহরে।’ বলেছেন জারিফ, একটি টুইটে, যোগ করেছেন, ‘এধরনের হামলার জন্য সন্ত্রাসবাদের আঞ্চলিক মদতকারী দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে ইরান।’ 
রাষ্ট্রপতি রৌহানি, সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, কিংবা বিদেশমন্ত্রী জারিফ কেউই সরাসরি সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী অথবা ইজরায়েলের নাম উল্লেখ না করলেও, নিশানা যে সেদিকেই সামরিকবাহিনীর মুখপাত্রের বিবৃতিতে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। 
ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড ও ডেনমার্কের কূটনীতিকদের এদিন ডেকে পাঠিয়ে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির কিছু সদস্যকে আশ্রয় দেওয়ার জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। ‘ষড়যন্ত্রী ও তাদের সঙ্গে জড়িতদের’ তেহেরানের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, ‘যতক্ষণ না ইউরোপের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে, ততক্ষণ কেন এইসব সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কালো তালিকাভূক্ত করছে না, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’ 

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement