নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েই
ঘোষণা ‘আয়ুষ্মান’ ভারতের

নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েই<br>ঘোষণা ‘আয়ুষ্মান’ ভারতের
+

নয়াদিল্লি, ২৩শে সেপ্টেম্বর- প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা-আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার রাঁচিতে এই প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেই এর ঘোষণা করেছিলেন। এদিন আনুষ্ঠানিক সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা গরিবদের জন্য মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া উদ্যোগ। তাঁর নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার আরও এক কদম এগিয়ে বলেছেন, ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য’ -এর যে কথা প্রধানমন্ত্রীর বলতেন, তা বাস্তবায়িত হলো। এটাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। যদিও বেশ কয়েকটি রাজ্য জানিয়ে দিয়েছে তারা এই প্রকল্প চালু করবে না। কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছে ইতিমধ্যেই তাদের রাজ্যে এর থেকে ভালো স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু আছে যাতে অনেক বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্ত। আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া থাকবে, যা আসলে বি জে পি ভোট প্রচারের জন্য বলেও অভিযোগ উঠেছে। 
সরকারের দাবি অনুযায়ী প্রায় সাড়ে দশ কোটি পরিবার এর ফলে উপকৃত হবেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে ২০০৮ সালে প্রথম ইউ পি এ সরকারের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা তুলে দেওয়া হলো। আয়ুষ্মান প্রকল্পে পরিবারের সব সদস্য মিলে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক জনগণনার ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামাঞ্চলের ৮কোটি এবং শহরাঞ্চলের প্রায় আড়াই কোটি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। সরকারের দাবি সঠিক হলে দেশের প্রায় ৫০ কোটি লোক আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। এর জন্য নথিভুক্তিরও প্রয়োজন নেই। প্রমাণপত্র হিসাবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড থাকলেই হবে। 
নীতি আয়োগের সদস্য বিনোদ পাল জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের ৬০শতাংশ টাকা দেবে কেন্দ্র এবং ৪০শতাংশ টাকা দেবে রাজ্য। আর এস এস নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন ২৫শে সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকরীভাবে চালু হবে। এই প্রকল্পের কেন্দ্র, রাজ্যের অর্থের অনুপাতেই স্পষ্ট বিষয়টি মোটেই কেন্দ্রের একার বিষয় নয়। রাজ্যগুলিকেও বিরাট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে। কিন্তু মোদী এবং তাঁর সহযোগীরা এমন প্রচার শুরু করেছেন যাতে মনে হবে গরিব-নিম্নবিত্তের চিকিৎসার সব দায় কেন্দ্রের সরকার নিয়ে ফেলেছে। এই জায়গাতেই আপত্তি জানিয়েছে অ-বি জে পি বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার। তেলেঙ্গানা, ওডিশা, দিল্লি, কেরালা এবং পাঞ্জাব জানিয়ে দিয়েছে তাদের এর থেকে ভালো স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প চালু আছে। তাদের আপত্তির জায়গাগুলি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্প তারা রাজ্যে কার্যকর করবে না। এই নিয়ে শনিবার ওডিশায় সমাবেশে নবীন পট্টনায়েককে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের গুরুত্ব বুঝছেন। শুধু নবীনবাবু বুঝতে পারছেন না। পালটা নবীন পট্টনায়েক তথ্য দিয়ে জবাব দিয়েছেন মোদীকে। তিনি বলেছেন, ওডিশায় বিজু স্বাস্থ্য কল্যাণ যোজনা প্রকল্প চালু আছে এবং তা অনেক বেশি মানুষকে স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধে দিচ্ছে। এই প্রকল্পে মহিলাদের ৭লক্ষ টাকার সুবিধে দেওয়া হয়, যেখানে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ৫লক্ষ টাকা মিলবে। তারপরেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর উদ্যমকে পেট্রপণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করুন। যে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ভালো স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু আছে সেখানে এইসব না করলেও হবে। 
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং কেরালার অর্থমন্ত্রী টমাস আইজ্যাক আবার সরকারি ঢক্কানিনাদের বিপরীতে বাস্তব অবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটাকে একটা বড় ধোঁকাবাজি বলে চিহ্নিত করেছেন। এত বড় আকারে কিভাবে কেন্দ্র এই প্রকল্প বাস্তবে রূপায়ণ করবে সেই প্রশ্ন তুলে আইজ্যাক বলেছেন, চলতি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় ৩০হাজার টাকা সুবিধে দেওয়ার জন্য ১২৫০টাকা প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে সরকারকে। আর এখন আয়ুষ্মান প্রকল্পের ৫লক্ষ টাকার সুবিধের জন্য ১১১০টাকা প্রিমিয়াম দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কম প্রিমিয়ামে এত বিপুল পরিমাণ অর্থের সুবিধা দেওয়া সম্ভব কিনা তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তেলেঙ্গানা সরকারও এই প্রকল্প চালু করতে অস্বীকার করে বলেছে, তাদের রাজ্যে চালু থাকা আরোগ্যশ্রী প্রকল্পের আওতায় এসে গেছে ৭০শতাংশ মানুষ। যেখানে আয়ুষ্মান প্রকল্পে মাত্র ৮০লক্ষ মানুষ আসবেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement