সাম্প্রদায়িক চেহারা দিতে
চাইছে তৃণমূল-বি জে পি

ইসলামপুর নিয়ে বললেন সূর্য মিশ্র

সাম্প্রদায়িক চেহারা দিতে<br>চাইছে তৃণমূল-বি জে পি
+

ভাস্কর দাশগুপ্ত : বলরামপুর, ২৩শে সেপ্টেম্বর— ইসলামপুরকাণ্ডে সাম্প্রদায়িক চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল এবং বি জে পি। রবিবার পুরুলিয়ার বলরামপুরে এই মন্তব্য করেন সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র।
ডি ওয়াই এফ আই-এর পুরুলিয়া জেলার ১৯তম জেলা সম্মেলনে ইসলামপুরের দুই ছাত্র খুনের ঘটনা নিয়ে সূর্য মিশ্র বলেন, ‘শিক্ষক চাওয়াটা কী অপরাধ? মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ থেকে বলছেন উর্দু শিক্ষক পাঠিয়েছি। আসলে ওনার উদ্দেশ্য মোরগের লড়াই লড়িয়ে দেওয়া।’ সূর্য মিশ্র বলেন, ‘উর্দু ও সংস্কৃত বিষয়ের শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতেই পারে। কিন্তু ওখানকার ছাত্রছাত্রীরা তো বাংলার শিক্ষকও দাবি করেছিলো। সেটা দিলেন না কেন? সমাবেশের পর সাংবাদিকরা সূর্য মিশ্রের কাছে বি জে পি-র ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্‌ধ এবং সি বি আই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই। বন্‌ধের নামে ওটা বি জে পি-র সার্কাস। কেন্দ্র ও রাজ্য — দুই সরকারই স্বৈরতান্ত্রিক। মৃত দুই ছাত্রের পরিবারের পাশে আমরা আছি।’
এদিন বলরামপুরের সরাই ময়দানে ছিল ডি ওয়াই এফ আই পুরুলিয়া জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ। বান্দোয়ান, সাঁতুড়ি, পারা, পুরুলিয়াসহ গোটা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুবক, যুবতীরা এদিন সমাবেশে এসেছিলেন। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই মাঠে বসে থেকে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেছেন। সমাবে‍‌শে সূর্য মিশ্র ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ডি ওয়াই এফ আই-র সাধারণ সম্পাদক অভয় মুখার্জি,বিদায়ী জেলা সম্পাদক ত্রিদিব চৌধুরি, নব নির্বাচিত জেলা সম্পাদক শ্যামল মাহাতো, সভাপতি সুনীল মাহাতো, গণআন্দোলনের নেতা প্রদীপ রায়, অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি দীননাথ লোধা প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুশান্ত বেসরা। কেরালার বন্যাত্রাণে সূর্য মিশ্রের হাতে সমাবেশ থেকে ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন গণআন্দোলনের নেতা প্রদীপ রায়।
শনিবার যুব সম্মেলন শুরু হয়েছিল। সম্মেলন থেকে সুনীল মাহাতোকে সভাপতি ও শ্যামল মাহাতোকে সম্পাদক করে ৫৫ জনের জেলা কমিটি নির্বাচিত হয়। সম্মেলন থেকে নির্বাচিত হয়েছে ১৮ জনের সম্পাদকমণ্ডলী। এদিন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গিয়ে প্রদীপ রায় বলেন, ‘শাসকদলের অত্যাচারে নাভিশ্বাস উঠে গেছে মানুষের। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একজোট হয়ে আমাদের লড়াই করতে হবে’।
প্রকাশ্য সমাবেশের প্রধান বক্তা সূর্য মিশ্র তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দুই সরকারের দৌলতে মানুষের জীবন বিপন্ন। প্রকৃতির আকাশে চড়া রোদ দেখে তিনি বলেন — এ রোদও ওঠা নামা করে, কিন্তু পেট্রল ডিজেল কেরোসিন রান্নার গ্যাসের দাম কমে না। শুধু বেড়েই যায়। একদিকে টাকার দাম কমছে — আর পেট্রপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। বি জে পি নেতারা বলেন না কেন টাকার দাম কমছে। ওরা বলেন না সব হাতে কাজ চাই, চড় চড় করে বেকারি বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক কোটি বেকারকে চাকরি দিয়েছেন। কিন্তু ওদের দলের নেতা কর্মীরাই হিসাব মেলাতে পারেন না। রাজ্যের এবং দেশের বেকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একমাত্র লড়াই-আন্দোলন চালাচ্ছে ডি ওয়াই এফ আই। বেকার বাড়ছে কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। কয়লা খনি বন্ধ হচ্ছে, কাজ হারাচ্ছেন মানুষ। মানুষের পকেটে পয়সা নেই। জিনিস তৈরি হচ্ছে — কিন্তু কেনার লোক নেই। দেশের মাত্র একভাগ মানুষের হাতে ৭৩ ভাগ টাকা। সাড়ে চার বছর আগে এই টাকার পরিমাণটা ছিল ৪৯ ভাগ। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। রাফালে যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে মোদী সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব কিছুর মূলে রয়েছে কমিশন। হ্যালকে না দিয়ে আম্বানিকে পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের তা তৈরির কোনও অভিজ্ঞতা নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন বিদেশ থেকে কালো টাকা নিয়ে আসবেন। কিন্তু কালো টাকা তো ফেরত আসেইনি উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী বিদেশ গেলে এদেশ থেকে কিছু কালো টাকা বিদেশে চলে যায়। দুই সরকারেরই লক্ষ্য সত্যকে চাপা দেওয়া। দুই সরকারই এত দুর্নীতি করেছে যে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রীর জেল খাটার কথা। এরাজ্যের মানুষ দেখেছেন ৩৪ বছরের বামফ্রন্টের শাসনে একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও সি বি আই মামলা করেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন হিন্দু রাষ্ট্র নেপাল — সেখানে গরিব নেই? পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র — সেখানে কি গরিব নেই? আসলে গরিবের কোনও জাত নেই। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন — উনি বলছেন চাষির আয় তিনগুণ বেড়েছে। যা উনি ছাড়া অন্য কেউ দেখতে পান না। তিনি বলেন, মোদী-দিদি একই পথের পথিক। একই পয়সার এপিঠ-ওপিঠ। এরাজ্যে মোদী টেল- দিদি হেড , দিল্লিতে মোদী হেড-দিদি টেল — পয়সা কিন্তু একটাই। ইসলামপুরে পুলিশের গুলিতে ২ ছাত্রের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক চাওয়াটা কি অপরাধ? বাংলা শিক্ষক না পাঠিয়ে উর্দু, সংস্কৃতের শিক্ষক পাঠানো হলো কেন? আর বিদেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন — উর্দু শিক্ষক পাঠিয়েছি। ওনার উদ্দেশ্য মোরগ লড়াই লড়িয়ে দেওয়া। এ সবের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় মুখার্জি বলেন, ভয়ংকর অবস্থা দেশের। তাই দেশ ও রাজ্য বাঁচানোর লড়াই জারি আছে। বেকার কাজ চাইছে। অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। রাজ্য সরকার দ্বিচারিতার নীতি নিয়ে চলছে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement