যৌন হেনস্তাকারীদের শাস্তির
দাবি জানালো মহিলা সমিতি

আকবরের পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

যৌন হেনস্তাকারীদের শাস্তির<br>দাবি জানালো মহিলা সমিতি
+

আই এন এন, নয়াদিল্লি, ১০ই অক্টোবর— গত কয়েকদিন ধরে যৌন হেনস্তার একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। বিশেষত প্রচার মাধ্যমে জগতের মহিলাদের উপর এই অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশিত হয়ে চলেছে দিনের পর দিন। বুধবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি বা এ আই ডি ডব্লিউ এ মহিলাদের উপর এই জঘন্য যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মোদী সরকারকে দ্রুত এই  অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন। এদিনই কেন্দ্রের মন্ত্রী এম জে আকবরেরও পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের সাংসদ জয়পাল রেড্ডি এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, এই বি জে পি নেতাকে হয় সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে, নয়তো ইস্তফা দিতে হবে। কংগ্রেস দাবি করেছে, অবিলম্বে ঘটনার তদন্তের নির্দেশও দিতে হবে সরকারকে। মহিলা সমিতি দাবি জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত যে আইন আছে সেই আইনকে অবিলম্বে প্রয়োগ করতে হবে মোদী সরকারকে। 
গত কয়েকদিন ধরে মহিলা সাংবাদিক, হিন্দি সিনেমার অভিনেত্রীরা একের পর এক যৌন হয়রানির ঘটনা প্রকাশ্যে আনছেন। অভিযোগ উঠেছে বি জে পি নেতা এবং প্রবীণ সাংবাদিক এম জে আকবরের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকজন মহিলা সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেছেন আকবর তাঁদের যৌন হয়রানি করেছেন। মহিলা সমিতি ওই বিবৃতিতে বলেছে, সমাজের বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে মোদী সরকারের মন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধেও। কিন্তু একটি ঘটনা সম্পর্কেও কোনও মন্তব্য করেননি নরেন্দ্র মোদী। অবশ্য এই বি জে পি-র এক নেতা মন্তব্য করেছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ যাঁরা করছেন তাঁরা নাকি আর্থিক ফায়দা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযোগ এনেছেন! এমন নেতার বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি ওই দলের নেতারা। সরকারের এই আচরণই বুঝিয়ে দিচ্ছে মহিলাদের উপর এমন ঘৃণ্য আক্রমণ সম্পর্কে তারা কতোটা নির্বিকার, উদাসীন। এদিন মহিলা সমিতি বলেছে, নীরবতা ভেঙে যেসব মহিলারা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সকলের সাথে ভাগ করে নিচ্ছেন, সেই সাহসী মহিলাদের সংগঠন সম্মান জানাচ্ছে। পিতৃতান্ত্রিক নিয়ম-নীতি ভেঙে আক্রমণকারীকে দোষী হিসাবে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করা অত্যন্ত সাহসের কাজ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে মুখ না খুলতে পারেন তারজন্য প্রকাশ্যে তাঁর চরিত্র হনন এবং তাঁকে ট্রোল করা চলতে থাকে। মহিলা সমিতি এর কড়া নিন্দা করেছে। সমিতি বলেছে, এই মহিলাদের অবশ্যই সুবিচার পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ক্ষমতার পরিকাঠামোর পুরুষ প্রাধান্যের সুবিধার আড়ালে এই অপরাধীরা লুকিয়ে ছিল। বিচার বিভাগ এবং বৃহত্তরভাবে সমাজকে এই সুবিধার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে দাবি জানিয়ে মহিলা সমিতি বলেছে, এই অপরাধীদের তাদের অপরাদের জন্য দায়ী হতেই হবে।
এম জে আকবরের বিরুদ্ধেও সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে দাবি জানিয়ে এ আই ডি ডব্লিউ এ বলেছে, কোনও ব্যক্তিকেই তার ক্ষমতা এবং পদমর্যাদার সুযোগ নিয়ে এই ধরনের জঘণ্য অপরাধের শাস্তি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিবিরোধী কমিটি গঠন বিভিন্ন স্তরে এখনো বাকি রয়েছে। অবিলম্বে এই কমিটি গঠন করতে হবে দাবি জানিয়ে সংগঠন আরও দাবি করেছে, ২০১৩সালের কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনটিকে কড়াভাবে এক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে মোদী সরকারকে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফ আই আর দায়ের করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করে শাস্তি দিতে হবে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement