রাফালে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া
হলো কীভাবে সরকারের
কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট

রাফালে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া<br>হলো কীভাবে সরকারের<br>কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট
+

নয়াদিল্লি, ১০ই অক্টোবর— রাফালে কেলেঙ্কারি নিয়ে বিরোধীরা যখন মোদী সরকারের উপর চাপ ক্রমশ বাড়াচ্ছে, তখনই সুপ্রিম কোর্ট ওই ফরাসী যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বিশদ তথ্য চাইল কেন্দ্রের কাছে। আগামী ২৯‍‌শে অক্টোবরের মধ্যে মুখবন্ধ খামে কেন্দ্রকে তা সর্বোচ্চ আদালতে জমা দিতে হবে। তবে তাতে ওই যুদ্ধবিমানের দাম এবং কারিগরি বিষয় সংক্রান্ত কোনও তথ্য জানাতে হবে না। বুধবার রাফালের বরাত নিয়ে একগুচ্ছ মামলার শুনানিতে মোদী সরকারকে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের স্বার্থে রাফালের বরাতের বিশদ তথ্য কাউকে দেখানো যাবে না বলে আদালতকে জানালেও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন এস কে কাউল এবং কে এম যোসেফ। আগামী ৩১শে অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেও বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি রাফালে কেলেঙ্কারি নিয়ে কংগ্রেস এদিন ফের আক্রমণ শানিয়েছে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। বিকানীরে এক সমাবেশে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী আবারও বলেছেন, মোদী সরকারের রাফালের বরাত থেকে লাভবান হয়েছে শিল্পপতি অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠী। এদিনই নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাফালে কেলেঙ্কারির তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করতেই হবে বলে ফের দাবি জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র এস জয়পাল রেড্ডি। 
সুপ্রিম কোর্টে রাফালে কেনার বরাতে বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে একাধিক জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলির আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা আর টি আই কর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা, আইনজীবী বিনীত ধান্দা, আইনজীবী এম এল শর্মা, আপের রাজ্যসভা সদস্য সঞ্জয় সিং প্রমুখ। এদিন একসঙ্গেই সেগুলির শুনানি হয়। শুনানিতে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল সবকটি মামলা খারিজের আরজি জানিয়ে বলেন, এগুলি একটিও জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মামলা নয়। রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছে। তা ছাড়া সরকারের এ‍‌ই সব সিদ্ধান্ত বিচারবিভাগ পর্যালোচনা করতে পারে না। বিচারপতিরা কার্যত এই যুক্তিতে কর্ণপাত না করেই বলেন, আবেদনগুলিতে যা যা বলা হয়েছে, সেগুলি বিবেচনা না করেই আদালত নিজেকে সন্তুষ্ট করতে রাফালে কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিশদ তথ্য জানতে চায়। বিচারপতিরা আরও বলেন, তাঁরা ওই যুদ্ধবিমানের দাম এবং কারিগরি উৎকর্ষ নিয়ে কিছু জানতে চাইছেন না। প্রসঙ্গত, মামলাগুলিতে একদিকে রাফালে কেনার বরাতের বিশদ তথ্য, আরেক দিকে ইউ পি এ সরকারের আমলের চুক্তি এবং এন ডি এ সরকারের সময়ের চুক্তির ভিত্তিতে ওই যুদ্ধবিমানের দামের তুলনামূলক তথ্য প্রকাশের জন্য কেন্দ্রকে আদালত নির্দেশ দিক বলে আবেদন জানানো হ‍‌য়েছে। ২০০৭ সালের আগস্টে ফরাসী কোম্পানি দাসাউ এভিয়েশনের কাছ থেকে ১২৬টি রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছিল ইউ পি এ সরকার। তা বাতিল করে এখন এন ডি এ সরকার ৩৬টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, আগের চুক্তির তুলনায় বর্তমান চুক্তিতে প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দামও অনেক বেশি পড়ছে।
এদিকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বুধবার ফের রাফালে নিয়ে মোদী সরকারকে বিঁধেছেন। রাজস্থানের বিকানীরে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউ পি এ সরকারের আমলের রাফালে চুক্তি বাতিল করা হলো কেন। নিজেই এর উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্সকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই তা করা হয়েছে এবং সেই সুবিধা পাইয়েও দেওয়া হয়েছে। নতুন চুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যালকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর এক ‘শিল্পপতি বন্ধু’ উপকৃত হয়েছেন। রাফালে কেলেঙ্কারির তদন্তে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবিও তিনি এদিন ফের জানিয়েছেন জোরের সঙ্গে। এদিনই নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র এস জয়পাল রেড্ডি অভিযোগ করেছেন, রাফালে কেনার নতুন চুক্তি করতে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজেদের মতো করে কারিকুরি করেছে মোদী সরকার। যে আমলারা নতুন চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছেন যে আমলারা, তাঁদের ‘পুরস্কৃত’ করা হয়েছে। নতুন চুক্তির জন্য গোটা প্রক্রিয়াকে সরকার নিজের মতো করে সাজিয়েছে। স্বাধীন ভারতে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি বলেও রেড্ডি এদিন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন। উল্লেখ্য, রাফালে নিয়ে নতুন চুক্তি হওয়ার সময়ে যিনি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সেই ফ্রাসোয়াঁ ওলন্দে সম্প্রতি জানিয়েছেন, দাসাউয়ের ভারতীয় সহযোগী ঠিক করার বিষয়ে ফ্রান্সকে কোনও ‘পছন্দ’ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারই রিলায়েন্সের নাম বলেছে। সেখানেই রাফালে নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। 
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement