হাসিনা হত্যার চেষ্টায় খালেদার
‘পলাতক’ পুত্রের যাবজ্জীবন

১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

হাসিনা হত্যার চেষ্টায় খালেদার<br>‘পলাতক’ পুত্রের যাবজ্জীবন
+

 ঢাকা, ১০ই অক্টোবর— আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার দায়ে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘পলাতক’ পুত্র তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। ২০০৪ সালে ওই গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়, হাসিনাসহ জখম হন পাঁচশ জন। ওই হামলার ঘটনায় খালেদা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, রাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

২০০৪ সালে আগস্টের ২১ তারিখ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামি লিগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন শেখ হাসিনা, যিনি তখন বিরোধী দলের নেত্রী। শ্রবণ ক্ষমতা সামান্য কমে গেলেও অল্পের জন্য রক্ষা পান হাসিনা।
ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের আগে বুধবারের এই রায় খালেদা জিয়ার দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বি এন পি)-র জন্য এক বড় ধাক্কা, যারা বয়কট করেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচন। অভিযুক্তদের আদালতে উপস্থিত করানোর জন্য এদিন রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়। 
পঞ্চাশ বছর বয়সি তারেক রহমান গরহাজির থাকার কারণে আদালত তাঁকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে। রহমান এখন রয়েছেন লন্ডনে, যেখানে তিনি অভিবাসী হিসাবে না থেকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আশ্রয় চাইছেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচ বছরের জন্য জেলে যাওয়ার পর থেকে তিনিই এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিদেশ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলকে। ফাস্ট ট্র্যাক ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি শাহীদ নূরউদ্দিন এদিন রহমানসহ ১৮ জনের যাবজ্জীবন কারদণ্ডের নির্দেশ দেন। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হরিশ চৌধুরি এবং বি এন পি নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেইন। 
তারেক রহমান, দুই মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম ছাড়াও ৪৯ জন অভিযুক্তর তালিকায় ছিলেন বি এন পি-র চারদলীয় জোট সরকারের শীর্ষস্তরের পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তারা। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য ও পরিণতি ব্যাখ্যা করতে বিচারপতি ১২-দফায় পর্যবেক্ষণ পেশ করেন। 
তদন্তে দেখা গিয়েছে, রহমানসহ তদানীন্তন বি এন পি-নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রভাবশালী কেন্দ্র থেকে এই হামলার ছক করা হয়। হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি (হুজি)। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হাসিনাই ছিলেন মূল টার্গেট। জখমও হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দলের মহিলা শাখার প্রধান, প্রাক্তন সভাপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আই ভি রহমান। 
৪৯ জন অভিযুক্তের মধ্যে বুধবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৩১ জন। 
‘দোষী সাব্যস্ত পলাতকদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ রায় ঘোষণার পরে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মামলার শুনানির কাজ শেষ হয় গতমাসের ১৮ তারিখ, রায় ঘোষণার দিন ছিল এদিন। 
শুরু থেকেই এই নৃশংস হামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার নানা চেষ্টা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে শুরু করে নতুন করে তদন্ত। বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বি এন পি সরকারের মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তাঁর ভাই তাজউদ্দীন, হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সি আই ডি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এই মামলার বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামি লিগের নেতৃত্বাধীন মাহজোট সরকার এসে তদন্তের পরিধি বাড়ায়। ৩০ জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় সি আই ডি।  

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement