পুজো অনুদানে হস্তক্ষেপ
করবে না হাইকোর্ট

মামলা যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে

পুজো অনুদানে হস্তক্ষেপ<br>করবে না হাইকোর্ট
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ই অক্টোবর— দুর্গা পুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে এখনই হস্তক্ষেপ করবে না কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য আইনসভা এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে। দুর্গা পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিসন বেঞ্চের দেওয়া এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সম্ভবত বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের হবে।
বুধবার হাইকোর্ট জনস্বার্থের এই মামলাটি খারিজ করে দেওয়ায় অনুদান দেওয়ার ওপর আদালতের যে স্থগিতাদেশ জারি ছিল তা আর কার্যকর থাকছে না। তবে এদিন আদালত বলেছে, অনুদানের টাকা সঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কিনা অথবা টাকার অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তার ওপর নজরদারি রাখতে হবে রাজ্য সরকারকে। 
দুর্গা পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেছিলেন, সরকারের তরফে রাজ্যের ২৮ হাজার দুর্গা পুজো কমিটিকে ১০ হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়া হবে। যার জন্য খরচ হবে ২৮ কোটি টাকা। এই ঘোষণার পরে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থের মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা সৌরভ দত্ত এবং কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী দ্যুতিমান ব্যানার্জি। আবেদনে তাঁরা বলেছিলেন, বিশেষ কোনও ধর্মীয় উৎসবে সরকারি কোষাগার থেকে অনুদান দেওয়া সংবিধাবিরোধী সিদ্ধান্ত। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার যে কথা বলা হয়েছে তার সঙ্গে এই অনুদান দেওয়ার বিষয়টি মান্যতা পায় না। 
কলকাতা হাইকোর্টে ডিভিসন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সময় গত শুক্রবার আদালত পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে স্থগিতাদেশ জারি করে। ফলে অনুদান দেওয়ার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবারও আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। শুনানির সময় রাজ্য সরকারের কাছে আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কোনোও নির্দেশিকা আছে কিনা। কোন তহবিল থেকে অনুদানের টাকা আসবে সেটাও আদালতের জিজ্ঞাসার মধ্যে ছিল। এব্যাপারে আদালত রাজ্য সরকারের হলফনামাও চেয়েছিল। এই অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের কোনও নির্দেশিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, কোন তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হবে, কারা সেই টাকা পাবে, টাকা কীভাবে খরচ হবে তার নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশিকা নেই। টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেছিলেন, রেজিস্ট্রিকৃত পুজো কমিটিগুলি এই অনুদান পাবে। এছাড়া রাজ্য সরকার ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ প্রকল্প থেকে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই অনুদান দিচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। বিচারপতি করগুপ্ত মন্তব্য করেছিলেন, পথ নিরাপত্তার টাকা খরচ হচ্ছে কোনও নির্দেশিকা ছাড়াই। সরকার বেসরকারি সংস্থার হাতে পথ নিরাপত্তার জন্য টাকা তুলে দিচ্ছে কেন? এর উদ্দেশ্য কী?
রাজ্য সরকারের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, বিধানসভায় রাজ্য বাজেট তৈরি হয় বছরে একবার। সেই বাজেট তৈরির সময় বিভিন্ন খাতে সরকার অর্থ বরাদ্দ করে দেওয়া হয়। যে খাত থেকে পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলে আদালতকে জানানো হচ্ছে সেই খাতে সরকার টাকা বরাদ্দ করেছে ১কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। পুজো কমিটি গুলিকে অনুদান দেওয়ার পরিমাণ ২৮ কোটি টাকা। এই বিস্তর ফারাক সরকার মেটাবে কীভাবে। তা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যখন এই অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তখন তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, শহরের ৩হাজার পুজো কমিটিকে ১০ হাজার করে টাকা দেবে কলকাতা কর্পোরেশন এবং দমকলদপ্তর। গ্রামীণ অঞ্চলে ২৫ হাজার পুজো কমিটিকে এই অনুদান দেবে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর এবং পর্যটন দপ্তর। এখন আদালতে বলা হচ্ছে এই টাকা দেবে পরিবহণ দপ্তর। তবে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজ্য সরকারের বক্তব্য আদালতকে শোনানো হয়েছিল। মঙ্গলবার শুনানির পর ডিভিসন বেঞ্চ অনুদান দেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। বুধবার আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেছে অনুদানের অর্থ যাতে অপচয় না হয় সেদিকে নজরদারি রাখতে হবে রাজ্য সরকারকে। এদিন কলকাতা হাইকোর্টেই মামলার আবেদনকারী সৌরভ দত্ত বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হবে। তিনি বলেন, বিশেষ কোনও ধর্মীয় কাজে জনগণের করের টাকা অনুদান হিসাবে খরচ করা সংবিধান বিরোধী কাজ।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement