চারদিনের উৎসবে ২৮ কোটি

ছ’মাসে ১৮৭ কোটি পেলেন না যুবরা

চারদিনের উৎসবে ২৮ কোটি
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ই অক্টোবর — চারদিনের শারদীয়া উৎসব। রাজ্য সরকার দিচ্ছে ২৮কোটি টাকা। উৎসব প্রাঙ্গণ সাজানো হবে, মণ্ডপ হবে সুন্দর, আলোর কেরামতি আরও কিছুটা বাড়তি মাত্রা পাবে ওই টাকায়।

রাজ্যের ২৮ হাজার ক্লাব সেই টাকা পাচ্ছে।
রাজ্যেরই ২২১৩ উদ্যোগপতি গত ছ’মাসে আবেদন করেছিলেন ছোট ব্যবসায় প্রয়োজনীয় সাহায্যের জন্য। তাঁদের কেউ তফসিলি জাতির। কেউ আদিবাসী। কেউ আবার অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির। নিয়ম অনুসারে তফসিলি জাতি আদিবাসী এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের কাছে ওই ২২১৩টি আবেদন জমা পড়েছে। সরকার পরিচালিত নিগমটির দায়িত্ব, আবেদনগুলি পরীক্ষা করবে। যেগুলি গ্রহণযোগ্য মনে হবে সেগুলি ব্যাঙ্কে পাঠাবে। তার জন্য ব্যাঙ্ক ঋণ দেবে। উদ্যোগপতিদের যে টাকা মার্জিন মানি হিসাবে দেওয়ার কথা, তা তাঁরা দেবেন। সরকারও কিছু ভরতুকি দেবে।
এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিগম গত ছ’মাসে সুপারিশ করেছে ১৮৭৬টি আবেদন। এর জন্য ভরতুকির দরকার ১৮৭ কোটি ৬০লক্ষ টাকা। রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর নিগমের কাজের তদারক করে। ওই দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এখনও ১৯৮জন বেনিফিশারির (যে উদ্যোগপতিদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে) অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে। সেক্ষেত্রে সরকারি ভরতুকির পরিমাণ ১৯কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। হুগলী, পুরুলিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা — এই তিন জেলা ছাড়া কোনও জেলার আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ঋণ, ভরতুকির টাকা পৌঁছায়নি।
নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, কোচবিহার, দার্জিলিং, হাওড়া, কালিম্পং, কলকাতা, নদীয়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, শিলিগুড়ি — এই জেলা, শহরগুলির কোনও আবেদন সরকার গ্রহণই করেনি। যে কটি জেলা থেকে আবেদন জমা পড়েছে সেগুলির খুবই সামান্য অংশ সরকার সুপারিশ করেছে। কোনও কোনও জেলার একটি আবেদন গ্রহণ করলেও ব্যাঙ্কের কাছে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ নিগম করেনি। উদাহরণ — পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪৮৫টি আবেদন নিগম গ্রহণ করেছে বলে জানাচ্ছে। কিন্তু ভরতুকি ছাড়েনি একটিরও জন্য। ফলে কোনও বেনিফিশারি টাকা পাননি। একই অবস্থা উত্তর ২৪ পরগনার ১৫৮টি আবেদনের।
উল্লেখযোগ্য, তফসিলি জাতি, আদিবাসী, ও বি সি যুবক যুবতীদের ছোট উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার একটি লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবছর সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়। এবার, ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে ৩০ হাজার যুবক-যুবতীকে এই সহায়তা করা হবে বলে নির্দিষ্ট হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সংখ্যা পৌঁছেছে ১৯৮-এ। যুবক-যুবতীরা কেউ মেয়াদি ঋণ নেন, কেউ আবার সমৃদ্ধি যোজনা কিংবা মাইক্রো ক্রেডিট প্রকল্পে ঋণ পান। ২০১১-তে নির্বাচনের সময় মমতা ব্যানার্জির প্রতিশ্রুতি ছিল, ‘‘তফসিলি জাতি-আদিবাসী, ও বি সি-দের এবং অর্থনৈতিকভাবে, উন্নয়নগতভাবে পিছিয়ে পড়া অংশকে সামাজিক এবং আর্থিক ভারসাম্যের মঞ্চে নিয়ে আসা আমাদের লক্ষ্য।...দীর্ঘদিন ধরে যে ক্ষতগুলি গভীর চেহারা নিয়েছে, আমরা তা দূর করব।’’ কিন্তু তা গত সাত বছরে লাগাতার কমেছে। রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ দপ্তরের হিসাবেই জানা যাচ্ছে, ২০০৬-০৭-এ রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা পেয়েছিল ৩৮,৬৭৩জন তফসিলি, আদিবাসী যুব। ২০০৯-১০-এ এই সংখ্যা হয়েছিল ৬১ হাজারের বেশি। প্রায় আট বছর পর সংখ্যা বৃদ্ধির বদলে কমেছে। লক্ষ্যমাত্রাই হয়েছে ৩০ হাজার। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement