দুদিনে আরও
চারজনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে

সরকার এখনও নির্বিকার

দুদিনে আরও<br>চারজনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ই অক্টোবর— ডেঙ্গুতে মৃত্যু ক্রমশ বেড়েই চলেছে। কিন্তু সরকারের খাতায় লেখা হয় না কোনও মৃত্যুর অঙ্ক। মঙ্গল ও বুধবারে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে। তার মধ্যে একজন কলকাতার কর্পোরেশনের এক আধিকারিকের মেয়ে। পতঙ্গ বিজ্ঞানীরা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন উৎসবের মুখেই থাবা বসাতে পারে ডেঙ্গু। সেই আশঙ্কাই সত্যি বলে প্রমাণিত হতে চলেছে এখন। গত দুই মাসে রাজ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশুসহ ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাদের বেশিরভাগই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। 
দমদম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ১০ বছরের অনীশ সরকার ৬দিন ডেঙ্গু জ্বরে ভুগে মারা গিয়েছে মঙ্গলবার। পঞ্চম শ্রেণির এই ছাত্র গত বৃহস্পতিবার থেকে জ্বরে ভুগছিল। তার রক্তের নমুনায় এন এস ওয়ান পজিটিভ পাওয়া যায়। অন্যদিকে ১২ বছরের রূপকথা পুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মুকন্দপুরের এক হাসপাতালে মারা যায় বুধবার। তার বাবা কলকাতা কর্পোরেশনের বারো নম্বর বরোর সাব অ্যাসিস্টেন্ট সাগ্নিক পুলাই। তাঁরা ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কামারদহের বাসিন্দা। রবিবার এই কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও বেলঘরিয়া ৪ নম্বর রেলগেট এলাকার বাসিন্দা ১৩ বছরের কিশোরী আশিয়ানা পরভীন মঙ্গলবার জ্বর নিয়ে কলকাতার এন আর এস হাসপাতালে ভর্তি হয়। বুধবার মৃত্যু হয়েছে তার। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর উল্লেখ আছে। বুধবারই মুকুন্দপুরে বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে সুধীরচন্দ্র মাকাল (৬৬) নামে এক ব্যক্তির। জিঞ্জিরা বাজারের বাসিন্দা এই ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেটেও ডেঙ্গুর উল্লেখ রয়েছে। এই নিয়ে রাজ্যে গত ২ মাসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বহু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের অনেকেরই মতে মৃত্যুর সংখ্যাটি আরও বেশিই হবে। সব ক্ষেত্রেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর চাপতে ব্যস্ত প্রশাসন। 
যতটা মৃত্যুর পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে গত ৩রা সেপ্টেম্বর কলকাতা কর্পোরেশনের ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বেহালার কিশোর সুরয শংকুয়া (১৬) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। গত ৬ই সেপ্টেম্বর বেহালারই ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পরুই কাঁচা রোডের বাসিন্দা উমা সরকার (৫০)’র মৃত্যু হয় ডেঙ্গুতে। তারও আগে গত ৪ঠা আগস্ট বাদুড়িয়ার ব্যাঙ্ককর্মী কাশের আলি মোল্লা (৫৭) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত ৬ই আগস্ট হাওড়া রাজবল্লভ লেনের সুনীত চোপারিয়া (৩৩) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে মারা যান তিনি। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই বিধাননগর দত্তাবাদের বাসিন্দা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র ১০ বছরের নারায়ণ শ্রেষ্ঠার মৃত্যুর খবর মিলেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে।
এরপরেই মৃত্যু হয়েছে দত্তাবাদেরই বাসিন্দা বাগমারি-মানিকতলা এইচ এস স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আকাশ চৌধুরির। এছাড়াও সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ১১ বছরের ছাত্র আরুষ দত্তের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। কলকাতা কর্পোরেশনেরই ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ লেনের মহম্মদ আহমেদ (১২) মারা গিয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। শিলিগুড়ির ৭ বছরের সায়েশা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় নিউটাউনের এক হাসপাতালে মারা যায় কয়েকদিন আগেই। তাদের সবারই ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গুর উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া গত ১২ই সেপ্টেম্বর কলকাতা কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুরারিপুকুর রোডের কৃষ্ণা হাজরা (৩৫) এবং ১৩ই সেপ্টেম্বর খিদিরপুর এলাকায় কবিতীর্থ সরণির নুরজাহান খাতুন (৪৩) মারা গিয়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। তাঁদের রক্তেও ডেঙ্গু ভাইরাস মিলেছে। 
গত কয়েক দিনে ডেঙ্গুতে আরও মারা যাওয়ার খবর মিলেছে । তার মধ্যে রয়েছেন উত্তর দমদমের মানস দাস (৪৪) এবং হাওড়ার বাসিন্দা নেহা মাহাতো (১৭) ছাড়াও হুগলীর সন্ধ্যা চক্রবর্তী। সম্প্রতি হাওড়ার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে দীননাথ ঘোষ স্ট্রিটের বাসিন্দা উত্তম বড়ুয়া (৫৩) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অথচ হাওড়া জেলা প্রশাসনের তরফে স্বীকার করা হয়নি এই খবর। সেপ্টেম্বরের শেষে কলকাতার জগন্নাথ সুরি লেনের ১০ বছরে কিশোরী পরিস্মিতা ঘোষ বুধবার মারা গিয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। এছাড়াও পর্ণশ্রী মহারানি ইন্দিরা দেবী রোড এলাকার গোকুল মুখোপাধ্যায় (৫৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গত সপ্তাহেই দমদমের বাসিন্দা অণিমা মজুমদার (৬৩) নামে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও গত এক মাসে উত্তর চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয় রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গুর ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। অথচ হাসপাতালের তরফে শুধুমাত্র জ্বর বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর খবর এসেছে হাওড়া, হুগলী, দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকেও। তবে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এবার প্রাবল্য বেশি। কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে একবারই পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়েছিল ৭৩২জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ২৫৪৭ জন। কিন্তু তারপর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমে বাড়লেও আর কোনও পরিসংখ্যান নেই কর্পোরেশনের তরফে, স্বীকারোক্তি তো নেইই।
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement