বর্ধমানে ঋণের ফাঁসে
আত্মঘাতী ভাগচাষি

বর্ধমানে ঋণের ফাঁসে<br>আত্মঘাতী ভাগচাষি
+

 নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্ধমান, ১০ই অক্টোবর— উৎসবের আগেই ঋণের ফাঁসে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক ভাগচাষি। তাঁর নাম সনাতন দাস বৈরাগ্য (৫৫)। তাঁর বাড়ি আউশগ্রাম থানার দিগনগর গ্রামে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বিষ খেয়েছিলেন। এদিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রী সুষমা দাসবৈরাগ্য জানিয়েছেন, ‘‘তাঁর স্বামী ছিলেন পেশায় ভাগচাষি। তিনি ৬-৭ বিঘে জমি ভাগে নিয়ে চাষ করতেন। চাষের আয়ে তাঁদের সংসার নির্ভরশীল। গত বোরো চাষে ফলন ভালো হয়নি, লাভ তো দূরের কথা খরচের টাকাই ওঠেনি। এবার আমন চাষেও বৃষ্টি কম থাকায় শেষের দিকে জল কিনে চাষ করতে হয়েছিল। টাকার অভাবে সঠিকভাবে জলও কিনতে পারেননি। ফলে মহাজনীসহ গোষ্ঠী ঋণ নিয়ে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা তাঁর দেনা হয়েছিল। সেই ঋণের টাকা শোধ করার মতো আর্থিক ক্ষমতা তাঁর ছিল না। ফলে মহাজনরা জোর তাগাদা করছিল। মহাজনের ভয়ে তাঁকে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হতে হলো।’’ প্রতিবেশী রঞ্জিত দাস বৈরাগ্য বলেছেন, ‘‘তাঁদের এলাকায় এবার জলের অভাবে ফসলের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। শস্যবিমার সুযোগ না থাকার কারণে যাঁরা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন তাঁরা বেকায়দায় পড়েছেন।’’ মাইক্রো ফাইনান্সের ফাঁসেও বহু কৃষক দেনাগ্রস্ত। কিন্তু সরকার বা পঞ্চায়েত কৃষকদের পাশে না থাকার কারণে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বর্ধমান জেলাতে ২০১১ সাল থেকে ১৬০ বেশি কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। এই আত্মঘাতী কৃষক পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দূরে থাক তাঁদের স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি তৃণমূল সরকার। এখানকার কৃষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ফসলের ক্ষতি, দাম না পেয়ে কৃষক মরলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেয় না অথচ দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে ২৮কোটির অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সরকার যে কৃষকবিরোধী তা স্পষ্ট হয়েছে সরকারি নীতিতে। 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement