আজ থেকে ফের
বেরোবে দেশের কথা

আজ থেকে ফের<br>বেরোবে দেশের কথা
+

নিজস্ব সংবাদদাতা: আগরতলা, ১০ই অক্টোবর— ত্রিপুরায় ‘ডেইলি দেশের কথা’ পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে জেলাশাসকের নির্দেশ স্থগিত হয়ে গেল হাইকোর্টে। গত ১লা অক্টোবর মাঝরাতে পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক প্রকাশনার অনুমোদন প্রত্যাহার করেছিলেন, সেইসঙ্গে আর এন আই-কেও তাদের অনুমতি প্রত্যাহার করতে বলেছিলেন। এই নির্দেশ রূপায়ণে বুধবার স্থগিতাদেশ দিয়েছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালেই পুনরায় প্রকাশিত হবে ত্রিপুরার এই জনপ্রিয় পত্রিকা। ২রা অক্টোবর থেকে পত্রিকা বন্ধ ছিল। 
রাজ্য প্রশাসনের ফতোয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল দেশের কথা কর্তৃপক্ষ। সেইমতো ত্রিপুরা হাইকোর্টে আবেদন দাখিল করা হয়। বুধবারই তার শুনানি হয়। দেশের কথার পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও অন্য আইনজীবীরা সওয়াল করেন। তাঁরা তথ্য দিয়ে দেখান পত্রিকার আর এন আই রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য অনুমতির নতুন আবেদন আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল। ১লা অক্টোবর আর এন আই-র তরফে সংশোধিত শংসাপত্র আসে এবং তা জেলাশাসকের কাছে জমাও দেওয়া হয়। তার আগে মহকুমাশাসকের প্রমাণপত্রও দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু এইসব নথি উপেক্ষা করেই জেলাশাসক একতরফা পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেন। উপরন্তু আর এন আই-কে জানানো হয় তারাও যেন নথিভুক্তি প্রত্যাহার করে নেয়। ওই রাতেই নজিরবিহীন ভাবে শংসাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও চাপ ছাড়া এই ঘটনা ঘটতে পারত না। এই সিদ্ধান্ত অবৈধ এবং আইনে যে যে সুযোগ রয়েছে তা অনুসরণ করা হয়নি। সংবিধানে সংবাদমাধ্যমের ও মতপ্রকাশের যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে বলেন, প্রয়োজনে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ অ্যাপেলাইট ট্রাইব্যুনালে যাক, এই আদালতে বিচার হতে পারে না। প্রধান বিচারপতি অজয় রাস্তোগে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জেলাশাসকের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে সেদিনই মহকুমাশাসকের দেওয়া নির্দেশও স্থগিত রেখেছেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার যদি হলফনামা দিতে চায় তাহলে তারা তা দিতে পারে। চার সপ্তাহের মধ্যে সেই হলফনামা দিতে হবে। 
পরে, এদিনই সাংবাদিক সম্মেলনে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে জেলাশাসক শুধু পত্রিকা বন্ধের নির্দেশই দেননি, আদেশে বলেছিলেন পুলিশ পাঠিয়ে পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভারতের সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট বারেবারে বলেছে এই অধিকার খণ্ডন করা যায় না। সংবাদপত্র পরিচালনার বিধি নিয়ে আইন রয়েছে। সেখানে বলা রয়েছে যদি প্রকাশক, মুদ্রকের নাম ছাপতে ভুলভ্রান্তি হয় তাহলে জরিমানা হতে পারে। তা বিচার করবেন যাঁর বিচার করার অধিকার আছে, যিনি নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁর সেই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার নেই। প্রকাশক, মুদ্রকের নাম পরিবর্তনের জন্য দেশের কথার পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল ২০১৫সালে। কিন্তু সরকারি কাজের শ্লথতার জন্য তা নথিভুক্ত না হওয়ায় দেশের কথা আবার আবেদন করে। পরিবর্তিত ঘোষণার ভিত্তিতে ১লা অক্টোবর আর এন আই সংশোধিত শংসাপত্র দেয়। জেলাশাসক তখন মহকুমাশাসককে ডেকে অনুমতিপত্র বাতিল করতে বলেন। আর এন আই-কে বলেন আমরা বাতিল করেছি, আপনারাও করুন। রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া একই দিনে এসব করা সম্ভব নয়। 
ভট্টাচার্য বলেন, এইসব যুক্তি আমরা আদালতে পেশ করার পরে আদালত তা গ্রহণ করেছে। রাজ্য সরকারের তরফে বলা হলো জেলাশাসকের নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ আরো পাঁচ-ছয় মাস পিছিয়ে যাবে। অথচ জেলাশাসকের নির্দেশ সংবিধানসম্মত নয়। এর বিরুদ্ধে আপিলের প্রয়োজন কী? এই আদালতেই তো বিচার হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতি আমাদের যুক্তি গ্রহণ করে জেলাশাসকের নির্দেশ স্থগিত করে দিয়েছেন। দেশের কথা প্রকাশে আর কোনও বাধা রইল না। 
ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে যেভাবে জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছেন ভবিষ্যতে তা নিয়েও মামলা হতে পারে। এই মামলাতেও আমরা জেলাশাসককে অভিযুক্ত করেছি। দেখা যাক তিনি কোনও জবাব দেন কিনা। তার পরে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সামগ্রিকভাবে জনগণের স্বার্থেই তা করা হবে। 
দেশের কথা ট্রাস্টের তরফে গৌতম দাস জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের কথা প্রকাশিত হবে। তিনি বলেন, দেশজুড়ে সাংবাদিক, সংবাদকর্মীরা দেশের কথা বন্ধের প্রতিবাদ করেছেন। এডিটর্স গিল্ড নিন্দা করেছে। অনেক জায়গায় মিছিল হয়েছে। যাঁরা দেশের কথার পাশে এভাবে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement