সকালেই ওডিশায় তিতলি,
রাজ্য ভুগবে চারদিন

সকালেই ওডিশায় তিতলি,<br>রাজ্য ভুগবে চারদিন
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১০ই অক্টোবর— ‘তিতলি’ যতই চোখ রাঙাক না কেন, পুজো কাটবে নির্বিঘ্নে। বঙ্গোপসাগরীয় ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ে যখন চারিদিকে ত্রাহি ত্রাহি রব সেই মুহূর্তে এমনই আশার কথা শুনিয়েছেন কলকাতা আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুপুরে ধেয়ে আসা ‘তিতলির’ প্রভাব পুজোর আগেই কেটে যাবে। সব কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী ঘটলে বৃহস্পতিবার সকালে ওডিশা উপকূলে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। 
বুধবার ‘তিতলি’ বঙ্গোপসাগরেই অবস্থান করছে। ওডিশার গোপালপুর থেকে ওই ঘূর্ণিঝড়ের দূরত্ব ২৪০কিলোমিটার। তার জেরেই এদিন দুপুর থেকে বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলে শুরু হয়ে গেছে জলোচ্ছ্বাস। সাধারণত জলে যতক্ষণ ঘূর্ণিঝড় থাকে ততক্ষণ এর শক্তি বাড়তে থাকে। স্থলভাগের ধাক্কা খেতে খেতে শেষে দুর্বল হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঘূর্ণিঝড়টি ওডিশার গোপালপুর থেকে কলিঙ্গপত্তনম হয়ে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে শুরু করবে। আর গোপালপুরের কাছে থাকায় এদিন দুপুর থেকে দুই ২৪পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের অবস্থা খারাপের দিকে গেছে। জোরালো বৃষ্টি এখনই শুরু না হলেও জলোচ্ছ্বাস বেড়েছে সমুদ্রে। তবে ওই ঘূর্ণিঝড়টি কয়েক দিনের মধ্যে শক্তি হারালে তা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে নিম্নচাপের রূপে আসার একটা আশঙ্কা থাকছে। সেইজন্য আগামী চারদিন ভারী বৃষ্টির একটা আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।  
বৃহস্পতিবার সকালে ‘তিতলি’ আছড়ে পড়ার একটা আশঙ্কা লোকমুখে চাউড় হয়েছে। রাজ্য সরকার ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ নিয়ে সতর্ক রয়েছে, নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার একটি পুজো উদ্বোধন করতে এসে এমনটাই ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন তিনি দক্ষিণ কলকাতায় একের পর এক পুজো উদ্বোধন করেছেন।  
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস হিসাবে বৃহস্পতি আর শুক্র দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলির আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে না। তবে ষষ্ঠী থেকে পুজোর চারদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে জোর গলায় এদিন জানিয়েছে আলিপুর। পুজোর চারদিন বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবু শারদ উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য বুধবারে নবান্নে ২৪ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম খোলা হলো। 
যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের নজরদারিতে চলবে এই কন্ট্রোল রুম। ‘১০৭০’ নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাটে যে কোনও দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে সরাসরি জানাতে পারবেন। শুধু তাই না। দুর্যোগ নিয়েও যে কেউ এই হেল্প লাইনে ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলবর্তী জেলা থেকে এদিন ওই ঘূর্ণিঝড়ের দূরত্ব অনেক বেশি থাকলেও এদিন সন্ধ্যায় ৪০থেকে ৫০কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে দেখা গেছে। দক্ষিণ ২৪পরগনা, উত্তর ২৪পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায়। তাই মালদহ, দুই দিনাজপুরে বৃষ্টি হতে পারে।
রাজ্যের বন্দর এলাকায় ‘তিতলির’ জন্য বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। দীঘা, বকখালি, রায়চক, গঙ্গাসাগরের মতো সমুদ্র উপকূলবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি চালানো হয়েছে। পর্যটকদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। দিল্লির মৌসম ভবন থেকে বুধবার রাতে দেওয়া সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, রাত জুড়ে শক্তি বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ প্রবল বেগে আছড়ে পড়বে ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায়।
বুধবার গভীর রাত থেকে ১০০থেকে ১১০কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। স্থলভাগে ঢুকলে তার গতি কিছুটা কমবে। কিন্তু ওই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হবে। তার আগেই অবশ্য বুধবার দুপুর থেকেই কলকাতাসহ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলী, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে।
এই জেলাগুলোতেই আগামী ২৪ঘণ্টার মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হবে। হিসাব মতো বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোগান্তির শুরু হতে পারে। ‘তিতলির’ পরোক্ষ ছোবলের খবর শুনে শহর ও শহরতলির পুজো উদ্যোক্তাদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। মণ্ডপ তৈরির একেবারে শেষে এসে তরি ডোবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, ওডিশার গোপালপুর, অন্ধ্র প্রদেশের কলিঙ্গপত্তনম লাগোয়া এলাকা ‘তিতলির’ জেরে লন্ডভন্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরোক্ষ প্রভাবে দীঘা এবং রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে চলবে ঝোড়ো  হাওয়া। তবে গতিবেগ ঘণ্টায়  ৬০ কিলোমিটার বেশি হবে না। ‘তিতলির’ প্রভাবে রবিবার বা পঞ্চমীর দিনও একই রকম ভাবে বৃষ্টি চলবে। ‘তিতলি’ যদি দুর্বল হয়ে গিয়ে ডানা ঝাপটে থাকে তাহলে ষষ্ঠীর দিনে ছিটেফোঁটা বৃষ্টির একটা ক্ষীণ আশঙ্কা থাকছে। যদিও এরাজ্যে ‘তিতলি’ শেষযাত্রায় ঢোকার চেষ্টা করলে তার আর তেমন শক্তি থাকবে না।
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement