অপরিবর্তিত দল
নিয়ে নামছে ভারত

লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ, হায়দরাবাদেও কেন্দ্রবিন্দু পৃথ্বীই

অপরিবর্তিত দল<br>নিয়ে নামছে ভারত
+

হায়দরাবাদ, ১১ই অক্টোবর— প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্স দেখে অনেকে টিপ্পনী কেটেছিলেন, তিন ইনিংসে হেরেছেন ক্রেগ ব্রেথওয়েটরা। কার্ল হুপারদের চাঁচাছোলা সমালোচনা গিলতে কষ্ট হয়েছিল সফরকারী দলের ক্রিকেটারদের। ব্রায়ান লারার ভারতের মাটিতে পরিসংখ্যানকে ঢাল করে গা বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন জেসন হোল্ডার। প্রথম টেস্টে তিনি ছিলেন না। ছিলেন না কেমার রোচের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেসারও। দুজনেই দ্বিতীয় টেস্টে ফিরছেন। প্রথম ম্যাচে তাঁদের না পাওয়ায় দল দুর্বল ছিল। অসহায় আত্মসমর্পণের যুক্তিও তাই কিছুটা হলেও মানা গিয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু দ্বিতীয় টেস্ট। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ এগচ্ছে। তাই ভারতের ঝাঁঝ আরও বাড়বে। দেশের মাটিতে ভারত অপ্রতিরোধ্য। শক্তিধর দেশগুলোই নির্বিষ হয়ে যায় ভারতে খেলতে এসে। তুলনায় বর্তমান ক্যারিবিয়ানদের যা পরিস্থিতি, মুম্বাইয়ের মতো রঞ্জি দলও হারানোর ক্ষমতা রাখে বললে অত্যুক্তি হয় না। উলটোদিকে ভালো খেলে পাশা পালটে দিতে পারলে হোয়াইটওয়াশ বাঁচানোই নয়, সিরিজ ১-১ করারও সুযোগ থাকছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে।
প্রথম টেস্টে বল পড়ার পর থেকেই ভারত ম্যাচের রাশ নিজেদের কাছে রাখে। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা পৃথ্বী সাউ শতরান করে সাড়া ফেলে দেন। বিরাট কোহলি আলাদা মাত্রা যোগ করেন। ক্যারিবিয়ান বোলারদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যই করেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। যোগ্য সম্মানটুকুও পাননি রাজকোটে। ঋষভ পন্থ অল্পের জন্য নিজের দেশে খেলতে নেমে প্রথম সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছিলেন। যদিও রবীন্দ্র জাদেজার প্রথম শতরান রাজকোটেই এসেছে। তার ওপর রবিচন্দ্রন অশ্বিন, কুলদীপ যাদবদের ঘূর্ণির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহম্মদ সামির ধারালো সিম। পথ পায়নি দ্বীপপুঞ্জের ক্রিকেটীয় প্রতিনিধিরা।
রোহিত শর্মা ক্রিকেটারদের নিশ্চয়তার বিষয়ে সওয়াল করেছিলেন। সে-কথা মাথায় রেখে প্রথম টেস্টের একদিন আগেই ১২ সদস্যের দল ঘোষণা করেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। যাতে দলে থাকা খেলোয়াড়রা কোনোরকম চাপে না থেকে মাঠে নামতে পারেন। এদিনও তার হেরফের হল না। অপরিবর্তিত ১২জনের তালিকা প্রকাশ করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এই সিরিজে ডাক পাওয়া দুই তরুণ ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও হনুমা বিহারিকে সুযোগ না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকের ধারণা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দলের বিরুদ্ধে মায়াঙ্ক আগরওয়ালের মতো তরুণের অভিষেক করার ভালো মঞ্চ হতেই পারত। তবে দলের কোনও সিনিয়রই বিশ্রামে না যাওয়ায় মায়াঙ্ক বা ইংল্যান্ডে অভিষেক করা হনুমা বিহারিদের পরীক্ষিতই হলেন না।
প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে বিরাট কোহলি জানিয়ে রাখলেন যে, পৃথ্বী সাউ দলের সম্পদ। তবে সাফল্যের বিষয়ে তাঁকে হুড়োহুড়ি করতে দেওয়া ঠিক নয়। বরং ১৮ বছরের ওপেনারকে নিজের মতো খেলতে দেওয়ার ব্যাপারেও মতামত ব্যক্ত করেছেন কোহলি। এদিন তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মনে করি, ওর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মশলা রয়েছে। প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ফের ঘটানো ওর পক্ষে সম্ভব।’ প্রথম ম্যাচে পৃথ্বীর ব্যাটিং দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলাররাও সন্ত্রস্ত। রোস্টন চেজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়ে দিলেন, ‘প্রথম টেস্টের পর দীর্ঘ আলোচনা হয়। কিছু পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে ওর জন্য।
এদিন ভারতীয় অধিনায়ককে বল নিয়ে সরব হতে দেখা যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতে খেলা এস জি বলের মান অত্যন্ত খারাপ। ডিউক বল নিয়ে সরব হয়ে বিরাট জানান, ‘আমার মতে, ডিউক বলই টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আদর্শ বল। পরিস্থিতি এলে আমি নিশ্চয়ই জানাব যাতে গোটা বিশ্বে ডিউক বলে টেস্ট খেলা হয়। তাতে বোলাররা ম্যাচে থাকে যো কোনও পরিস্থিতিতে। বলের সিম এত শক্ত হয়, স্পিনাররা সাহায্য পায়।’

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement