শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত মুক্ত
করতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলুষিত মুক্ত<br>করতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা, ১১ই অক্টোবর— শিক্ষার বেসরকারিকরণ ঘটছে। তার পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় আগ্রহ কমছে। অন্যদিকে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপিতে শিক্ষাঙ্গন কলুষিত হচ্ছে। শিক্ষার এই ঘোর সংকট মোকাবিলায় অভিভাবক-পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের বৃহত্তর লড়াইয়ের ডাক দিল শিক্ষাবিদদের কনভেনশন। 

সেভ এডুকেশন বা শিক্ষা বাঁচাওয়ের উদ্যোগে এই কনভেনশনে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিবিধ উদ্যোগ এখন আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এবার তা মোকাবিলা করার সময় এসেছে। অভিভাবক, পড়ুয়াদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষাকে বাঁচানোর লড়াই গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তবে বাঁচবে সাধারণ শিক্ষা ও সমাজ গড়ার কারিগরদের শ্রদ্ধা, সম্মান।
বৃহস্পতিবার মৌলালি যুবকেন্দ্রে এই কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। এদিনের কনভেনশন থেকে ২১জনের এক প্রস্তুতি কমিটি তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন উপাচার্য আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়, অশোকনাথ বসু, শিক্ষাবিদ রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, সুজিত বসু, ইতিহাসবিদ শোভনলাল দত্তগুপ্ত, অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ, প্রতীচী স্ট্রাস্টের কুমার রানাসহ বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মোট ২১জনের প্রস্তুতি কমিটি তৈরি হয়েছে। কনভেনশনের প্রস্তাব পাঠ করেন অধ্যাপিকা ঈশিতা মুখার্জি। কনভেনশনে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ছাড়াও উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য ছাড়াও শিক্ষা বাঁচানোর স্বার্থের আগামীদিনের লড়াই, আন্দোলনের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রাখেন।
কনভেনশনের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরুতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাণিজ্যমুখী করার প্রয়াস কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ই নিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্ত ধরনের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। স্বশাসিত শিক্ষা সংস্থাগুলির স্বাধিকার কেড়ে নিয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণমুখী করা হচ্ছে। এতে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রগুলিতে উপদ্রব বেড়েছে দুষ্কৃতীদের। শিক্ষাদানের মধ্যে দিয়ে যাঁরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তৈরি করেন দুষ্কৃতীদের দাপাদাপিতে সেই সমাজ কারিগররা অসম্মান ও অশ্রদ্ধার শিকার। শিক্ষার এই ঘোর সংকট কাটাতে শিক্ষা বাঁচাওয়ের পক্ষ থেকে বছরভর লড়াই, আন্দোলন গড়ে তুলবে।
কনভেনশনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অশোকনাথ বসু বলেন, শিক্ষকসহ অন্যান্য পরিকাঠামোর অভাবে পড়ুয়ারা উপযুক্ত পঠনপাঠনের পরিবেশ পাচ্ছে না। প্রশাসনের মদতেই শিক্ষা ক্ষেত্রগুলি, গবেষণাগার ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশে শিক্ষাঙ্গনগুলি ভয়, ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতীচী স্ট্রাস্টের কুমার রানা বলেন, রাষ্ট্রের উদ্যোগে সম্প্রসারণের পরিবর্তে শিক্ষা সংকুচিত হচ্ছে সে বিষয় সন্দেহ নেই। আতঙ্কের কারণ এটাই যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা ক্রমশ ছিটকে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের উদ্যোগ না থাকায় এই ধরনের ঘটনা সমাজের প্রতি আতঙ্কের। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
শিক্ষাক্ষেত্রে দুষ্কৃতী ও নৈরাজ্য ঠেকানো, স্বচ্ছতার সঙ্গে সর্বস্তরে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধিকারসহ ৬দফা দাবি যা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে, শিক্ষার বিস্তার ঘটবে তা নিয়ে আগামীদিনে লড়াইয়ে কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে কনভেনশনে বলেন প্রাক্তন উপাচার্য আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলে যে প্রস্তুতি কমিটি তৈরি হয়েছে সেই কমিটি শীঘ্রই বৈঠকের বসে শিক্ষা বাঁচানোর স্বার্থে আগামীদিনের কর্মসূচি নেবে।
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement