আকবর অবিলম্বে ইস্তফা
দিন, বলল পলিট ব্যুরো

যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য এড়ালেন ইরানিও

আকবর অবিলম্বে ইস্তফা<br>দিন, বলল পলিট ব্যুরো
+

নিজস্ব প্রতিনিধি: নয়াদিল্লি, ১১ই অক্টোবর— মন্ত্রিসভার সহকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও। তবে কার্যত অভিযোগকারিণীদের পক্ষে দাঁড়ালেন তিনি। বললেন, যিনিই এমন অভিযোগ তুলছেন, তাঁকে যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসার শিকার হতে না হয়। যে মহিলারা মুখ খুলছেন, তাঁদের ন্যায়বিচার প্রাপ্য। বৃহস্পতিবার তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেছেন নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের কাছে। মোদী সরকার, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করায় গত চার বছরে যেখানে বেশ কয়েক জন সাংবাদিককে পেশাগত দিক থেকে ও অন্যান্য আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানির এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবার এক জন বা দুই জন নয়, অন্তত ছয় জন মহিলা সাংবাদিক যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন মোদী মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের বিরুদ্ধে। এদিনই সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো তাঁর ইস্তফা দাবি করেছে। একই দাবি জানিয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতিও।
অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, মোদী সরকারের সেই বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বর্তমানে নাইজেরিয়ায় রয়েছেন। এখনও তিনি এই গুরুতর অভিযোগ সম্পর্কে একটি মন্তব্যও করেননি। মুখ‍ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী, বি জে পি সভাপতি অমিত শাহ, বিদেশ মন্ত্রকের পূর্ণমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহিলা সদস্য ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ কেউই। অভিযোগ সম্পর্কে এদিন মন্তব্য করতে চাননি ইরানিও। তিনিও বলেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট ভদ্রলোক’ এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। কেন মন্তব্য করবেন না, তার সাফাই হিসাবে বলেছেন, অভিযোগের ঘটনাগুলি ঘটার সময়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তাই তিনি মন্তব্য করতে পারছেন না। কিন্তু তিনি কর্মক্ষেত্র বা অন্যত্র যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলছেন যে মহিলারা, তাঁদের পক্ষে অন্তত কিছু কথা বলেছেন, যা মোদী বা শাহ বা অন্যদের পক্ষে যথেষ্টই অস্বস্তিকর বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানি এদিন বলেছেন, মহিলারা হেনস্তার শিকার হওয়ার জন্য কাজ করতে যান না। তাঁরা কাজ করতে যান নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং মর্যাদার জীবন পেতে। যাঁরা যৌন হেনস্তার কথা বলছেন, তাঁদের প্রতিহিংসার শিকার বানানো উচিত নয়, তাঁদের নিয়ে মজা করাও উচিত নয়। ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য তাঁরা এবং তা তাঁরা পাবেন বলেই তিনি আশা করেন। ইরানির আগে মোদী সরকারের আরেক মহিলা মন্ত্রী মানেকা গান্ধীই একমাত্র বলেছেন, রাজনীতিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এমন সব অভিযোগের অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। 
এদিন এক বিবৃতিতে সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো বলেছে, এম জে আকবর যখন বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন, তখন তাঁর দিক থেকে যৌন হেনস্তা ও অপ্রীতিকর আচরণের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন বেশ কয়েক জন মহিলা সাংবাদিক। এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদে তিনি আর থাকতে পারেন না। অবিলম্বে তাঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত। একই দাবি জানিয়ে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে দুপুর সাড়ে বারোটায় বিক্ষোভে শামিল হবেন মহিলারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এম জে আকবরের আচরণে একাধিক মহিলা সাংবাদিককে যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, সে সম্পর্কে মোদী সরকারের নীরবতা অত্যন্ত লজ্জাজনক। জরুরি ভিত্তিতে এই সব অভিযোগের তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে, যাতে কুকর্মকারীর বিচার হয়। এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে আরও দেরি করা হলে প্রমাণ হবে, মহিলা‍‌দের বিরুদ্ধে হিংসায় অভিযুক্তদের সুরক্ষা দেওয়ার অবস্থান নিয়েই সরকার চলছে। 

 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement