এস এফ আই নেত্রীর বিরুদ্ধে
বিকৃত মামলা সাজালো পুলিশ

এস এফ আই নেত্রীর বিরুদ্ধে<br>বিকৃত মামলা সাজালো পুলিশ
+

 নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শিলিগুড়ি, ১১ই অক্টোবর- উৎসবের মুখেই এস এফ আই নেত্রীকে সম্পূর্ণ সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করেছে মমতা ব্যানার্জির পুলিশ। রাজনৈতিক আক্রোশ কোন পর্যায়ে পৌছেছে তার প্রমাণ শিলিগুড়ি কাণ্ড। রাজনৈতিক আক্রোশ কোন পর্যায়ে পৌছাতে পারে এদিন শিলিগুড়ি মহকুমার আদালতের এজলাস তার প্রমাণ। বিক্ষোভের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনাকে কার্যত পুলিশকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা বলেই সওয়াল করানো হয়েছে সরকার পক্ষের আইনজীবীকে দিয়ে। ইসলামপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে ২৪শে সেপ্টেম্বর বামফ্রন্টের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারা দিয়ে মামলা সাজিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয় মিথ্যা মামলায় ধৃত ছাত্রী নেত্রী সুকৃতি আঁশকে। আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজত হয় এস এফ আই নেত্রীর। দাগী দুষ্কৃতীদের ধরতে যে তৎপরতা লাগে সেই তৎপরতায় শিলিগুড়ির পুলিশ বুধবার গ্রেপ্তার করে তাঁকে। শিলিগুড়ি থেকে পুলিশ কমিশনারেটের একটি বিশেষ দল হাওড়ায় গিয়ে সেখানকার পুলিশ কমিশনারেটের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করে দার্জিলিঙ জেলার এস এফ আই নেত্রী সুকৃতি আঁশকে। হাওড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন সুকৃতি। 
এদিন আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী সুদীপ রায় বসুনিয়া সুকৃতিকে দশ দিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানান। বিচারক তাঁর কাছে কারণ জানতে চান কেন দশ দিন পুলিশি হেপাজত চাওয়া হচ্ছে? সরকার পক্ষের আইনজীবী অবশ্য যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দেখাতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গে পালটা সওয়াল করেন সুকৃতি আঁশের পক্ষে আইনজীবী পার্থ চৌধুরি। তিনি বিচারপতিকে বলেন, ইসলামপুরের দাড়িভিটে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে দুজন ছাত্র। যার ফলে সারা রাজ্যের ছাত্র সমাজ ভীত, সন্ত্রস্ত, ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সর্বত্র। প্রতিবাদ জানাতেই পথে নামে ছাত্র সমাজ। সেখানে কুশপুতুল পোড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও সেই কুশপুতুলে কোথাও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম বা তাঁর কোনও ছবি লাগানো ছিল না। কুশপুত্তলিকাতে তেল ঢালার সময় ধস্তাধস্তি হয় এবং অনেকের গায়েই সেই তেল ছিটকে যায়। সরকার পক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করে বলেন, কুশপুতুল নিয়ে টানাটানি করার সময় এস এফ আই নেত্রী সুকৃতি আঁশ ‘জ্বালিয়ে দাও’ শব্দটি ব্যবহার করে। যদিও তা নিছকই কুশপুতুলে আগুন ধরানোর জন্য বলা হয়েছিল। এমনকি যে ভিডিওকে হাতিয়ার করেছে পুলিশ সেখানে দেখা যাচ্ছে ঘটনার পরে ছাত্র-যুব ও বামপন্থী কর্মীরাও পুলিশের চোখে মুখে জল দিচ্ছে। 
এদিন আদালতে আইনজীবী পার্থ চৌধুরি সওয়াল করে বলেন, ‘জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’ এটা কোনও খুনের হুমকি নয়, আন্দোলনের প্রতীকী স্লোগান। তিনি আরও যুক্তি দিয়ে বলেন সুকৃতি একজন মেধাবী ছাত্রী। দাড়িভিটের পুলিশের গুলিতে ছাত্র হত্যার ঘটনায় তাঁর প্রতিবাদ জানানোটা স্বাভাবিক ঘটনা। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করে ফেলেছে। কাজেই একজন ছাত্রীকে দশদিন ধরে পুলিশি হেপাজতে রেখে নতুন করে অনুসন্ধানের কোন প্রশ্নই নেই। দুই পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি শোনার পর বিচারপতি সরকারি আইনজীবীর দশদিনের পুলিশি হেপাজতের আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারক সুকৃতি আঁশকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককে বিচারক নির্দেশ দিয়ে বলেন সুকৃতি আঁশ একজন মহিলা এবং ছাত্রী। কাজেই তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করতে হবে। 
আদালতেই এদিন সুকৃতির পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন সি পি আই (এম) দার্জিলিঙ জেলার সম্পাদক জীবেশ সরকার। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কমিটির সদস্য সমন পাঠকসহ অন্যান্য পার্টিকর্মীরা। পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন ছাত্রী নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে পুলিশ। জীবেশ সরকার বলেন, আমরা আইনগতভাবে লড়াই করেই সুকৃতিকে ছাড়িয়ে আনবো। তবে পুলিশ যেভাবে মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করেছে তার বিরুদ্ধে সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের প্রতিবাদ প্রতিরোধ সংগঠিত করতে হবে। 
এদিকে এদিনই দার্জিলিঙ জেলা বামফ্রন্টের তরফে জানানো হয় শুক্রবার বেলা ১১টায় পুলিশ কমিশনারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হবে। এস এফ আই-র পাশাপাশি ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য কমিটির তরফেও এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিন সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষি মুখার্জি ও সম্পাদক সায়নদীপ মিত্র এক বিবৃতিতে বলেন, উৎসবের প্রাক্কালে এই ঘৃণ্য ঘটনা দলদাস পুলিশের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবকেই ফের সামনে হাজির করল।
এদিন সুকৃতি আঁশকে যখন আদালত প্রাঙ্গনে নিয়ে আসে পুলিশ বাহিনী সেখানে তখন জনস্রোত। ছাত্র-যুবরা সকাল থেকেই জড়ো হয়ে স্লোগান তুলছে। পুলিশের সামনেই সুকৃতিকে দেখা মাত্রই স্লোগান ওঠে ‘সুকৃতি তুই এই আশ্বিনে আমাদের আন্দোলনের মলাট’। প্রিয় সাথিকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই দলে দলে এসেছেন ছাত্রছাত্রীরা। অনেক অভিভাবকরাও ছিলেন। 
 

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement