বাইকে স্টান্ট,
নিহত স্কুলছাত্র

বাইকে স্টান্ট,<br>নিহত স্কুলছাত্র
+

 নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ২০শে অক্টোবর—  দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে শনিবার সকালে বাজি ধরে মোটরবাইকে ‘স্টান্ট’ দেখাতে গিয়ে এক তরতাজা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম লালু সাহানি ওরফে স্যামুয়েল (১৮)। শনিবার সকাল সওয়া সাতটা নাগাদ এই ঘটনায় মোটরবাইকের পিছনে থাকা সঙ্গী অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। 

পুলিশকে দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে জানা গেছে, হাওড়ার দিক থেকে তীব্রগতিতে ছুটে আসছিল ওই মোটরবাইকটি। বাইকে দুই আরোহীর কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না। সকালের সময় দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে যানবাহন খুব একটা ছিল না। সেতুর মাঝবরাবর আসতেই আচমকা মোটরবাইক আরোহী নিজের হাত ছেড়ে চালানো শুরু করে। যাঁরা দেখছিলেন তাঁরা শিউরে উঠছিলেন। এই অবস্থায় কিছুদূর যাওয়ার পরেই হেস্টিংস মাজারের কাছে যখন বাইকটি আসে তখনই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মোটরবাইকটি সেতুর ডিভাইডারে ধাক্কা মারতে মারতে কিছুটা এগিয়ে যায়। চালক স্যামুয়েল ততক্ষণে রক্তাক্ত অবস্থায় দূরে ছিটকে পড়ে। ছিটকে পড়েন অপর আরোহী অমিত বাল্মীকি (২১)। দুজনের বাড়িই বালিগঞ্জের ৩৯/বি বেলতলা রোডে। 
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর সেতুতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নজরে আসে বিষয়টি। তাঁরা দ্রুত দুইজনকে উদ্ধার করে এস এস কে এম হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে হাসপাতালে পৌঁছে মৃত্যু হয় লালু সাহানির। সে কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে একাদশ শ্রেণির ছাত্র। কাকতালীয়ভাবে এদিনের ঘটনায় বেঁচে ফিরেছেন তাঁর সঙ্গী অমিত বাল্মীকি।  
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে দাদার বাইক নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল লালু। প্রথমে যায় প্রিন্সেপ ঘাটে। সেখান থেকে দুজনে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পেরিয়ে কলকাতার দিকে আসতে যায়। ফিরতি পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনাটি।  ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানতে তদন্তকারীরা সেতুর সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছেন। বেঁচে ফেরা বন্ধু অমিত বাল্মীকি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা মাঝেমধ্যেই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। শারদোৎসবের সময়েও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement