মে দিবস ও নব উদারবাদ
শ্রমিক কৃষক মৈত্রীর গুরুত্ব

হান্নান মোল্লা

১ মে, ২০১৫

Image

+

শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে আধুনিক শিল্প উৎপাদনের শুরু হতে শোষণ ব্যবস্থার নতুন রূপ আত্মপ্রকাশ করলো — পুঁজিবাদ। সামন্তবাদী শোষণের রূপ পরিবর্তন হলো — শুরু হলো শ্রমের শোষণ। ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্স ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ও আমেরিকায় এই ব্যবস্থা দ্রুত বিস্তার লাভ করলো। এই ব্যবস্থা জন্ম দিলো নতুন শোষিত সমাজের — শ্রমিক শ্রেণির। শ্রমিকের শ্রমে সৃষ্টি উদ্বৃত্ত মূল্যই হলো পুঁজিবাদের প্রাণ ভোমরা। শুরুতে শ্রমিকরা ছিল অসংগঠিত — নতুন শোষণ ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ। তাদের আঠারো বিশ ঘণ্টা কাজ করতে হতো নতুন গড়ে ওঠা কারখানায়, নতুন তৈরি যন্ত্রপাতি নিয়ে। কিন্তু প্রথম থেকেই কঠোর এবং দীর্ঘ পরিশ্রম তাদের মনে ক্ষোভ সঞ্চার করতে থাকে — কিন্তু করণীয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। এক সময় তাদের ক্ষোভ চার্টিস্ট আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। তারা মনে করতো মেশিনই তাদের শত্রু — তাই মেশিন ভাঙার আন্দোলন। ১৮৪২ সালে সেই আন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করা হলো। তবে ১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট প্রথম শিশু ও নারীদের জন্য দশ ঘণ্টা কাজের আইন করে — কিন্তু পুরুষ শ্রমিকের কাজের ঘণ্টা কমলো না।

ফরাসি দেশের শ্রমিকরাও কাজের বোঝায় অতিষ্ট হয়ে আন্দোলনের পথে যেতে শুরু করে। উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হলো লিঁয়র তাঁত শ্রমিকদের ১৫ ঘণ্টা কাজের বিরুদ্ধে লড়াই — ১৯৩৪ সালে প্যারিসে সেই আন্দোলন দমন করা হয়। ১৮৩৪ সালেই ইংল্যান্ডের বস্ত্রকল শ্রমিকরা কাজের ঘণ্টা কমানোর জন্য যে ধর্মঘট করে তা বোধ হয় পৃথিবীর বস্ত্র শ্রমিকদের প্রথম ধর্মঘট। ১৮৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিকরা সর্বাত্মক ধর্মঘট করে কাজের ঘণ্টা কমানোর দাবি করে। ‘‘সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত’’ — কাজের বিরুদ্ধে আমেরিকার শ্রমিকরা ১৮২০ থেকে ১৮৪০ এর মধ্যে বহু ধর্মঘট করে। ফিলাডেলফিয়ার মেকানিক্স শ্রমিকরা ১০ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করে; ১৮২৭ সালে সংগঠিত শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করে।

পৃথিবীর দেশে দেশে এই সমস্ত শ্রমিক আন্দোলন মূলত কাজের ঘণ্টা কমাবার দাবিতে গড়ে উঠতে থাকে। শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে ধীরে ধীরে এক ঐক্য চেতনার বিকাশ হতে থাকে। ঐ বাস্তবতাই কমিউনিস্ট ইশ্‌তেহারে ১৮৪৮ সালে ‘‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’’ রণধ্বনিতে প্রতিভাত হয়। লন্ডনে দাস ‘ক্যাপিটাল’’ গ্রন্থ বেরনোর সময় লন্ডনের নির্মাণ শ্রমিকদের ৯ ঘণ্টা কাজের দাবির আন্দোলনকে মার্কস সমর্থন করেন। ১৯৬৪ সালে লন্ডনে ‘‘আন্তর্জাতিক শ্রমিকদের অ্যাসোসিয়েশন’’ গঠন হয় যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীকালে এই সংগঠন ‘‘প্রথম আন্তর্জাতিক’’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শ্রমিক শ্রেণির দাবি ও শ্রেণি সংগ্রাম গড়ে তোলার পথ নির্দেশ করে। মার্কস এবং এঙ্গেলসের বক্তব্যে কাজের ঘণ্টা কমানোর প্রয়োজনীয়তা জোরের সঙ্গে প্রতিফলিত হয়। প্রস্তাবে লেখা হয় “The legal limitation of the working Day is a Preliminary condition without which any further social improvements are impossible…”।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে জঙ্গি এবং দীর্ঘ শ্রমিক আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। ১৮৭৫ সালে পেন্সিল ভেনিয়ায় কয়লা খনির দীর্ঘ আন্দোলন নির্মমভাবে দমন করা হয় এবং শ্রমিক নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৮৭৭ সালের রেল শ্রমিকদের আন্দোলন বর্বরভাবে দমন করা হয় যাতে ৫০ জন শ্রমিক নিহত হয়। এই সময় আমেরিকার সর্বত্রই ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘‘৮ ঘণ্টা লিগ’’ বিভিন্ন শহরে গড়ে ওঠে ও ১৮৮৬ সালের ১লা মে ঐ দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘট ব্যাপক রূপ নেয় বিভিন্ন শহর যেমন, নিউ ইয়র্ক, চিকাগো, ফিলাডেলফিয়া, মিলাউকি, বালটিমোর — সর্বত্র সর্বাত্মক ধর্মঘট সংগঠিত হয়। কারখানা বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিক মিসিগান অ্যাভিন্যুতে মিছিল করে —। আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই পরিচালিত হয় কিন্তু ৩রা মে ম্যাককরমিক হারভেস্টিং মেশিন কোম্পানির শ্রমিকরা মিল গেটে জমা হয়ে সভা করছিল এবং তাদের উপর পুলিশ গুলি চালিয়ে ২ জনকে খুন করে ও বহু আহত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৪ঠা মে সন্ধ্যায় হে মার্কেট স্কোয়ারে এক শ্রমিক সভা ডাকা হয় এবং প্রায় ৩০০০ শ্রমিক ঐ সভায় যোগ দেয়। ঐ সভায় শ্রমিক নেতা স্পাইস, অ্যালবার্ট পারসনস্‌ ভাষণ দেন। সভা চলতে থাকে। রাত প্রায় দশটার সময় ক্যাপটেন বোনফিল্ডের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে। এমন সময় কে বা কারা একটি বোমা ছুঁড়লে একজন পুলিশ মারা যায়। এটা পরিষ্কার ঐ দীর্ঘ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে শ্রমিকদের কেউ বোমা ছোঁড়েনি। কর্তৃপক্ষ তাদের দালাল দিয়ে ঐ বোমা ছোঁড়ায় যাতে পুলিশ শ্রমিকদের উপর হামলার অজুহাত পায়। তাই হলো। পুলিশ ঐ ছুতোয় ঝাঁপিয়ে পড়লো শ্রমিকদের উপর। বর্বর অত্যাচার চললো। গুলি চললো। কয়েকজন নিরীহ শ্রমিক খুন হলো, বহু শ্রমিক আহত হলো। এক বর্বর কলঙ্কিত ইতিহাস তৈরি করলো শিকাগোর পুলিশ। শুধু শ্রমিক খুন করেই শেষ হলো না — ঐ ঘটনাকে ব্যবহার করে পুলিশ বহু শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে এবং ৮ জন নেতৃত্বস্থানীয় শ্রমিকের বিরুদ্ধে ‘‘ষড়যন্ত্র ও হত্যার’’ মিথ্যা মামলা দায়ের করে। দুই মাস বিচারের প্রহসন চালিয়ে ৭ জনকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হলো।

দেশে দেশে এই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু হলো এবং পরবর্তীকালে মে মাসে হাজার হাজার শ্রমিকের মিছিল সমাবেশ সংগঠিত হলো। ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে স্বীকৃত হয় এবং সমগ্র দুনিয়ার শ্রমিকদের সংগ্রামের ও শপথের দিবস হিসাবে পালিত হয়। শ্রমিক শ্রেণির শ্রেণি চেতনার বিকাশে মে দিবস হয়ে ওঠে শ্রেণির সংগ্রামের হাতিয়ার। মে দিবসের শতবার্ষিকী পালিত হয়। কিন্তু শতবর্ষ পার করার পর দুনিয়ার পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বিত্তীয় পুঁজির আধিপত্য এক গুণগত পরিবর্তন এনেছে এবং নব উদারবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। পুঁজিবাদের এই নতুন অবতার শ্রমিক শ্রেণির উপর ভয়াবহ আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। নবউদারবাদে পুঁজির শোষণ সহস্রগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠিত শিল্প আক্রান্ত হচ্ছে সংগঠিত শিল্পে শ্রমিকের দাঙ্গা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিকাশের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। অসংগঠিত শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের দ্বারা অর্জিত শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে শ্রম আইনগুলোর বেশি বেশি করে শ্রম বিরোধী হয়ে উঠছে। ঠিকা শ্রমিকের দ্বারা স্থায়ী শ্রমিক স্থানচ্যুত হচ্ছে। বেকারের বাহিনী দীর্ঘতর হচ্ছে। তাই সারা দুনিয়া আবার ১২/১৪ ঘণ্টা কাজের দুনিয়ায় পরিণত হচ্ছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রে সর্বত্রই প্রায় কাজের ঘণ্টা বেড়ে গেছে বা যাচ্ছে। তাই মে দিবসের মর্মবস্তু ‘‘আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, আট ঘণ্টা আমোদ প্রমোদ—’’ পুঁজিবাদী দুনিয়ায় ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে। তাই আজ নতুন করে মে দিবসের ভূমিকা শ্রমিকশ্রেণির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। আবার নতুন করে আট ঘণ্টা কাজের আন্দোলনকে সংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। হে মার্কেটের অসংগঠিত শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে মে দিবসের জন্ম। আজ অগণিত অসংগঠিত শ্রমিকদের অধিকারের সংগ্রাম মে দিবসের লড়াই এর নতুন তাৎপর্য।

ভারত রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের সংগ্রামে জনগণের গণতান্ত্রিক মোর্চা গঠনের যে রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা সেই ক্ষেত্রে শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বেই গড়ে তুলতে হবে সেই মোর্চা যেখানে কৃষক সমাজ হবে তার ঘনিষ্ঠতম মিত্র। শ্রমিক কৃষক মৈত্রীই হবে বিপ্লবী সংগ্রামের মূল শক্তি। তাই মে দিবসের উদ্‌যাপনে শ্রমিকশ্রেণিকে সেই শ্রেণি মৈত্রীর কথা মাথায় রেখেই তার সংগ্রামের নীল নক্‌শা তৈরি করতে হবে। বর্তমানে ভারতবর্ষে জনগণের বৃহত্তম অংশই কৃষক সমাজ যারা গ্রামীণ সমাজের নির্ধারক শক্তি। সেই শক্তিকে জাগরিত করেই ভারতে গড়তে হবে কৃষি বিপ্লব। তাই কৃষকসমাজকে সামন্তবাদী, চিন্তাচেতনার বেড়াজাল থেকে উদ্ধার করেই তাকে মৌলিক পরিবর্তনের চেতনার আঙিনায় টেনে আনতে হবে। সেই প্রয়াসে শ্রমিকশ্রেণির ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই মে দিবস পালন করার কর্মসূচিতে শ্রমিকশ্রেণিকে ভারতে কৃষি সমস্যার প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হবে।

বর্তমানে ভারতবর্ষের কৃষি এক ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার গুলোর কৃষিনীতিই এ‍ই সংকটের জন্য দায়ী। ভারতের সামাজিক রাজনৈতিক জীবনের ৭০ ভাগ কৃষক সমাজকে নিয়ে গঠিত হলেও দেশের অর্থনৈতিক জীবনে তার অংশ ক্রমশই সংকুচিত হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অংশ ৫৬% ‍‌থেকে কমে ১৪% এ নেমে এসেছে। কৃষি উৎপাদনের হার ক্রমশ কমে যাচ্ছে। কৃষকের উৎপাদনের খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সে ফসলের দাম পাচ্ছে না। স্থাধীনতার পর সেচের ব্যবস্থা বৃদ্ধিতে যে পরিকল্পনা গৃহীত হচ্ছিল পরবর্তীকালে তা তলানিতে নেমে গেছে ৭০% কৃষিই আজও প্রকৃতি নির্ভর। তারপর খরা, বন্যা, তুষারপাতসহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে, প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ কৃষককে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। সরকারি ঋণের অভাবে সুদখোরের কাছ থেকে অসম্ভব বে‍‌শি হারে ঋণ নিয়ে যে আরো বিপর্যস্ত হচ্ছে। ডব্লিউ টি ও- এর কাছে ভারত সরকারের আত্মসমর্পণের পর বিশ্বের কৃ‍‌ষি বাজারের সঙ্গে ভারতের কৃষি বাজার মুক্ত হয়ে গেছে ফলে দুনিয়ার ধনীদেশের কর্পোরেট কৃষির সঙ্গে ভারতের কৃষক সমাজ প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছেন। কৃ‍‌ষিকে বাঁচাবার জন্য বহু কমিশন কমিটির সুপারিশ সমূহ শেষের স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশগুলো কার্যকরী করতে সরকারগুলোর কেন্দ্র বা রাজ্য অনীহা কৃষক সমাজকে আরো অন্ধকারের দিকে ঠেলে ‍‌দিচ্ছে— তাই কৃষক আজ আত্মহত্যা করছে। প্রতি আধ ঘণ্টায় দেশে একজন কৃষক আত্মহত্যা করছে ঋণের জ্বালায় অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হয়ে যাবার দুর্দশায় অথবা ফসলের সঠিক দাম না পাওয়ায়। তার উপর নতুন আক্রমণ কৃষি জমি কৃষকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কর্পোরেট পুঁজিপতিদের তুলে দেবার সরকারি প্রয়াস সম্প্রতি ঘোষিত মোদী সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ অর্ডিন্যান্স গ্রামীণ জনগণের বৃহত্তর অংশ কৃষক সমাজই আজ শুধু আক্রান্ত নয় তাদের কাছে গ্রামীণ সর্বহারা খেতমজুর, অগণিত অকৃষিমজুর— গ্রাম্য কারিগর সবাই আজ চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার শিকার। এক দিকে ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি অন্য দিকে গ্রামীণ ক্ষেত্রে কর্মহীনতা ও বেকারী আজ গ্রাম্য জীবনে অভিশাপ ডেকে আনছে।

তাই আজ কৃষক সমাজের বাঁচার লড়াই হচ্ছে সর্ববৃহৎ গণসংগ্রামের ক্ষেত্র। এই লড়াইকে বাদ দিয়ে ভারতবর্ষে কোনো পরিবর্তনের লড়াই সফল হবে না। নব উদারবাদী নীতির শিকার সমস্ত মেহনতি মানুষের বাঁচার লড়াইকে যুক্ত করাই আজ মে দিবসের আহ্বান। জমির লড়াই, জমি জমা দখলের বিরুদ্ধে লড়াই। ছ’কোটি গৃহহীনের জন্য এক টুকরো গৃহ নির্মাণের জমির লড়াই, খেতমজুরদের সারা বছর কাজ ও মজুরির লড়াই, একশ দিনের কাজের লড়াই, গ্রামীণ কারিগরদের জীবনজীবিকার লড়াই, অসংগঠিত অকৃষি মজুরের বাঁচার লড়াই আজ দেশের আন্দোলনের এজেন্ডা। এই লড়াই সমগ্র দেশকে আন্দোলিত করতে পারে, পরিবর্তনের পথের নকশা তৈরি করে দিতে পারে, দেশে গণসংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। তাই শ্রমিকশ্রেণীকে রুটি রুজির সংগ্রামের সঙ্গে, বেকারীর ও মূলবৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে খাদ্য সুরক্ষার জন্য সংগ্রামের সঙ্গে, শ্রমিকের অধিকার রক্ষার লড়াই এর সঙ্গে গ্রামীণ জনগণের মহা সংগ্রামকে যুক্ত করতে হবে। মে দিবসের লড়াইকে সশস্ত্র মেহনতি জনগণের সংগ্রামে পরিণত করতে হবে। সেই সম্ভাব্য সংগ্রামকে খতম করার জন্য মোদী সরকারের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ব্যবহার করার, আর এস এসের বিভেদ ও বিদ্বেষের নীতির ব্যাপক প্রসারের ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করতে হবে। আজ দেশে যে সাম্প্রদায়িক কর্পোরেট সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সবাই মিলে তাকে প্রতিরোধ ও পরাস্ত করতে হবে। শ্রমিক কৃষক মৈত্রীর বুনিয়াদের উপর এই মহাসংগ্রাম তোলাই হোক আজকের মে দিবসের শপথ।

Featured Posts

Advertisement