শুধু রুটি রুজির দাবি নয়,
লড়াই বিকল্প নীতির জন্য

নীলোৎপল বসু

১ মে, ২০১৫

১লা মে। মে দিবস। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। কতদিন হয়ে গেল। সেই উনবিংশ শতাব্দির কথা। ১৮৮৬।আট ঘণ্টা কাজের দাবি। শ্রমিকদের লড়াই। সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই। চিকাগোর বিভিন্ন কারখানা থেকে ধর্মঘট করে যোগ দিলেন ৩৫ হাজার শ্রমিক। চিকাগোর হে মার্কেট। আক্রমণ হলো। গুলি চলল। এরই রেশ ধরে আবার মিটিং ৪ ঠা মে। বোমা ফাটল। উত্তেজনা ধ্বস্তাধ্বস্তি । ঝাঁপিয়ে পড়ল পুলিশ। শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করা হলো দাঙ্গা বাঁধানোর অভিযোগে। তারপর মার্কিন ইতিহাসে বিচার ব্যবস্থার সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। পুরোপুরি একপেশে তদন্ত এবং বিচারের প্রক্রিয়ায় ১৮৮৭’র ১১ নভেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হলো শ্রমিক নেতাদের। এঞ্জেল, ফিশার,পার্সনস এবং স্পিয়েস । চারজন শহীদ হলেন। তাদের রক্তে লাল হলো পতাকা। সেই থেকেই। শ্রমিকদের পতাকার রঙ স্থায়িভাবেই লাল হলো- হে মার্কেটের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত। দাবি আদায় হলো না;তৎক্ষণাৎ। কিন্ত লড়াই চলল। সারা পৃথিবী জুড়ে। নদীর নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের মতো। আট ঘণ্টার দাবি অর্জিত হবার পরেও। শ্রমিকদের অধিকারের দাবিতে, ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবিতে। দেশে দেশে লড়াই ছড়িয়ে পড়বার পাশাপাশি পরিবর্তন এল। শুধু ভূগোলে নয়,মর্মবস্তুতেও। আট ঘণ্টা কাজের দাবি ছিল মূলত অর্থনৈতিক দাবি। কিন্ত অর্থনীতি আর রাজনীতির মধ্যে তো চীনের প্রাচীর তুলে দেওয়া যায় না। আট ঘণ্টার দাবি অর্জিত হলেই তো শোষণ থেকে মুক্তি মেলে না। তার জন্য চাই দিন বদল, সমাজ বদল।শ্রমিকরা সহজাত ভাবেই সঙ্ঘবদ্ধ । তাই দিনবদলের লড়াইতেও তারাই স্বাভাবিক নেতা।শতাব্দী পেরিয়ে তাই শুধু শ্রমিক মহল্লা আর কারখানার গেটের ব্যাপার নয়; সমস্ত শ্রমজীবীদেরই প্রাণের দিন।

দুনিয়া জুড়ে

সারা পৃথিবী জুড়েই মিছিল-ব্যারিকেড। অবশ্যই পুরোভাগে শ্রমিকরা।সে প্রায় আড়াই দশক আগের কথা।ভেঙে পড়ল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। ক্রেমলিনের চূড়ো থেকে নেমে এল লাল পতাকা,ভাঙল লেনিন মূর্তি। উঠলো জয়োল্লাস। পুঁজিবাদই পৃথিবীর ইতিহাসের শেষ অধ্যায়। এতই সহজ! কর্পূরের মতো উবে যাবে শ্রম আর পুঁজির দ্বন্দ ! প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পুঁজির হামলায় সাময়িকভাবে হতচকিত হতে পারে, পিছু হটতেও হতে পারে;কিন্ত শ্রমিকদের আত্মসমর্পণ -অস্তিত্বহীন হয়ে পড়া –নৈব নৈব চ। চিরস্থায়ী পুঁজির শোষণ আক্ষরিকভাবেই অসম্ভব।

রাজনৈতিকভাবে বাধাবিঘ্নহীন বিশ্বায়ন।আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির নির্দেশনায় নয়া উদারবাদী ফাটকাবাজির দৌরাত্ম্য। দেশে দেশে বাড়তে থাকল বৈষম্য, বেকারী,দারিদ্র্য । আর সবচেয়ে বড় বলির পাঁঠা তো শ্রমিক আর শ্রমজীবীরাই। আর তারাই তো সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের কাজের হাত বেকার রেখে আর পেটের ভাত কেড়ে নিলে তো আর সমাজের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে না, পণ্যের চাহিদাও বাড়বে না।অতএব। ঋণ দিয়ে আর ফাটকাবাজি করে বড়জোর বেলুন ফোলানো যেতে পারে; কিন্ত একটা সময়ে তার ফেটে যাওয়াটাও অনিবার্য। মার্কস লেনিনের মূর্তি হটিয়ে দিলে তো রাজনৈতিক অর্থনীতির অমোঘ নিয়মটাকে বদলে ফেলা যাবে না।কবি লিখেছিলেন ‘গ্যালিলিওকে যতই চোখ রাঙাও না কেন, পৃথিবী ঘুরছে,ঘুরবেও’। সংকটহীন পুঁজিবাদ ‘সোনার পাথরবাটি’।

অমোঘ নিয়মে সংকট এল। ২০০৮ এ। তাসের বাড়ির মতো ভেঙে পড়ল সযত্নলালিত মিথ।সমসাময়িক পুঁজিবাদী তাত্ত্বিকদের গর্বোদ্ধত ঘোষণা ‘এর কোন বিকল্প নেই’ -‘এটা কোন বিকল্পই নয়’ এই পালটা সমবেত উচ্চারণে - ম্লান হয়ে গেল। গত প্রায় ৭-৮ বছর একই ছবি। উৎপাদনমুখী পুঁজি লগ্নিতেও টান।মন্দা, শ্লথগতি। কারণ শ্রমজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে চাহিদা তৈরি হবে কোথা থেকে ? আর মার্কিনিসহ পশ্চিমি সরকারগুলিও এই সংকট থেকে রাস্তা খুঁজে পেতে এই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দিকে ফিরে তাকাতেও চায় না;ফাটকাবাজি করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া মুমূর্ষু অতিকায় বহুজাতিক লগ্নী সংস্থাগুলির শরীর-স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দেবার ব্যাপারেই তাদের সমস্ত মনোযোগ।

ফলে ‘অস্টারিটি’-শ্রুতিমধুর পোশাকি নাম।কিন্ত এর আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে শ্রমিকদের যন্ত্রণার মর্মন্তুদ ইতিবৃত্ত। বেসরকারি লগ্নি সংস্থার বেপরোয়া ফাটকাবাজিতে লোকসানের দায়ভার মেটাবে সরকারি ‘গৌরী সেন’। আর সেটা নিশ্চিত করতে কোপ শ্রমজীবীদের মজুরিতে- সামাজিক নিরাপত্তায়। কৃচ্ছ্রসাধন- পেটে গামছা বাঁধা।

‘তাই বিদ্রোহ চারিদিকে,বিদ্রোহ আজ’ । তারই দিনপঞ্জিকা লেখা হচ্ছে হরতাল,মিছিল, ব্যারিকেডে। এথেন্স,মাদ্রিদ,লন্ডন,লিসবন,প্যারিস মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে । রকমফের আছে, কিন্ত মূলকথা ঐ একটাই মজুরি আর সামাজিক নিরাপত্তা;খাদ্য,বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য –নিজেদের আর পরিবার পরিজন সন্তান সন্তানসন্ততিদের।

কিন্ত এ বারের মে দিবসে একটি তফাৎ আছে। অর্থনীতির লড়াইয়ে রাজনৈতিক চেতনার যে মাত্রাটি স্পষ্ট হয়েছে , তা কেবলমাত্র রাস্তা বা কারখানার গেটে সীমাবদ্ধ নেই। এই প্রথম গ্রিসে একটি বামপন্থী সরকার তৈরি হয়েছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে; এবং অধিকাংশ মানুষ একতরফা কৃচ্ছ্রসাধন চাপিয়ে দেবার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, যার সামনের সারিতে ছিলেন শ্রমজীবীরাই। এই প্রবণতা দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে ইউরোপের অন্যত্র। স্পেন বা পর্টুগালে এটা বিশেষভাবে প্রকট। পৃথিবীর অন্যত্রও কিন্ত বর্তমান আন্তর্জাতিক নয়া উদারবাদী ব্যবস্থাপনা শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার জ্বলন্ত প্রশ্নগুলির সন্তোষজনক সমাধান করা তো দূরের কথা; আরো ভয়ংকর পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। কোথাও মৌলবাদী সন্ত্রাস, কোথাও শ্রমজীবী-বান্ধব সরকারগুলির সার্বভৌম অধিকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা- এসবই এবারের মে দিবসের সাম্প্রতিক চিত্রপট।কিন্ত এটাও পরিস্কার শ্রমজীবীরা যে লড়াইয়ে আছেন সেখান থেকে পশ্চাদপসরণের কোন লক্ষ্মণই নেই।

মোদীর ভারত

দেশের এমন কোন শ্রমিক মহল্লা নেই যেখানে লোকসভা নির্বাচনে মোদী প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রচার ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারেনি। হ্যাঁ, মাত্রার তারতম্য থাকতেই পারে;কিন্ত এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, সমাজের অন্যান্য অংশের মতোই শ্রমিকদের মধ্যেও সমাসন্ন ‘সুদিন’ নিয়ে একটি সদর্থক উৎসাহ ছিল। গত এক বছরে কিন্ত সেই আশার পরিবেশ শুধু যে ধাক্কা খেয়েছে তাই নয়; বরং মোদী সরকারের কর্পোরেটমুখী নীতি যা একই সঙ্গে শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠিত অধিকারগুলির উপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

গত এক বছরে মোদী সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ শ্রম আইনগুলির সংস্কার। এটি একেবারেই কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাহিদার প্রতিফলন। অর্থনীতিবিদ সি পি চন্দ্রশেখর সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে ভারতবর্ষের ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে খরচের মাত্র ৪% শ্রমিকদের মজুরি খাতে ব্যায়িত হয়। কিন্ত তাও চতুর্দিকে চিল-চিৎকার;শ্রমিকদের মর্জিমাফিক ছাঁটাই করবার স্বাধীনতা চাই।জলের দরে জমি-শ্রম;আর সঙ্গে মোদী ভাই। তাই বেপরোয়া আক্রমণের মুখোমুখি শ্রমিকের রুটি রুজি।

মোদী সরকার ঘোষণা করেছে রাজস্থান ই মডেল।ফ্যাক্টরি আইন,শিল্প বিরোধ আইন,চুক্তি শ্রমিক আইন আমূল বদলে রাজস্থান শ্রমিকদের অধিকার-রক্ষাকবচগুলি প্রত্যাহার করেছে।মধ্য প্রদেশ,অন্ধ্র প্রদেশ ইতিমধ্যেই তাদের রাজ্যের আইন সংশোধন করেছে;হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রও একই পদক্ষেপ নেবার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে।এই পরিবর্তনগুলি মালিকদের মরজিমাফিক ছাঁটাই’র স্বাধীনতা এবং ৭০% শ্রমিককে আইনি রক্ষাকবচগুলি থেকে বঞ্চিত করবে।বলাই বাহুল্য সরকার একতরফা যে ছোট শিল্প আইনের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে তাও একই উদ্দেশ্যে। এছাড়াও প্রভিডেন্ট ফান্ড,পেনশন বা স্টেট ইনশিওরেন্স আইন যে ভাবে সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে তাও সামাজিক নিরাপত্তার সীমিত ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেবে এবং ন্যূনতম পেনশনের ব্যবস্থাটিকে শেষ করে দেবে। এ সবই করা হচ্ছে লগ্নিপুঁজির দাবী মেনে। বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের লড়াই –অধিকারের উপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া, গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের বরাদ্দ ছাঁটাই হয়েছে বাজেটে –তাও নিশ্চিতভাবেই গ্রামীণ মজুরির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের আমলেই অর্থনীতির এই প্রবনতাগুলি স্পষ্ট ছিল।তার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলনে নতুন ধারার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মঞ্চ গড়ে উঠেছিল। মোদী বা বিজেপির উত্থানে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্ত নতুন সরকারের আমলে আশাভঙ্গের পর তীব্র আক্রমণের পর সেই ঐক্যবদ্ধ লড়াই কিন্ত খুবই গতি পেয়েছে। কয়লাখনি বেসরকারিকরণের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে, বীমা ক্ষেত্রে বিদেশী পুঁজির মাত্রায় সর্বোচ্চ সীমার বৄদ্ধি-এই সব ক্ষেত্রেই বিশাল শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে।কিন্ত এটা স্পষ্ট সরকার বদলালেও শ্রমিকদের অধিকারের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রে কোন ছেদ পড়েনি। কাজেই এবারের মে দিবসে শ্রমিকদের সামনে বড় প্রশ্ন কর্পোরেট বান্ধব নীতির বদলে খেটেখাওয়া মানুষকে কেন্দ্রে রেখে একটি বিকল্প নীতির জন্য শ্রমিকরা শপথ নেবে কী ?

আর একটি প্রশ্ন। আর এস এসের নেতৄত্বে হিন্দুত্বের প্রবল দাপাদাপি শ্রমিকদের ঐক্যকে প্রবল চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর হিন্দুত্ব কেবলমাত্র সংখ্যালঘু মুসলিমদের সামনেই নয়; দলিত,মহিলা বা অন্যান্য সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষকেও বড় প্রশ্নের সামনে ফেলে দিচ্ছে।সুতরাং ঐক্য এবং অধিকারের স্বার্থেই শ্রমিক আন্দোলনকেও এবারের মে দিবসে ঐক্য,সম্প্রীতি এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নটিকে সামনে নিয়ে আসতে হচ্ছে। কাজেই অধিকার রক্ষার চাহিদাই আজ শ্রমিকদের বাধ্য করছে অর্থনীতির সীমার থেকে বেরিয়ে ভাবতে।

মমতার পশ্চিমবঙ্গ

৩৪ বছর সরকারে ছিল বামপন্থীরা।কিন্ত শুধু সরকারে থাকার প্রশ্ন নয়৷অর্ধ শতাব্দী জুড়ে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করে জনসমর্থনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বামপন্থার৷সেই লড়াই একমাত্রিক ছিল না;রুটি রুজি,সমা্‌জ,সংস্কৄতি,চিন্তা,মনন-সব কিছু ঘিরেই ছিল বামপন্থার শিকড় পাওয়া শ্রমিকরা পেয়েছিল প্রতিকূলতার থেকে আত্মরক্ষার সহায়তা৷স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি ছিল দক্ষিণপন্থীদের চক্ষুশূল শুধু দক্ষিণপন্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে এগোনো মুশকিল!তাই চাই নতুন কোন উপাদান! সেই চাহিদা মেটাতেই মমতা এবং তৃণমূল!আপাত বামপন্থার মোড়কে!

অনেকেই ভুল বুঝেছিলেন। এমনকি কিছু বামমনস্ক মানুষও। তাদের ধারণা মমতা এবং তৃনমূলের কোন নির্দিষ্ট মতবাদ নেই৷নৈরাজ্যবাদী তারা৷কিন্ত নৈরাজ্য তো প্রকাশভঙ্গি।মতাদর্শগত একটি ভিত্তি তো থাকতেই হবে। আর মূল মতাদর্শগত উৎসটি খুঁজে পেতে একটি অব্যর্থ রাস্তা আছে সেই রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনের শ্রমিকদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কী?এই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে গেছে মমতা সরকার।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শ্রমিক-শ্রমিক আন্দোলনের উপর নিরবচ্ছিন্ন তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে মমতা সরকার। বিশেষ করে শ্রমিক-কর্মচারি ধর্মঘটের উপর৷সম্প্রতিতে এটা আরো স্পষ্ট হয়েছে চা শ্রমিক আর কয়লা শ্রমিক আন্দোলন-ধর্মঘটে। আর ঠ্যাঙ্গাড়ে বাহিনী দিয়ে শ্রমিক এবং তাদের ট্রেড ইউনিয়নের উপর হামলা তো নিত্যদিনের রোজনামচা। আগের আমলের অসংগঠিত ক্ষেত্রের সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্পগুলি সবই চলে গেছে ঠান্ডা ঘরে৷আর মোদী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যেমন ফুলে ফেঁপে উঠছে হিন্দুত্ব আর সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ;ঠিক তেমনই রাজ্য সরকারের ব্যবস্থায় দৃঢ় হচ্ছে সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িকতার বিষ। শ্রমিকদের ঐক্যও বিপন্ন।

তাই আহ্বান। আসে মাঠ ঘাঠ,বন পেরিয়ে৷ স্বৈরাচার আর অনৈক্যের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। আর কর্পোরেটমুখী আক্রমণাত্মক দক্ষিনপন্থার বিরুদ্ধে।

শেষ কথা

কিছু করার নেই। রাজপথই এখন রাস্তা। শুধু রুটি রুজির দাবি নয়;লড়াই করতেই হবে বিকল্প নীতির জন্য। ভারতের-পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের এটাই দায় এবছরের মে দিবসে। হে মার্কেটের শহীদদের কাছে এটাই রক্তঋণ।