উতল হাওয়া

২ অক্টোবর, ২০১৫

‘‘এক একটা জাতির ভাবগত আত্মপ্রকাশের এক একটি নিজস্ব মাধ্যম আছে। যেমন ইংরেজদের কবিতা ও নাটক, জার্মানদের সংগীত, রাশিয়ানদের উপন্যাস, জাপানিদের চিত্রকলা, সিংহল আর বলিদ্বীপের নাচ, ফরাসিদের নাটক ও চলচ্চিত্র, ভারতীয়দের তেমনি গান’’ বলেছিলেন সুধীর চক্রবর্তী। কথাটা মনে ধরেছিল উতল হাওয়ার সংগীতপ্রেমীদের। এবারে তাই ‘বিদ্যাপতি থেকে সলিল চৌধুরি বাংলাগানের ৬০০ বছর’কে সামনে রেখে আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রবীন্দ্রসদনে গানের উৎসব। উৎসবে উতল হাওয়া সম্মান জানাবেন তিন গুণী শিল্পীকে। তিনদশকের বেশি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রসারে, প্রচারে নিরলসভাবে কাজ করছেন বিজন মুখোপাধ্যায়, নজরুল সংগীতকে যিনি কোনদিন বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে নত হতে দেননি – আজীবন নজরুল সংগীত সাধক রামানুজ দাশগুপ্ত ও রবীন্দ্রগানই যার সারাজীবনের সঙ্গী – গায়কীতে যিনি অনন্য সেই অদিতি গুপ্তকে উতল হাওয়া সম্মানে সম্মানিত করা হবে। উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক নীতিশ মুখোপাধ্যায়।

শ্রেয়সীর শ্রেষ্ঠত্বের বাহার

দুর্লভ প্রতিভা। আড়াই বছর বয়সে প্রথম জানা যায়, দু’হাতেই বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ভাষায় লিখতে সিদ্ধহস্ত ছোট্ট মেয়েটি। আলোড়ন পড়ে যায় তখনই। নাম উঠে যায় ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ। সেই ছোট্ট মেয়েটি বড় হতেই তার প্রতিভার অন্য বিকাশ দেখা গেলো। খড়্গপুরের কৌশল্যা পাড়ার শ্রেয়সী দাসচৌধুরী এখন বাংলার যোগমহলের বিস্ময়। ১৮বছরের মেয়েটি সম্প্রতি বিশ্ব ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ হয়েছে। এও এক নজির। বাবা রণজিৎ দাসচৌধুরীই মেয়ের কোচ। জাতীয় পর্যায়ে নানা প্রতিযোগিতায় সফল শ্রেয়সী, বাড়ি থেকে পাড়ায় যাকে চেনে মৌলি নামে।

যোগাসনের তিনটি ভাগ, আর্টিস্টিক, ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপ, রিদিমিক — তিনটি স্তরেই নানা সাফল্য শ্রেয়সীর। একসময় টেবল টেনিসেও চ্যাম্পিয়ন ছিল। কিন্তু খড়গপুরের মতো জায়গায় সেইভাবে পরিকাঠামো নেই বলেই মেয়েকে যোগাসনে দেন। আর তাতেই চমক। বাবা সুরজিৎ অবসর প্রাপ্ত এন আই এস কোচ। একসময় স্কুল শিক্ষক ছিলেন, কিন্তু এখন মেয়েকেই ঘিরেই নানা স্বপ্ন আবতির্ত হচ্ছে। বহুবার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। নিজের অসচ্ছলতার জন্যই পাঠাতে পারেননি। তবে একবার রাশিয়া গিয়ে ফিটনেস চ্যাম্পিয়ানশিপে নজর কেড়েছিল এই প্রতিভাবান মেয়েটি। খেলাধুলার জগতে শ্রেয়সীরা যাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ, সেই রিষড়ার বাসিন্দা প্রাক্তন জাতীয় যোগবীর দামোদর চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘শ্রেয়সীরাই বাংলার সম্পদ। ওদের সাফল্যেই বাকিদের কাছে প্রেরণা। যোগ প্রসারের মাধ্যমে নতুন দিক উন্মোচন করার সময় এসেছে শ্রেয়সীদের।’

সুকুমারী

সুনীতি পাঠক বলেছেন, বেদ ও প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আর্থসামাজিক দিকটা সুকুমারীদি প্রথম দেখিয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকলে এখন ৯৫ হতেন। জীবনের শেষ দিনও ভাবনার দিক থেকে ছিলেন তরতাজা। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ছিলেন সামনের সারিতে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায়, মানবিক মূল্যবোধ ও নারীর অধিকারের প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে কলম ধরেছেন। নিজস্ব ভঙ্গিতে যুক্তিতে শান দিতেন। আগামী ২রা অক্টোবর তাঁকে নিয়েই যাদবপুরে ইন্দুমতি সভাঘরে বেলা তিনটে থেকে ছয় ঘণ্টার অনুষ্ঠান। আয়োজক তাঁরই শেষবেলার ভাবনার ভুবন ‘বারণরেখা’। সেদিন বারণরেখার সুকুমারী সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। উপস্থিত থাকবেন কবি শঙ্খ ঘোষ। ক্ষুধা ও অরণ্য বিষয়ক আলোচনায় সুনীতি পাঠক, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী, তপোধীর ভট্টাচার্য, অমিয় বাগচী, কানাই কুণ্ডু, নবনীতা দেবসেন, দীপক ভট্টাচার্য, মীরাতুন নাহার অংশগ্রহণ করবেন। একই বিষয় নিয়ে প্রণবেশ সান্যালের স্লাইড শো। সুকুমারী ভট্টাচার্য সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্যের সন্ধান পাওয়া যাবে বিশিষ্টজনদের কথায়। গানে গানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাবেন অলক রায়চৌধুরি, কোয়েল অধিকারী, তপতী বিন্দু, সুখবিলাস বর্মা। সেতারে শাম্ব।

নামের ফেরে

পেশায় চিকিৎসক। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। কিন্তু সেটাই সব নয়। কবি প্রাবন্ধিক গবেষক ও পত্রলেখক হিসাবে খ্যাতি দেশজুড়ে। সিঙ্গুরের মানুষ। সেখানে প্রস্তাবিত ন্যানো কারখানা তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর থেকে সি পি আই (এম) সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ডাঃ অসিত দাস। একসময় মেডিকেল কলেজের দেওয়াল পত্রিকা ‘কলাপী’তে নিয়মিত লিখতেন। এবার ‘নামের ফেরে’ শিরোনামে বঙ্গসংস্কৃতি ও স্থাননাম বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ পাঠকের দরবারে তুলে দিয়েছে। দেশবিদেশের নহু পণ্ডিত কলকাতার ইতিহাস নিয়ে চর্চা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ অতিখ্যাত। সেইসব ইতিহাসবিদকে স্মরণে রেখে এই বইটিতে ডাঃ দাস বিকল্প চিন্তার সন্ধান করেছেন। তাঁর মতে ‘হারমাদ (হার্মাদ) সম্পূর্ণ বাংলা শব্দ।’ লিখেছেন ‘হারমাদ’ শব্দের অর্থ হলো বিষ্ণুপ্রেমে যারা মত্ত বা মোহগ্রস্ত। অর্থাৎ বৈষ্ণব সম্প্রদায় বিশেষ। তাঁর ব্যাখ্যা একসময় চৈতন্যের নাম সংকীর্তনের জোয়ারে সমাজের নিম্নবর্গীয় মানুষ মুচি, হাঁড়ি, ডোম সকলে প্রভাবিত হয়েছিল। এই গণ-উন্মাদনা দেখে তৎকালীন মুসলিম শাসক চাঁদ কাজি চৈতন্যকে ফাটকে পোরার মতলব করেন। কিন্তু গৌরীয় বৈষ্ণবদের গণঅভ্যুত্থান চাঁদ কাজির প্রাসাদ ঘিরে ফেললে অত্যাচারী শাসক চৈতন্যের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয়। মজার কথা হলো পরবর্তীকালে পর্তুগিজ জলদস্যুদের চাঁদকাজির উত্তরসূরি মুসলিম শাসকরা ‘হার্মাদ’ নামেই ডাকতো। এরকম অজস্র মণিমুক্তো, নানা অজানা আকর্ষণীয় তথ্য ছড়িয়ে আছে নামের ফেরে গ্রন্থটিতে। মুখবন্ধে সাংবাদিক একরাম আলি জানিয়েছেন ‘বাংলা শব্দভাণ্ডারের দুর্জ্ঞেয় অঞ্চলে প্রবেশের নতুন কিছু পথনির্দেশ দেবে।



শুধুই ইন্দ্রকল্প

জাদুকর! দারুণ ক্ষমতা। নিজের খুশিমতো কত কি করতে পারেন। যেন অদ্ভুত এক জগতের মানুষ। কিন্তু তাদেরও নিয়মের মধ্যে থাকতে হয়। যিনি যত দক্ষ এবং অনুশীলনের মধ্যে থাকেন তিনি তত বেশি জাদুর মধ্যমে মানুষের মন জয় করতে পারেন। ইন্দ্রকল্প এখন জাদুকর ইন্দ্রকল্প নামে জাদুর জগতে দাপটের সঙ্গে নিজের যায়গা পাকা করে নিয়েছেন। বেশ কয়েকবছর আগের কথা টুয়েলভ পাশ করে কলেজ। স্ট্রিট ম্যাজিশিয়ানের খেলা তাকে আকৃষ্ট করে। খেলা দেখার পর ৩৭ টাকার সরঞ্জাম কিনে তা দিয়েই খেলা দেখানোর শুরু। ইলেকট্রনিক সায়েন্স নিয়ে ইন্দ্রকল্প এম এস সি করে। তার আগ্রহকে উৎসাহ দিতে এগিয়ে আসেন বাবা। এম এন মুখোপাধ্যায়ের কাছে প্রশিক্ষণ। তিনিই ইন্দ্রকল্পের প্রকৃত শিক্ষা শুরু। সেই থেকে পথ চলা। দলবদ্ধ প্রযোজনা। চাই নিয়মিত অনুশীলন। মঞ্চের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জাদুর ক্ষেত্রে সামান্য একটা সেকেন্ডও ভীষণ প্রয়োজনীয়। দরকার অসম্ভব ভালো সমন্বয়। জাদুকরকে সহযোগিতার জন্য ২০জন সুদক্ষকর্মী আছেন। এই দলে নানা পেশার মানুষজন আছেন। কেউ হোটেল কর্মচারী, কেউ বেলুন বিক্রি, কেউবা এখনও ছাত্র। সপ্তাহে কম করে বারো ঘণ্টা এই মহলা চলে। সবার সঙ্গে সবার সুসম্পর্ক জাদু প্রদর্শনের সময় অনুভব করা যায়। থ্রি ঘোস্ট অফ কলকাতা, ইমপেলড, কার্স অফ ক্রিমিয়া, ক্যানন ইল্যুশন, রকেট ইল্যুশন, ইলাসটিক লেডি, সেল্ফ স-ইং, ব্ল্যাক আর্ট, এক্স-রে আই, টেম্পেল অফ বেনারস, অ্যামোজিং জোকার-এর মতো আরও অনেক জাদু ইন্দ্রকল্পের ভাণ্ডারে আছে। ভারতবর্ষে এই প্রথম মঞ্চে হেলিকপ্টার ইল্যুশন আনতে চলেছে জাদুকর ইন্দ্রকল্প। তাক লাগানো একের পর এক খেলা। ইন্ডিয়ান, ইজিপ্সিয়ান, ব্রিটিশ ,জার্মান সহ বিভিন্ন দেশের জাদুর খেলাই ইন্দ্রের ভাণ্ডারে মজুত। গুরুর কাছে শেখা এই খেলাগুলোকে নিজের মতো মডারেট করে নিয়েছে। পড়াশোনা আর নিয়মিত চর্চা ভীষণ দরকার। ইন্দ্রের শিহরণ জাগানো জাদু দর্শকদের মুগ্ধ করছে। সাড়া পাচ্ছে। আর এখানেই নজরে পড়ে যাচ্ছে বিশিষ্ট কোন জাদুকরের। রাজা যায় রাজা আসে। এটাইতো নিয়ম। মেনে নিতে হয়।

গণনাট্য উৎসব

দুর্যোগের কালোমেঘ সরিয়ে নতুন বসন্তের সন্ধানে গণনাট্য উৎসব। চারিদিকে খুন জখম সন্ত্রাস। আক্রান্ত গণনাট্য শিল্পীরা। তবু থেমে থাকা নয়। নয় চুপ করে থাকা। শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এই শহরে আবার সংঘের কলকাতা জেলা কমিটির উদ্যোগে তিনদিনের গণনাট্য উৎসব। আগামী ২৪, ২৫, ২৬সেপ্টেম্বর তিনদিনের উৎসবে থাকছে গণসঙ্গীত, পথনাটক, মঞ্চনাটক, শ্রুতিনাটক এবং নাচে গানে আবৃত্তির কোলাজ ‘এসো অপরাজিত বাণী, অসত্য হানি’। সুজাতা সদনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন শুভংকর চক্রবর্তী। উপস্থিত থাকবেন প্রবীণ গণনাট্য শিল্পী শিশির সেন ও অমল গুহ। দ্বিতীয় দিন দুটি একাঙ্ক নাটক। স্পন্দন শাখার ‘বন্দীশালার ডাক’ ও উন্মেষ শাখার ‘ইচ্ছে ডানা’। শেষ দিন রাণুছায়া মঞ্চে প্রান্ত্রিক শাখার ‘নো প্রবলেম’ ও ইস্ক্রা শাখার ‘আদাব’ পথনাটক, আবৃত্তিতে রজত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গণসঙ্গীতে অংশ নেবেন পূরবী মুখোপাধ্যায়, শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার সহ আরও অনেকে।

গান গানে সৌপ্তিক

সৌপ্তিক সাধারণ শিল্পী নন, বিশেষ শিল্পী। কারণ আমরা সাধারণেরা যা পারি সৌপ্তিক তার কিছুই পারে না। একমাত্র গানটাই অসাধারণ করতে পারে সৌপ্তিক। এতটাই অসাধারণ যে, আকাশবাণীতে সাধারণ সুস্থ শিল্পীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সে এখন বি গ্রেড শিল্পী। সৌপ্তিক একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। মনোবিকাশ কেন্দ্রের ছাত্র। একমাত্র গানই ওকে বাঁচিয়ে রেখেছে। গান নিয়ে বড় হওয়ার, বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে সৌপ্তিক। জন্ম থেকেই শারীরিক অসুস্থতাকে সঙ্গী করে বেড়ে ওঠা। বয়স যখন ৪-৫ তখন কথা বলা শুরু। কিন্তু কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিতে পারে না। কারও দিকে সোজা করে তাকাতে পারে না। প্রচণ্ড বদমেজাজি। একরকম বাধ্য হয়েই মা-বাবা সৌপ্তিককে বেঁধে রাখতেন। একমাত্র সন্তানের এই অবস্থায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মা-বাবা একদিন বিস্ময়ের সঙ্গে আবিষ্কার করেন গান শুনলে সৌপ্তিক একেবারে শান্ত হয়ে যায়। টানা তাকিয়ে থাকে গানের উৎসের দিকে। বাড়িতে মা-বাবা রবীন্দ্রসঙ্গীত বেশি শুনতেন, সেজন্য কিনা জানা যায়নি, তবে রবিঠাকুরের গানে সৌপ্তিক সবচেয়ে বেশি শান্ত হয়ে বসে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে মানসিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। অসহায় মা-বাবা ভাবেন ছেলে তো কিছুই পারে না। গানের দিকে যখন নজর তখন গান শেখানো চেষ্টা করা যাক। ১৯৯৫সালে সঙ্গীত শিক্ষিকা তনিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গান শেখার জন্য নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষিকার গান মন দিয়ে শুনতো কিন্তু গাইতে পারতো না। চুপ করে বসে থাকতো। একদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে সম্পূর্ণ একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে ওঠে সৌপ্তিক। বাড়িতে সারাদিন রবীন্দ্রসঙ্গীত চালিয়ে রাখা হয়। সেসব গান শুনে শুনে গাইবার চেষ্টা যাকে বলে একান্তে গান শেখার সূত্রপাত।

গানের বাইরে গল্প কবিতা সৌপ্তিক শোনে কিন্তু মনে রাখতে পারে না। একমাত্র গান মনের দরজা দিয়ে অন্তরে আশ্রয় নেয়। এমনকি স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারির তফাত বুঝতে পারে। বললে কখনও কখনও গাইতেও পারে। মিনতি লাহার কাছে রবীন্দ্রনাথের ধ্রুপদাঙ্গের গানের তালিম দেওয়া হয়। ভালোই উন্নতি করতে থাকে। এমনকি হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইতে শিখে যায়। এরপর অলক রায়চৌধুরি ও শুভ্রকান্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে গানের শিক্ষা। কল্যাণ সেন বরাট সৌপ্তিকের গান শুনে নিজে দায়িত্ব নেন। স্বাভাবিক ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসিয়ে নিয়মিত গান শেখাতে থাকেন। আজও যে ছেলে চার লাইনের পড়া মুখস্থ করতে পারে না তার গানের ভাণ্ডারে প্রায় চারশো গান ঘোরাফেরা করে। সৌপ্তিকের পাশে কেউ ভুল গান গাইলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে ওঠে, সংশোধন করে দেয়। সেই সৌপ্তিকের গলায় এবার রবীন্দ্রনাথের দশটি গান নিয়ে প্রকাশিত ‘তোমায় শোনাব গীত’। সে গান একবার শুনলে যে কোনও শ্রোতা উদগ্রীব হয়ে থাকবে আরও গান শোনার জন্য।

Featured Posts

Advertisement