মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়

ডাঃ এ. মজুমদার

২০ জানুয়ারী, ২০১৬

যদিও মাইগ্রেন কখনও-সখনও খুব ছোটো বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যায়, তবে মূলত বয়ঃসন্ধিকালেই এর লক্ষণ বা প্রভাব বেশি দেখা যায়। তবে মাইগ্রেন হলে ফেলে রাখবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলুন।

নির্দিষ্ট সময় অন্তর আধ-কপালি মাথার যন্ত্রণা যদি ফিরে ফিরে আসে এবং সাথে বমি বমি ভাব থাকে তা অনেক ক্ষেত্রেই মাইগ্রেনের যন্ত্রণা হতে পারে। এক্ষেত্রে মূলত দপদপে অসহ্য মাথার যন্ত্রণা ও চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায় বলে মনে হয়। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই যন্ত্রণা শুরু হতে পারে। তবে সব সময়েই যে মাথার একপাশে যন্ত্রণা শুরু হবে এমনটা নাও হতে পারে। অর্থাৎ অনেক সময় কপালের দু’পাশে মাথার পিছন দিকে অথবা গোটা মাথাতেই অসহ্য যন্ত্রণা হয়। পরিসংখ্যান অনুসারে সাধারণত ২০ শতাংশ মহিলা এবং ৬ শতাংশ পুরুষদের ক্ষেত্রে রোগটি লক্ষ্য করা যায়। মূলত ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেই মাইগ্রেনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অনেকে মনে করেন মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন। কিন্তু সব মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়।

কারণ :—

যদিও মাইগ্রেন কখনো-সখনো খুব ছোটো বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যেও লক্ষ্য করা যায়, তবে মূলত বয়ঃসন্ধিকালেই এর লক্ষণ বা প্রভাব বেশি দেখা যায়।

মস্তিষ্কের রক্তনালীর অস্বাভাবিক সংকোচন বা প্রসারণ অথবা সংকোচন-প্রসারণ পর্যায়ক্রমে হতে থাকলে এই রোগ হতে পারে।

মানসিক ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, হতাশা, চাপ প্রভৃতি মানসিক রোগও অনেক সময় মাইগ্রেনের যন্ত্রণা শুরু হওয়াকে ত্বরান্বিত করে।

অতিরিক্ত মানসিক বা শারীরিক পরিশ্রম, অনিয়মিত খাদ্যাভ‌্যাসের জন্য যন্ত্রণা শুরু হয়।

দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করলে কিংবা অতিরিক্ত আলো শব্দের প্রভাবেও এই যন্ত্রণা শুরু হতে পারে।

সাধারণত পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে এই রোগটি বেশি লক্ষ্য করা যায়।

অনেকক্ষণ ধরে টিভি দেখলে, কম্পিউটারে কাজ করলে বা বই পড়লে অথবা সুক্ষ্ম কাজ যেখানে চোখের উপর অস্বাভাবিক বা অত্যধিক চাপ পড়ে, তা থেকেও এই যন্ত্রণা শুরু হতে পারে।

বংশগত কারণও এই রোগের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

দীর্ঘদিন ধরে কনট্রাসেপটিভ পিল ব্যবহার করলে তার থেকে এই ধরনের যন্ত্রণা হবার সম্ভাবনা থাকে।

কিছু জেনেটিক ডিসঅর্ডারের কারণেও এই রোগ হতে পারে।

কিছু কিছু নিউরোপেপটাইড্‌স যেমন 5HT হিস্টামিন, সেরোটোনিন প্রভৃতির ক্ষরণের কারণেও মাইগ্রেনের যন্ত্রণা হতে পারে।

পনির, চকোলেট, কফি, মদ্যপান, ধূমপান মাইগ্রেনের যন্ত্রণার উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

টাইপ :—

ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেন।

কমন মাইগ্রেন।

এসেফালজিক মাইগ্রেন।

কমপ্লিকেটেড মাইগ্রেন।

সিস্টেমিক মাইগ্রেন।

স্ট্যাটাস মাইগ্রেন।

লক্ষণ :—

যন্ত্রণা হঠাৎ করেই শুরু হয়। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে কখনও কখনও টানা ১ থেকে ২ দিন যন্ত্রণার প্রভাব চলতে থাকে।

দুর্বলতা থাকে, ক্রমাগত হাই ওঠে।

সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই যন্ত্রণা শুরু হয়।

গা বমি ভাব, ঝিমুনি ভাব, দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা প্রভৃতি লক্ষ্য করা যায়।

কখনও আবার নাগাড়ে বমি হয়, ক্লান্তি থাকে, গা হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়, শরীরে ঘাম হতে থাকে।

আলো, শব্দ অথবা নড়াচড়া করলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়।

রোগী সাধারণত অন্ধকার ঘরে, চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে। এতে তার কষ্ট কম হয়।

অনেক ক্ষেত্রে দিনের যে-কোনও সময় এমনকি রাত্রেও যন্ত্রণা শুরু হয়।

চোখের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা, চোখে জল আসা প্রভৃতি লক্ষণগুলি দেখা যায়।

মাথা টিপে দিলে বা কিছুদিয়ে বেঁধে রাখলে আরাম বোধ হয়।

করণীয় :—

পনির, চকোলেট, মদ্যপান, ধূমপান, কফি প্রভৃতি বর্জন করতে হবে।

যন্ত্রণা শুরু হলে রোগীকে শান্ত পরিবেশে, অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম নিতে হবে।

উগ্র ও ঝাঁঝালো গন্ধ, তীব্র আলো, শব্দ প্রভৃতি পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

পাঁঠার মাংস, ডিম প্রভৃতি কম খাওয়াই শ্রেয়।

অত্যধিক শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করা চলবে না।

‍‌রোদে বেরলে টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত।

দীর্ঘ সময় টিভি দেখা, কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন কিংবা ছোটো লেখা পড়া চলবে না।

কোনো ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে, চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই নিশ্চিত হতে হবে যে সেই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই যন্ত্রণা শুরু হচ্ছে কিনা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

জটিলতা : অবসন্নতা ও চোখের রোগের জটিলত আসতে পারে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা : Complete Blood Count (CBC), প্রয়োজনে C T Scan of Brain করতে হবে।

যোগাযোগ : ৯৮৭৪২২৭৯৩২/৯১৬৩২৬৪২১৫

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement