অকালে বুড়িয়ে যাবেন না

৮ মার্চ, ২০১৭

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে আসে। দুপুরের চড়া রোদ্দুরে দিনের পর দিন ঘোরাঘুরির ফলে মুখে, ঘাড়ে, কালো দাগ দেখা দেয়। চিকিৎসার পরিভাষায় একে সানবার্ন বলা হয়। আবার গর্ভাবস্তায় স্ট্রেচমার্ক সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে যায়। কিন্তু এসব নিয়ে মন খারাপের আর কোনো কারণ নেই। আজকের উন্নত চিকিৎসায় লেসার পদ্ধতিতে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফের ফিরে আসে। এ কথা জানালেন এস এস কে এম হাসপাতালের ত্বক বিভাগের প্রাক্তন প্রধান, অধ্যাপক ডাঃ রথীন্দ্রনাথ দত্ত।

কালো দাগ দূর হটো

আজকের দিনে কাজের প্রয়োজনে রোদ্দুরে বেরোতেই হয়। এ সময়ে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে ও শরীরকে রাখতে হবে ছাতার আড়ালে। কিন্তু এও বাস্তব যে সবসময় ছাতা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না আর দুপুরের প্রখর সূর্যালোকের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির হামলাকে পুরোপুরি আটকাবার ক্ষমতা কোন সানস্ক্রিন ক্রিমেরই নেই। সেইজন্যই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই মুখে ঘাড়ে দেখা যায় কালো ছোপ বা দাগ। চিকিৎসার পরিভাষায় এগুলির নাম সানবার্ন। বিশেষত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেও ফ্ল্যাট মোলস বা ফ্রেকলস জাতীয় সানবার্ন কারো কারো ক্ষেত্রে ফুটে ওঠে। আজকের উন্নত ‍‌চিকিৎসা পদ্ধতিতে এ‍‌ই কালো দাগ মিলি‌য়ে যায়। তাই ‘এটা ওটা’ না করে প্রথমেই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এইসব কালো দাগ দূর করতে লেসার ট্রিটমেন্ট যথেষ্ট কার্যকর বিশেষত Q-Switched NDYag লেসার ট্রিটমেন্টে মাত্র কয়েকটি সিটিং—এই কালো দাগগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিলিয়ে যায়।

ব্রণর বিড়ম্বনা : বয়ঃসন্ধিতে বা তার একটু পরে ব্রণ হয়নি এরকম মানুষ বিরল। অতিরিক্ত ব্রণ হলে বা ব্রণতে কষ্ট পেলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসারে মেডিকেটেড ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত ব্রণতে সংক্রমণ এড়াতে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিকেরও প্রয়োজন পড়ে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্রণ থেকে নিষ্কৃতি মেলে। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে ব্রণ রেখে যায় স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন বা গভীর দাগ। ব্রণর এ‍‌ই স্মৃতি নিয়ে সারাজীবন বিড়ম্বিত হবার দিন শেষ হয়ে গেছে, আজকের মডার্ন লেসার ট্রিটমেন্টে ব্রণর প্রায় সব দাগই মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব। প্রাঞ্চগ্রাফ্ট, মাইক্রোডার্মা অ্যাব্রেরেশান, ডার্মারোলার পাঞ্চফ্লোট সাবসিশান ইত্যাদি চিকিৎসা খুবই কার্যকর। এই চিকিৎসায় ত্বকের Laser Re-surfacing করা হয় বলে কোন দাগই দেখা যায় না। তবে এ‍‌ই চিকিৎসায় ফ্র্যাকশনাল CO2 Laser ট্রিটমেন্ট সর্বাপেক্ষা বে‍‌শি কার্যকর। একটু ধৈর্য সহকারে এই স্ক্রিন ট্রিটমেন্ট করালে সব দাগই দূর হয়ে যায়।

চুল নিয়ে ভুল নয় : বেশিরভাগ মানুষই ভুলে যান চুল আমাদের শরীরেরই অংশ। সেইজন্য চুলের সমস্যায় বিউটি ক্লিনিকে নয় ত্বক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছেই যাওয়া উচিত। চুল পড়ে যাওয়া মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। বংশগত টাক বা অ্যালোপেশিয়া অ‌্যান্ড্রোজেনেটিকা ছাড়াও প্রোটিনের অভাব, ভিটামিন ডেফিসিয়েন্সি, টাইফয়েড বা অন্য কোনো অসুখ ইত্যাদির কারণে চুল উঠে যেতে পারে। একজন ডার্মাটোলজিস্ট এর উপযুক্ত চিকিৎসা করতে পারেন। আজকাল বংশগত টাকের চুল পড়াও বন্ধ করা যাচ্ছে। এছাড়া মাথার চুল পড়তে থাকলে বা চুল কমে গেলে ডার্মারোলার বা পি আর পি থেরাপির মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসায় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্ট্রেচমার্ক এড়াতে : গর্ভাবস্তায় পেটের স্ট্রেচমার্ক অনেক সময় পরবর্তী বাকি জীবনে সৌন্দর্যের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই একইরকম বিব্রত বোধ করেন কোন আঁচিল, জরুলের মতো জন্মচিহ্ন কিংবা চিকেনপক্স, ব্রণ বা অ্যালার্জির কোন দাগের কারণে। তবে এসব এখন আর কোন সমস্যার পর্যায়ে পড়ে না। আজকের আধুনিক Derma Roller ও CO2 Laser ট্রিটমেন্টের সাহায্যে সব ধরনের দাগ দূর করে ত্বককে আবার স্বাভাবিক করে তোলা সম্ভব।

অবাঞ্ছিত লোমকে বিদায় জানান : পলিসিস্টিক ওভারি এবং জিনগত কারণে অনেক সময়ে মহিলাদের ঠোঁটের উপরে, গালে বা হাতে পায়ে লোম দেখা যায়। এই সব অবাঞ্ছিত লোম নিয়ে অনেকে হীনমন্যতায় ভোগেন। বিউটি পার্লারের থ্রেডনিং বা ওয়াক্সিং পদ্ধতিতে এ‍‌ই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না, কিন্তু অত্যাধুনিক লেসার ট্রিটমেন্টে লেসার রশ্মি অবাঞ্ছিত লোমের হেয়ার ফলিকলগুলিকে নষ্ট করে দেয় বলে নতুন করে আর লোম বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গজায় না। প্রয়োজন অনুসারে মাত্র কয়েকটি সিটিং নিলেই এ‍‌ই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সোরিয়াসিস :সোরিয়াসিস একটি ত্বকের অসুখ। এই অসুখে হাত বা পায়ের ত্বক ফেটে যায়। ত্বকের উপরের স্তর স্বাভাবিক সময়ের আগে বৃদ্ধি পায় ফলে আঁশের মতো ত্বক চকচক করে। চামড়া উঠতে থাকে। কখনো বা ফেটে রক্ত বেরোয়। প্রথমেই বলে রাখা ভালো যতই বিজ্ঞাপনের চমক থাকুক এই অসুখ সারে না। তবে উপযুক্ত ত্বক বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়মিত চিকিৎসায় ডায়বেটিস, হাইপার টেনশনের মতোই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অকালে বুড়িয়ে যাবেন না : সবশেষে বলি বেশি বয়সে উজ্জ্বল ত্বককে আবার ফিরে পাবার গোপন কথা। গাছের কাণ্ডের ভেতরের মতোই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে, ঔজ্জ্বল্য কমে যায়। দেখা যায় বলিরেখা বা রিঙ্কল। তিন থেকে ছয় মাসের নিয়মিত লেসার ট্রিটমেন্টে এসবই দূর হয়ে যায়। ফিরে আসে আবার যৌবনের ত্বকের কমনীয়তা, লেসার ছাড়া বা একসঙ্গে কেমিক্যাল পিলিং, পি আর পি ‍‌, বোর্টক্স ইত্যাদি ট্রিটমেন্টেও বার্ধক্যকে দূরে রাখা যায়।

যোগাযোগ: ৯১৫৩৩১৯৮৪২

Featured Posts

Advertisement