দাগহীন অপারেশন

৮ মার্চ, ২০১৭

‘স্কারলেস’ অর্থাৎ দাগহীন। এই দাগহীন ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি এখন কলকাতাতে হচ্ছে। এ ধরনের অপারেশনে যন্ত্রণা, ব্যথা অনেকটাই কম বলে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কারণ, কোনও মানুষই তাঁর শরীরে দাগ দেখতে পছন্দ করেন না। ওপেন সার্জারি করলে শরীরে দাগ থেকে যায়। তাই মানুষ দাগমুক্ত হতে এ-ধরনের অপারেশনে আগ্রহী। জানাচ্ছেন বিশিষ্ট ল্যাপারোস্কোপিক সার্জেন ডাঃ সঞ্জয় মণ্ডল। লিখলেন অশোক সেন।

‘স্কারলেস’ ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে গলব্লাডার স্টোন অথবা অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের ক্ষেত্রে পেটে ৩-৪টি ফুটো বা ছিদ্র করা হয়। পেটে থেকে যেত সেই ফুটোর দাগ। কিন্তু ‘স্কারলেস’ বা দাগহীন ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি একটু আলাদা। কারণ, এই সার্জারি করা হয় শরীরে কোনওরকম ফুটো না-করে। যদি দরকার পড়ে তাহলে নাভির কাছে পাঁচ এম এম মাপের একটি ছিদ্র বা ফুটো করা হয়। এই পদ্ধতিতে জরায়ুর রাস্তা দিয়ে বের করে আনা হয় স্টোন বা অ্যাপেন্ডিক্স। তবে বর্তমানে এই সার্জারি শুধু মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে সকল মহিলাদের বয়স ১৮থেকে ৫০-এর মধ্যে তাঁদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে অপারেশন করা হচ্ছে। তবে মনে রাখা দরকার, যে সকল মহিলাদের সন্তান হয়ে গেছে, সেই সমস্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে গলব্লাডার ও অ্যাপেন্ডিক্স সার্জারির ক্ষেত্রে এটি বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে। খরচ পড়বে সাধারণ ল্যাপারোস্কোপিক থেকে প্রায় ১৫শতাংশ বেশি। অর্থাৎ ৬০থেকে ৬৫হাজারের মতো।

এই ধরনের সার্জারিতে সুবিধা হলো, শরীরে দাগ হয় না, সংক্রমণ হবার প্রবণতা থাকেই না। হার্নিয়া হবার সম্ভাবনা নেই। হাসপাতালে থাকতে হয় না। রোগী চাইলে সার্জারির পর সেদিনই বাড়ি চলে যেতে পারেন। তবে যেহেতু বর্তমানে অনেকের মেডিক্লেম করা থাকে তাই একদিন থাকা ভালো। না-হলে তেমন প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণত নিত্যদিন যা খাওয়া-দাওয়া করেন, সেই খাবারই খেতে হবে। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খাবেন। তাছাড়া তাড়াতাড়ি অফিসে বা কাজে যোগ দিতে কোনওরকম অসুবিধা হবে না। সাধারণত ৫-৭দিন বিশ্রাম নিলেই হবে। তবে দিনসাতেক পর কাজে যোগ দিলেও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বা ভারী কাজ না-করাই ভালো। ধীরে-ধীরে গা-সওয়া হয়ে গেলে তবে ভারী কাজ করলে ভালো হয়। বলতে কি, খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব। প্রথমেই বলেছি, এই ‘স্কারলেস’ সার্জারিতে বেদনা কম। খুব কম সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব। তবে দিন পনের বা তারও কয়েকদিন পর সহবাস করলে কোনও অসুবিধা হবে না।

হাইপারটেনশন বা ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ‘স্কারলেস’ সার্জারি করা সম্ভব। তবে সব দিক মাথায় রেখে তাঁদের নিয়মিত চেকআপ করার পর হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে তবেই অপারেশন করা হয়। তবে কোনও রোগীর হার্টের রোগ বা করোনারি ডিজিজ থাকে তাহলে এই সার্জারি করা সম্ভব নয়। সাধারণত কলকাতায় এই ধরনের সার্জারির তেমন প্রচার নেই বলে অনেকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

ইতিমধ্যে ‘স্কারলেস’ সার্জারি হায়দরাবাদ, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ের মতো জায়গায় দারুণ জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে কলকাতায় এই সার্জারির সংখ্যা খুবই কম। কারণ, রোগীদের এই বিষয়টা বোঝানোই দুষ্কর। আশার কথা, কখনো-সখনো মহিলারা এই ধরনের অপারেশনে আগ্রহী। কারণ, এই অপারেশনের পর শরীরে কোনওরকম দাগ থাকে না।

যোগাযোগ : ৯৮৩৬০ ৬৬৩২০

Featured Posts

Advertisement