ডায়াবেটিসে নতুন ওষুধ

ডাঃ আশিস মিত্র

৮ মার্চ, ২০১৭

 ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নতুন কি ওষুধ এসেছে?

উত্তর : নতুন ধরনের ইনসুলিন এবং উন্নতমানের ওষুধ এসেছে যা নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে ভাবা হচ্ছে।

 নতুন ইনসুলিন মানে কি ইনজেকশন ছাড়া?

উত্তর : না, ইনজেকশনের মাধ্যমেই নিতে হবে, কিন্তু একদিন অন্তর বা সপ্তাহে তিনবার। এর নাম ইনসুলিন Degludec. এটা টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ব্যবহার করা যায়। টাইপ ২ ডায়াবেটিসে অনেক দিন হয়ে গেলে ওষুধে ঠিক মতো কন্ট্রোল হতে চায় না। তখন নিয়মিত খাওয়ার ওষুধের সঙ্গে একদিন অন্তর এই ইনসুলিন নিলে ভালো কন্ট্রোল হবে।

 অনেক দিন হয়ে গেলে কি ওষুধ কোনো কাজ করে না?

উত্তর : না, ওষুধ কাজ করতে হলে শরীরে অবশিষ্ট ইনসুলিন কতটা আছে তার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস থাকলে অগ্নাশয়ে ইনসুলিন আর থাকে না বললেই চলে, তখন ওষুধের সঙ্গে দিনে একবার হলেও ইনসুলিন নিতে হবে।

 এমন ওষুধ নেই যা ইনসুলিন থেকে মুক্তি দিতে পারে ?

উত্তর : এটা নির্ভর করে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের ওপর। অনেকে নিয়মিত হেঁটে, খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে, ধূমপান ছেড়ে দিয়ে ২০-২৫ বছর দু-একটা ওষুধ খেয়ে ভালই আছেন। তবে ১৫-২০ বছর হয়ে গেলে ইনসুলিন লাগতে পারে। তবে নতুন ওষুধ আসছে, সেগুলো ব্যবহার হলে বোঝা যাবে যে কতটা কার্যকর।

 অনেক সময় ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য একাধিক ওষুধ খেতে হয় কেন?

উত্তর : তার কারণ হলো বিভিন্ন ওষুধের কর্মক্ষমতা বিভিন্ন। কেউ অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন ক্ষরণ করতে সাহায্য করে, কেউ বা লিভার থেকে গ্লুকোজ উৎপাদনে বাধা দেয়। খাবার পর আমাদের খাবারের মাধ্যমে যে শর্করা রক্তে প্রবেশ করে তাতে বাধা দেয়। কেউ বা আমাদের অগ্ন্যাশয়ে অবশিষ্ট ইনসুলিন যাতে ঠিক মতো কাজ করে সেই দিকটা খেয়াল রাখে। আর নতুন এক ধরনের ওষুধ আসছে যা মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে গ্লুকোজ বার করে দেবে। তাই প্রথমে ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তখন একটা ওষুধ লাগলেও পরের দিকে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য একাধিক ওষুধ লাগতে পারে।

 আচ্ছা পায়োগ্লিটাজোন কি ব্যবহার করা ঠিক?

উত্তর : পায়োগ্লিটাজোন অনেক বছর ধরে আমাদের দেশে এবং বিদেশে ব্যবহার হচ্ছে। দুই-একটা স্টাডি ছাড়া সেরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে হার্ট ফেলিওর, রক্তাপ্লতা, কিডনির সমস্যা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। যেহেতু দাম খুবই কম আমাদের দেশে এটি বেশ কার্যকর ওষুধ। তাছাড়া প্রি-ডায়াবেটিস স্টেজে যদি এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তাহলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

 নতুন ওষুধগুলি কি খুব দামি হবে?

উত্তর : নতুন কিছু ওষুধ সত্যিই দামি। Bromocriptine নামে একটা ওষুধ অনেক দিন ভারতবর্ষে এসেছে যা মোটা টাইপ ২ ডায়াবেটিসে বেশ কার্যকর ওষুধ। শুধু ব্লাড সুগার কমায় না, শরীরের ক্ষতিকারক মেদও কমিয়ে ফেলে। নতুন ওষুধ GLIPTIN বেশি দামি। তবে দামি হলেও GLIPTIN ব্লাড সুগার দীর্ঘদিন পর্যন্ত আয়ত্তের মধ্যে রাখতে পারে, যা অন্য ওষুধ পারে না।

 টাইপ ২ ডায়াবেটিসে কোন্‌ ওষুধ দিয়ে শুরু করা উচিত?

উত্তর : আমাদের দেশে সাধারণত American Diabetes Association-এর নির্দেশিকা মেনে চিকিৎসা করা হয়। তবে তার সঙ্গে ভারতবর্ষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে। তাই আমাদের দেশের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জীবনযাপন পরিবর্তন, ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়া ইত্যাদির সঙ্গে নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। এর সঙ্গে METFORMIN নামে এক মহৌষধ দিয়ে শুরু করতে হবে। প্রথমত, শরীরের অবশিষ্ট ইনসুলিনকে এটি কাজ করতে সাহায্য করে, দ্বিতীয়ত, ওজন ও পেটের মেদ কমিয়ে ফেলতে পারে, এতে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে সুবিধে হয়। তৃতীয়ত, হাইপোগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ গ্লুকোজ ৭০-এর নিচে চলে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। চতুর্থত, দামও সাধ্যের মধ্যেও। একমাত্র সমস্যা হলো অনেকে পেটে গ্যাসের সমস্যা এবং ডায়ারিয়ার জন্য METFORMIN সহ্য করতে পারেন না। যদি ওষুধ কম ডোজের শুরু করে আস্তে আস্তে বাড়ানো যায় এবং খাওয়ার পরে দেওয়া যায় তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই পেটের গন্ডগোল এড়ানো যেতে পারে। আগে আমাদের ধারণা ছিল কিডনির সমস্যা হলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না। তাই মেয়েদের ক্ষেত্রে রক্তে ক্রিয়েটিনাইনের মাত্রা ১.৪ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১.৫-এর বেশি হলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যেত না। কিন্তু এখন রক্তে ক্রিয়েটিনাইনের মাত্রা নয়, Crcl (অর্থাৎ কিডনির পরিস্রুত করার ক্ষমতা) দেখে ওষুধের মাত্রা ঠিক করা হয়। Crcl ষাট অবধি পুরো ডোজ না হলেও কম ডোজে METFORMIN দেওয়া হয়। সবশেষে বলি এই ওষুধের ক্যানসার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে। এখন নতুন একটা ওষুধ এসেছে, যেটি ইউরিনের মাধ্যমে সুগারকে শরীর থেকে বের করে দেয়। এতে রক্তে সুগারের মাত্রা কমবে এবং ওজনও ঠিক থাকবে।

যোগাযোগ : ৯৮৩১৬৭১৫২৫, (০৩৩) ৬৬০৫৯৯২০/৯৯১৪

Featured Posts

Advertisement