যোগী রাজের
হুকুমতনামা

১১ জুন, ২০১৭

ওদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সে কথা মহিলা পুলিশ অফিসারকে জানানোও হয়েছে। তাতে কী হয়েছে? বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে বলেই বাড়ির অভিভাবকদের ছাড়া অবিবাহিতদের রাস্তায় একসঙ্গে বেরোনোর ছাড়পত্র মিলে গেছে নাকি? অতএব জেলে চলো।

জৌনপুর জেলার একমাত্র মহিলা পুলিশ অফিসার সীমা যাদব। যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যপাটে বসেই অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াড তৈরি করলেন যখন, সেই সময় সীমা ছুটিতে ছিলেন। তাই কাজে যোগ দিয়েই শুরু করে দিলেন অ্যাকশন। জৌনপুরের জনপ্রিয় একটি পার্কে গিয়েই পেয়ে গেলেন এই যুগলকে। ব্যাস, সিধা জেলে। অবশেষে মেয়েটিকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে তবে ছেড়েছেন দুজনকে।

উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে বি জে পি’র পক্ষ থেকে অনেক বিষয়ে সমীক্ষা করা হয়েছিল। সেই সমীক্ষার সময়ই মহিলাদের যৌন হয়রানির বিষয়টি দলের নেতারা হদিশ পেয়েছিলেন। সেই হয়রানি বন্ধের জন্যই এমন স্কোয়াড গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একথা জানিয়েছেন বছর ২৫-এর নীলেশ রঞ্জন। নীলেশ বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যলায়ের (বি এইচ ইউ)ছাত্র এবং বি জে পি’র যুব কর্মী। এই স্কোয়াড গড়ার প্রথম সপ্তাহেই স্ব ঘোষিত নৈতিক নজরদারির ঠেকেদারদের বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শেষ পর্যন্ত সরকারকে ফের পুলিশকে নির্দেশ দিতে হয় যে, যুগলদের ধরে হয়রানি করা যাবে না। এই স্কোয়াড তৈরি করা হয়েছে মহিলাদের যৌন উৎপীড়ন বা যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য। প্রেমিক যুগলদের হয়রানি করার জন্য নয়। ওই স্কোয়াড রাস্তায় ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে দেখলেই, হয় ছেলেদের শাস্তি হিসেবে চুল কেটে নেড়া করে দিচ্ছিল, নতুবা মারধর করছিলো। এমনও ঘটনা ঘটেছে, একটি কলেজের বাইরে একদল ছেলে ফুচকা খাচ্ছিল এবং নিজেদের মধ্যে হাসিমস্করা করছিল। তাদেরকেও ধরে নিয়ে চলে যায় এই অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড।

সরকারের এই ঘোষণা সীমা যাদবকে একটু দমিয়ে দিয়েছে। তাঁর ধারণা ছিল, এই স্কোয়াড তৈরি হয়েছে যে সব প্রেমিক যুগল সমাজের স্বীকৃতি ছাড়াই পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের একটা উচিৎ শিক্ষা দেওয়া যাবে। সীমা জানিয়েছেন, এখন মেয়েদের হয়রানি করছে এমন ছেলেদের ধরতে হবে তাঁকে। বছর তিরিশের সীমা সেই কারণে কলেজের ছাত্রীদের অক্লেশে নিজের নিজের ফোন নম্বর দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি এমন কোনো ফোন পাননি! বস্তুত যাদবদের মতো মানুষের কাছে ‘রোমিও’ বলতে একসঙ্গে থাকা ছেলেমেয়েরাই বোঝায়। তাঁদের আর এই অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের বেয়াদপি দাপটের ফলে শহরের জনপ্রিয় পার্কগুলি খালি হয়ে গেছে। পথেঘাটে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে দেখলেই তাদের ধরে থানায় নিয়ে যায় এরা। সীমা যাদব জানিয়েছেন, এই ‘রোমিও’দের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তারপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিভাবকদেরও সতর্ক করে দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা তাঁদের ছেলকেকে সমঝে দেন। সীমার ভাষায়, ‘অব গার্ডিয়ানস কো ইনকো কন্ট্রোল করনা হোগা।’

অথচ স্নাতকোত্তরের ছাত্রী কুসুম যাদব সুস্পষ্টভাবেই জানালেন, জৌনপুর কে হর রাস্তে মে মিল যাতে হ্যায় কোই বদতমিজ পার্টি। কলেজ কে বাহার তো লোফার পার্টি কা কাম হি হ্যায় কমেন্ট করনা। (জৌনপুরের প্রতিটি রাস্তাতেই এমন অসভ্য লোকের দেখা মিলবে। কলেজের বাইরে লোফারদের তো কাজই হলো আমাদের নিয়ে মন্তব্য করা)।

অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের সাফল্য কী? বারাণসীর মোড়ে মোড়ে এদের দেখা মিলবে। এই স্কোয়াড দাঁড়িয়ে থাকে স্কুল, কলেজ, মল বা মদের দোকানের বাইরেও। কিন্তু তারা রোমিওদের ধরেনি, অধিকাংশই যারা তাদের হাতে ধরা পড়েছে তারা হলো বাইক চোর, চোন ছিনতাইকারী। বারাণসী শহরের অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের নেতা অনুরাহ আর্য জানিয়েছেন, এই রোমিওদের সম্পর্কে পুলিশকে অনেক বেশি খবর দেন বয়স্করাই।

উত্তর প্রদেশে আকছার মহিলাদের শিকার হতে হয় যৌন হয়রানির। এটা প্রায় একটি সামাজিক রোগের চেহারা নিয়েছে। পথে বেরোনো মহিলারা যে কোনো সময় যে কোনো ধরণের হয়রানির শিকার হতে পারেন। কেউ তাঁদের গায়ে হাত দিচ্ছে, কেউ বা তাঁদের ওড়না টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছে। অশ্লীল ইঙ্গিত ও মন্তব্য তো রয়েইছে তার সঙ্গে। বিশেষত রাজ্যের ছোটো ছোটো শহরগুলিতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। একদিকে পরিবারগুলির মধ্যে গোঁড়ামি চেপে বসছে, আরেকদিকে পথে বেরোলে এই যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংশের মেয়েদের মধ্যে বারে বারে এই হয়রানির কথাই শোনা গেছে। বি এইচ ইউ-এর এক ছাত্রী তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, আমরা ‘আব্বা নেহী মানেগে’ থেকে পৌঁছে গেছি, ‘সরকার নেহি মানেঙ্গি’-তে। এমনিতেই জৌনপুর, মীর্জাপুরের মতো ছোটো শহরগুলিতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদেরও বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ হয়ে যায়। এই অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের দৌলতে তাদের অর্জিত স্বাধীনতা কীভাবে পদদলিত হচ্ছে সেটা তারা অনুভব করছে প্রতি মূহুর্তে। তাঁদের স্বাধীন চলাফেরার উপর বেড়ি পরিয়ে দিয়েছে এই পদক্ষেপ।

জৌনপুরের তিলকধারী কলেজের সামনে দাঁড়ালেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা মালুম হয়। বিকেলে কলেজ শেষে মেয়েরা দলে দলে বেরিয়ে আসছে। সামনের সরু গলিতে সার দিয়ে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেরা। যথেচ্ছভাবে তারা মেয়েদের আওয়াজ দিচ্ছে, তাদের গায়ে হাত দিচ্ছে, ওড়না ধরে টানছে। সীমা যাদবের বাহিনী ঘুরে গেলেও তাঁদের নাকি চোখে এইসব কিছুই পড়েনি। সীমা জানিয়েছেন, ছেলেরা কোনো খারাপ মন্তব্য করছে এমন কিছু তিনি শোনেননি। ওই কলেজের ৫০০মিটার সীমার মধ্যেই রয়েছে একটি কোচিং সেন্টার। সেই সেন্টার থেকে মেয়েরা মায়েদের সঙ্গে বেরিয়ে দ্রূত পায়ে পেরিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এদের কটুক্তি থেকে ছাড় পান না মায়েরাও। এঁদেরও পিছু নেয় এই তারা। জৌনপুরের গ্রাম এবং শহরেও এই হয়রানি মারাত্মক আকারের। গত কয়েকমাসে এই হয়রানি এবং উৎপীড়নের ঘটনার রিপোর্ট থানায় জমা পড়েছে। ছাড় পা না শিক্ষকরাও। কাছের সোনভদ্রা জেলাতেই ঘটেছে একটি ঘটনা। জেলার একটি প্রাইমারি স্কুলের ৫জন শিক্ষিকা এমন উৎপীড়নের শিকার হয়েছেন। গ্রামের প্রধানই এই উৎপীড়নের মূল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করার জন্য একদল লোক গিয়ে একজন মহিলার স্বামীকে গলা কেটে খুন করে এবং তাঁর শ্বশুরকে মারাত্মকভাবে জখম করে। কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা রাস্তায় হাঁটতেও ভয় পান। তিলকধারী কলেজেরই ছাত্রী উনিশ বছরের স্নাতক স্তরের ছাত্রী আরাধনা জানিয়েছেন, জৌনপুরের রাস্তায় হাঁটা ভয়াবহ। বাইক নিয়ে যাওয়া ছেলেরা বা যুবকরা যে কোনো সময় কোনো মেয়ের হাত ধরে টানতে পারে বা তাদেরকে কোনো অশ্লীল কথা বলে চলে যেতে পারে। রাস্তায় তো বটেই, ক্লাসে শিক্ষকের সামনেই ছেলেরা তাদের প্রতি অশ্লীল মন্তব্য করে। শিক্ষক নিশ্চুপই থাকেন! শুধুমাত্র প্রতিদিনের এই হয়রানির ভয়ে তাঁর অনেক বন্ধু কলেজে আসাই বন্ধ করে দিয়েছে। তিলকধারী কলেজের এক প্রাক্তন ছাত্রী ২২বছরের নিকিতা এখন এম বি এ পড়ছেন। তাঁর এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। কলেজে এক ছাত্রী কলেজের নিয়মিত যে পোশাক, ট্রাউজার, শার্ট ও ব্লেজার না পরে এসে কোনো কারণে ট্রাউজারের বদলে জিনস পরে এসেছিল। তথাকথিত ভারতীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে গিয়ে জিনস পরার জন্য সবার সামনে কলেজের ডিন সেই ছাত্রীকে নির্দ্বিধায় অপমান তো করেইছিলেন, উপরন্তু নিজের ফোনে সেই ছাত্রীর ফোটো তুলে ফেসবুকে দিয়ে ছাত্রীটির ভারতীয় মূল্যবোধ না থাকার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্যও করেছিলেন।

তাহলে যোগী রাজত্বে মহিলারা সুরক্ষিত কোথায়?

কোথাও না। ঝটিতি জবাব এলো বারাণসীর রিজওয়ানার কাছ থেকে। সঞ্জয় মেমোরিয়াল উইমেন্স কলেজ থেকে স্নাতক করেছে রিজওয়ানা। কলেজের কাছেই লোহটাতে থাকে সে। কলেজ থেকে মাত্র ২-৩কিলোমিটারের হাঁটা পথ। টানা তিন মাস ধরে ২৩বছরের এই ছাত্রী আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। এই তিন মাস তাকে অনুসরণ করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তার কোনো হদিশ তার জানা ছিল না। কারণ যেখানেই অভিযোগ জানাবে, সবার আগে কেন তাকে অনুসরণ করা হয়েছে সেই কৈফিয়ৎ তাকেই আগে দিতে হবে।

অভিযোগ জানানোর জায়গতা খুঁজে না পেলেও রিজওয়ানা জানে উত্তর প্রদেশে তাকে কী করতে হবে বা কী করতে হবে না। এখন চাকরি করে রিজওয়ানা। সে জানে হাঁটার সময় বা অটোতে যাওয়ার সময় ফোনে কথা বলা যাবে না; তাহলে লোকে ভাবতে পারেন আপনার বয়ফ্রেন্ড (পুরুষ বন্ধু) আছে এবং স্বাভাবিকভাবেই আপনার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দেবে। সাদা পোশাক পরবেন না; তাতে ছেলেরা আপনাকে বিধবা ভাবতে পারে। শরীরের কোনো অংশ দেখা যাচ্ছে এমন কোনো পোশাকও পরবেন না (স্লিভলেস জামা, চওড়া গলার জামা, ছোটো টপ বা স্কার্ট); এর অর্থ হলো আপনি ছেলেদের প্ররোচিত করছেন বা আপনাকে উত্যক্ত করার জন্য তাদের আহ্বান করেছেন। কোথাও ঘুরে বেড়াবেন না বা আড্ডা দেবেন না এমনকী সেটা যদি প্রকাশ্যেও হয়। একজন পুরুষকে বার বার হোয়াটসঅ্যাপে, ফেসবুকে মেসেজ করবেন না; এর অর্থ আপনি সেই পুরুষটিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। কোনো পার্ক জাতীয় জায়গায় যেন আপনাকে দেখা না যায়; তাহলে আপনার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে নেওয়া হবে এবং সর্বসমক্ষে কারোর সঙ্গে হাত ধরে হাঁটবেন না।

এই কথাগুলি বারাণসীর রিজওয়ানা জানালেও, এরসঙ্গে আপনি বারাণসীর ক্ষেত্রে মির্জাপুর, জৌনপুর-যে কোনো জায়গার নাম বসিয়ে দিতে পারেন। সব জায়গার কাহিনীই এক। সব জায়গাতেই মেয়েদের এই নিয়ম মেনে চলতে হয়। কর্মসূত্রে দিল্লি চলে যাচ্ছিলেন রিজওয়ানা। স্টেশনে তাঁকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন তাঁর পুরুষবন্ধু। পুলিশ ছাড়াও গেরুয়া জামা কাপড় পরা অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের লোকজন এমনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল যে বিদায় জানানোর সময় বন্ধুর হাতটুকুও ছুঁতে পারেননি রিজওয়ানা।

কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের রক্তচক্ষু শুধু পথেঘাটেই নয়, তাদের নিয়মের সঙ্কীর্ণতার জাল ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্বাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয় বা কাশী বিশ্ববিদ্যালয়ই হোক, এই হয়রানির শিকার তাদের সবক্ষেত্রেই হতে হয়। সবচেয়ে বেশি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বি এইচ ইউ)। আর্য মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী জ্যোতি মৌর্যের কথায়, নিত্যদিন তাদের নয়া কৌশল বের করতে হয় রাস্তায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাফেরার জন্য। নিজের কলেজের সামনের গেট দিয়ে কখনোই বেরোন না জ্যোতি। নৈতিক পুলিশের নজর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য স্বআরোপিত কিছু নিয়ম করেছে জ্যোতি। যেমন কলেজের সামনের গেট দিয়ে না বেরোনো, রক্ষণশীলভাবেই পোশাক পরা এবং কারোর সঙ্গে মেলামেশা না করে নিজের মতো থাকা। বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী মিনিশা মিশ্র জানিয়েছে, বি এইচ ইউ-তে ছাত্রীদের জন্য লিখিত বা অলিখিত একগুচ্ছ নিয়ম আছে। রাত সাড়ে ১০টার পর কোনো ছাত্রী আর ফোনে কথা বলতে পারবে না, সন্ধ্যে ৭টার মধ্যে হস্টেলে ফিরে আসতেই হবে। শুধু এই নয়, ছাত্রীদের লিখিতভাবে জানাতে হয় যে তারা কোনো বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করবে না ! বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, কেউ যেন তোমাকে না ছুঁতে পারে। যারা মেয়েদের অপমান করে, হয়রান করে, তাদের এমনটা শেখানো হয় না যে, তুমি ছোঁবে না। মেয়েদের জন্য যে তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, তার লক্ষ্যই হলো সবার আগে মেয়েদের একটা নির্দিষ্ট ধারায় বা গণ্ডীতে আটকে ফেলা, তাকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে ফেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ই হোক, বা সমাজই হোক, প্রত্যেকের লক্ষ হলো মহিলাদের শরীর, মন, আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করা।

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের শত নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে ফেলার উগ্র আস্ফালন চলছে রাজ্যে। অচলায়তনে আটকে পড়া মহিলারা প্রশ্ন করছেন, আমার নিরাপত্তার নামে তৈরি করা ব্যবস্থা, আমারই স্বাধীনতাকে কেন কেড়ে নিচ্ছে?





হাইলাইটের জন্য

হাঁটার সময় বা অটোতে যাওয়ার সময় ফোনে কথা বলা যাবে না; লোকে ভাবতে পারেন আপনার বয়ফ্রেন্ড (পুরুষ বন্ধু) আছে এবং চরিত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দেবে।

সাদা পোশাক পরবেন না; ছেলেরা আপনাকে বিধবা ভাবতে পারে।

শরীরের কোনো অংশ দেখা যাচ্ছে এমন কোনো পোশাকও পরবেন না; আপনি ছেলেদের প্ররোচিত করছেন বা আপনাকে উত্যক্ত করার জন্য তাদের আহ্বান করেছেন।

কোথাও ঘুরে বেড়াবেন না বা আড্ডা দেবেন না এমনকী সেটা যদি প্রকাশ্যেও হয়।

একজন পুরুষকে বার বার হোয়াটসঅ্যাপে, ফেসবুকে মেসেজ করবেন না; এর অর্থ আপনি সেই পুরুষটিকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

কোনো পার্ক জাতীয় জায়গায় যেন আপনাকে দেখা না যায়; তাহলে আপনার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে নেওয়া হবে এবং সর্বসমক্ষে কারোর সঙ্গে হাত ধরে হাঁটবেন না।

(সৌজন্যে: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রিয়াঙ্কা কোটামরাজু)

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement