বিজ্ঞানী থেকে বিজ্ঞান কর্মী

অমৃতকুমার দাস

২০ আগস্ট, ২০১৭

চলে গেলেন ভারতের অণু জীববিদ্যার পুরোধা ড. পুষ্পমিত্র ভার্গব। দেশের সেরার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় পৌঁছেও তিনি নিজের বিজ্ঞান কর্মী সত্ত্বাকে কখন ছাড়তে চান নি। প্রথাগত বিজ্ঞান চর্চার সাথে তিনি ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা ও বিজ্ঞান প্রসারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন। দেশের প্রথম সারির বিজ্ঞানী হলেও অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে ড. ভার্গবকে প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা গেছে। ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানকে মিশিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক লাভের বিরু্দ্ধে কথা বলতে দেখা গেছে বিজ্ঞানী ভার্গবকে।

জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে চালানোর কেন্দ্রীয় সরকারের মরণপণ চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি কথা বলে গেছেন নিরলশভাবে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি যখন দেশের বৈজ্ঞানিক চিন্তার জগতকে আক্রমণ করেছেন তখন বয়সকে দূরে সরিয়ে লড়াই করতে দেখা গেছে আশীতিপর ওই বিজ্ঞানীকে। কেন্দ্র সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই তিনি নিজের ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি ত্যাগ করেছেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জেরে বিজ্ঞানী এম এম কালবুর্গি হত্যা কিংবা উত্তর প্রদেশের দাদরিতে মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছেন ওই বর্ষিয়ান বিজ্ঞানী।

পড়াশুনায় অসম্ভব মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিলেন পুষ্পমিত্র ভার্গব। কোষ ও অণু জীববিদ্যার গবেষণা ছিল তাঁর ধ্যান, জ্ঞান। এর পাশাপাশি অক্লান্তভাবে লড়াই করে গেছেন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। যুক্তিবাদী চিন্তা যেখানে বাধা পেয়েছে সেখানেই তিনি প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। জাতিভেদ, ধর্মান্ধতা, অন্ধবিশ্বাস, মানুষের মধ্যে বিভেদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন ক্লান্তিহীন সৈনিক।

রাজস্থানের অজয়মেরু শহরে ১৯২৮সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি জন্ম হয় ভার্গবের। রাজস্থানের চৌহান বংশের রাজা অজয়রাজ চৌহান তাঁর নিজের নামে ওই শহরটি পত্তন করেছিলেন। পরে ওই নগর ‘আজমের’ নামে পরিচিত হয়। ভার্গবের বাবা রামচন্দ্র ভার্গব পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। মা গায়েত্রী ভার্গব বাড়ির কাজে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ছোটো থেকে তিনি কোন প্রথাগত পড়াশুনা করেন নি। কিশোর ভার্গব দশ বছর বয়স অবধি ঠাকুরদার কাছেই লেখাপড়া করেছেন।

দশ বছর বয়সে ভার্গব পরিবার আজমের থেকে বারাণসীতে চলে আসে। দশ বছর বয়সেই বারাণসীতে ভার্গব প্রথম স্কুলে ভর্তি হয়। বছর দশ হলেও তাঁকে ভর্তি করা হয় নবম শ্রেণিতে। মেধাবী হওয়ার জন্যই উচু ক্লাসে ভর্তি হয়েও তাঁর পড়াশুনা কোন সময়ই থেমে থাকে নি। ১৯৪৪ সালে বি এস সি এবং ১৯৪৬ সালে লক্ষ্মৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জৈব রসায়নে এম এস সি পাশ করেন। তখন ভার্গবের বয়স মাত্র আঠারো। ওই বয়সে একজন স্নাতক পর্যায়ে পড়াশুনা শুরু করে। এম এস সি পাশ করার পরেই ওই বছরে লক্ষ্মৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্লেষণধর্মী জৈবরসায়নের ওপর গবেষণা শুরু করে দেন ভার্গব। আর গবেষণা করতে করতে মাত্র ২১ বছর বয়সে ভার্গব পি এইচ ডি পান।

ততদিনে দেশ স্বাধীন হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও বিভিন্ন কারণে তখন বিশ্লেষণধর্মী জৈবরসায়নে মৌলিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে। নবীন বিজ্ঞানী হিসাবে পুষ্পমিত্র ভার্গব ১৯৫০সালে বড় গবেষণার দায়িত্ব নিতে হায়দরাবাদ চলে আসেন। শুরু হয় হায়দরাবাদের সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিজ ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বর্তমানে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি) একের পর এক ব্যবহারিক গবেষণা। সেই সময় ভার্গব ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন গবেষণার স্বার্থে।

সেসব দিনে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানী ভার্গব অনুভব করেন সেই সময় দেশের আধুনিক গবেষণার পরিকাঠামো নেই। আন্তর্জাতিক মানের উপযুক্ত পরিকাঠামো ছাড়া যে উন্নতমানের গবেষণা সম্ভবপর নয়, তা তিনি অন্য বিজ্ঞানীদের মতোই অনুভব করেছিলেন। বিদেশে জৈবরসায়নের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে ভার্গব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন এবং ইংল্যান্ডে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল রিসার্চ সংস্থায় ফেলোশিপ করতে যান। সেখানে গবেষণা করার সুবাদে তিনি জৈবরসায়নের কী ধরণের পরিকাঠামো দরকার তার সম্যক ধারণা জন্মায়।

বিদেশে গবেষণা চালানোর সময়ই পুষ্পমিত্র ভার্গবের গবেষণার ক্ষেত্র ‘বিশ্লেষণধর্মী জৈবরসায়ন’ থেকে সরে চলে আসে ‘কোষ ও অণু জীববিদ্যা’য়। ১৯৫৮সালে ড. ভার্গব দেশে ফিরে আসেন। হায়দরাবাদে তাঁর পুরোনো প্রতিষ্ঠানে আবার শুরু করেন গবেষণা। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে প্রায়োগিক গবেষণার স্বার্থে হায়দরাবাদে তিনিই নতুন একটা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭সালের ১লা এপ্রিল থেকে ওই গবেষণাগার পুরোদস্তুর কাজ শুরু করে।

ডি এন এ, জিনতত্ত্বসহ জীবদেহের কোষের আণবিক গঠন সংক্রান্ত গবেষণা আরম্ভ করেন ভার্গব। সেই সঙ্গে চালিয়ে যান লাগাতার প্রশিক্ষণ। গবেষণাগার শুরু থেকে ড. ভার্গব ওই প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা পদে কাজ চালিয়ে গেছেন। ড. ভার্গবের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৮১ সালে ওই গবেষণাগারটি জাতীয় গবেষণাগারের স্বীকৃতি পায়। এরপরেও তিনি ৬২বছর বয়স পর্যন্ত সংস্থাটিতে অধিকর্তা পদে ছিলেন। সরকারীভাবে অবসর গ্রহণের পরেও ‘ডিসটিংগুইশড ফেলোশিপ’ পদ সৃষ্টি করে তাঁকে ওখানে গবেষণার সাথে আরো তিন বছর যুক্ত রাখা হয়।

ড. ভার্গব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানসহ ৫০টি দেশে গিয়ে গবেষণা কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে লেখা তাঁর কমপক্ষে ১২৫টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণার জীবনে অধ্যাপক ভার্গব অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি তা সুষ্ঠুভাবে চালানোর পরিকাঠামো তৈরির কাজ করে গেছেন। দেশের নামকরা কিছু সরকারী দায়িত্বও বিজ্ঞানী ভার্গব পালন করে এসেছেন। তিনি ন্যাশনাল নলেজ কমিশন-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল সিকিওরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্রিসাল কমিটিতে বিজ্ঞানী ভার্গব ছিলেন ভারত সরকারের মনোনীত সদস্য। বিজ্ঞানী হিসাবে পুষ্পমিত্র ভার্গব নিজেকে যেমন চরম উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছিলেন, তেমনি অবিজ্ঞান মনষ্কতার বিরুদ্ধে আপশহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসোসিয়েশন অব সায়েন্টিফিক ওয়ার্কার্স ইন ইন্ডিয়া’র সদস্য ছিলেন। বিজ্ঞানী ভার্গব ১৯৬৩ সালে সতীশ ধাওয়ান এবং আবদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিজ্ঞান-মনষ্ক একটি জাতীয় মঞ্চ করার উদ্যোগ নেন। সেই উদ্দেশ্যেই ১৯৬৪ সালে হায়দরাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি’তে এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে গড়ে ওঠে ‘সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্টেফিক টেম্পার’ নামক একটি সংগঠন।

দেশ তথা সরকারের প্রয়োজনে গবেষণা ও অন্যান্য সহযোগিতায় তিনি যেমন ছিলেন নিবেদিত প্রাণ, তেমনই সরকারি নীতি কিংবা সরকারি সংস্থার দুর্নীতি প্রতিবাদ করতে কখনো বিজ্ঞানী ভার্গব পিছপা হন নি। এবছর তিরুপতিতে জাতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের আসরে ধর্ম ও বিজ্ঞান শীর্ষক আলোচনা আসার বিরুদ্ধেও কেন্দ্রের সমালোচনা করতে ছাড়েন নি তিনি। সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী নীতি নিয়ে তিনি কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করতে কোনদিন ছাড়েন নি। বাধা দিয়েছিলেন বায়োটেকনোলজি রেগুলেটরি অথারিটি অব ইন্ডিয়া’র সরকারী বিলটি। ‘জি এম’ খাদ্য প্রচলন করার সরকারী চেষ্টার বিরোধী ছিলেন তিনি। কারণ তিনি মনে করেন ‘জি এম’ প্রচলন হলে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে।

২০০০সালে তদানিন্তন এন ডি এ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. মুরলী মনোহর যোশী যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে জ্যোতিষবিদ্যাকে বিজ্ঞান বলে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে গেছিলেন তখন তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বিজ্ঞানী ভার্গব। শুধু মৌখিক প্রতিবাদ নয়, তিনি সে সময় বিজ্ঞানী মহলকে এর বিরুদ্ধে একত্রিত করতে সংগঠকের ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিজ্ঞানী মহল থেকে বারংবার অনুরোধ উপরোধ করেও কাজ না হওয়ায় ড. ভার্গব অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন।

হাইকোর্ট ওই আবেদন খারিজ করে দিলেও ভার্গব একই আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যান। কেন্দ্র সরকার হতবাক হয়ে যায় দেশের সেরা বিজ্ঞানীর প্রতিবাদের পথ দেখে। ফলত কেন্দ্রকে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। এখানেই শেষ নয়। ন্যাশনাল সিকিওরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য থাকাকালীনও ২০০৯ সালে পুষ্পমিত্র ভার্গব দেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অব সায়েন্টেফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর দুর্নীতি আর স্বজন পোষণের বিরোধিতা করতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পর্যন্ত দরবার করেছিলেন।দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ লঙ্ঘিত হতে দেখে ২০১৫সালে তিনি পদ্মভূষণ সম্মান ফেরত দিয়ে দেন।

পুষ্পমিত্র ভার্গবের লাগাতার আন্দোলন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে জ্যোতিষবিদ্যাকে বিজ্ঞানের বিষয় হিসাবে রাখতে পারে নি কেন্দ্র। অধ্যাপক ভার্গব জীবনে কখনো মেনে নেন নি দেশের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদের রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে। সংকীর্ণতার গণ্ডি পেরিয়ে কাজ করতে তিনি বারংবার বলে গেছেন। ধর্মীয় ভেদাভেদের ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন করতে গিয়ে এম এম কালবর্গীর হত্যা কিংবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে মহম্মদ আখলাক হত্যাকে তিনি কখনো মানতে পারেন নি। ধর্ম নিরপেক্ষতার ও বিজ্ঞান মনষ্কতার পরিপন্থী এন ডি এ কিংবা বিজেপি সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতের বিরুদ্ধে শেষ দিন পর্যন্ত কথা বলতে দেখা গেছে বিজ্ঞানী ভার্গবকে।

সরকারি সম্মান ফেরত দিয়ে গিয়ে অন্যান্য বিজ্ঞানীদের চুপ করে থাকতে দেখা যায় নি ভার্গবকে। পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দেওয়ার সময় কেন্দ্র সরকারকে সমালোচনা করতে তিনি বলেছেন — এসবের প্রতিবাদ করা উচিত বলে আমি মনে করি, তাই আমি এই সরকারী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি। আমার এই বয়সে এর বেশি আর আমি কী করতে পারি ? তাঁর গবেষণালব্ধ তথ্য নিয়ে লেখা বহু প্রবন্ধ বিশ্বের নানান বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞান সংক্রান্ত বেশ কিছু বই লিখেছেন।

দেশের সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞান মনস্ক করার জন্যও কয়েকটি বই লিখে গেছেন। (১) The Saga of India Science since Independence : In a Nutshell, (২) Angel, Devil, and Science : A Collection of Articles on Scientific Temper, (৩) Agenda for the Nation : An Untold Story of the UPA Gove

ment, (৪) The Two Faces of Beauty : Science and Art -এই বইগুলি তাঁর প্রিয় ছাত্রী তথা সহকারী চন্দনা চক্রবর্তী’র সাথে মিলিতভাবে লিখে গেছেন।

সরকারি ক্ষেত্রের গবেষণা থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি দেশবাসীর বিজ্ঞান মনস্কতা বাড়ানোর জন্য সময় ব্যয় করে গেছেন। হায়দরাবাদে সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি তৈরি থেকে তার যাবতীয় পরিকল্পনা, বাড়ির স্থাপত্য, গবেষকদের থাকা খাওয়ার জায়গা থেকে সেখানকার পর্দার রঙ পর্যন্ত ঠিক দিয়েছেন বিজ্ঞানী ভার্গব। তিনি যতদিন সেলুলার বায়োলজি’র সাথে যুক্ত ছিলেন ততদিন প্রকৃত অর্থেই তিনি ছিলেন সেখানকার অভিভাবক। এবিষয়ে তাঁর স্ত্রী মনোরমাদেবী সব সময় বিজ্ঞানী ভার্গবকে সহায়তা করে এসেছেন। যেকোন গবেষণায় ড. ভার্গব ছিলেন খুব আন্তরিক। শিক্ষক ও গবেষণার গাইড হিসাবে তাঁর কাছে ছাত্র-ছাত্রীরা শিখেছেন কঠোর শৃঙ্খলা আর নিয়মানুবর্তিতা।

শিক্ষক হিসাবে পুষ্পমিত্র ভার্গব ছিলেন সকলের অত্যন্ত প্রিয়। জনবিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসারে তাঁর সাহস ও দৃঢ়চেতা মনোভাব আগামী দিনে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। জন্মিলে মরিতে হবে — এটা চিরসত্য। একথা মনে রেখেই পুষ্পমিত্র ভার্গবের ১লা আগস্ট ৮৯ বছরে চলে যাওয়াটা মেনে নিতেই হবে। তবুও বিজ্ঞানী ভার্গবের মতো একজন বিজ্ঞান কর্মী মনস্ক বড় মাপের বিজ্ঞানী দেশের ইতিহাসে বেশ বিরল। আক্ষেপ একটাই গৈরিক আগ্রাসনের মধ্যে পড়তে হবে বলে ড. ভার্গবের মতো প্রতিবাদী বিজ্ঞানীর মৃত্যু সংবাদ স্থান পায়নি সংবাদ মাধ্যমে। ব্যতিক্রম গণশক্তির মতো কতিপয় সংবাদপত্র।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement