সদ্যোজাতদের জন্ডিস কেন?

২০ আগস্ট, ২০১৭

জন্ডিস সদ্যোজাতদের ক্ষেত্রে গুরুতর আকার নেয়। এই রোগে দেশে-বিদেশে অসংখ্য বাচ্চার প্রাণ যায়। কিন্তু এক্কেবারে ছোট অবস্থায় কেন জন্ডিস হয় তার কারণই এতদিন ছিল অজানা। এবার তা জানা গেল। এবারে হয়তো ওই জন্ডিসের হাত থেকে বাঁচানো যাবে সদ্যোজাতদের। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী রবার্ট টুকে এই খোঁজ দিলেন। গবেষণায় সহযোগীর কাজ করার জেরে রবার্ট টুকের সঙ্গে জড়িয়ে গেল প্রবাসী ভারতীয় গ্যাসট্রো এন্টারোলজিস্ট আনন্দ কান্ননের নাম।

জন্মের তিনদিন পর থেকেই অনেক শিশু আটকা পড়ে যায় জন্ডিসের জটিল জটে। শরীরের রঙ কাঁচা হলুদের মতো হওয়ার পাশপাশি পেট মারাত্মক ফুলে যায়। প্রস্রাব হলদে হতে থাকে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে সদ্যোজাতের তাপমাত্রা। সচরাচর জন্মের তিনদিন পরে রোগটি ধরা পড়ে। এই রোগের পোশাকি নাম সিভিয়র নিওন্যাটাল হাইপারবিলিরুবিনেমিয়া।

সকলের এতটুকু জানাই ছিল। কিন্তু জন্মের ঠিক তিনদিন পর থেকেই কেন এই জন্ডিসের আক্রমণ ঘটতো তা বলতে পারতেন না চিকিৎসকরা। সেই আপাত অজানার খোঁজ দিয়েছেন রবার্ট টুকে ও তাঁর দল। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়াগো স্কুল অব মেডিসিনের ফার্মাকোলজি’র অধ্যাপক রবার্ট টুক। তিনি তাঁর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুজুয়ান শেন আর অনাবাসী কেরলের চিকিৎসক আনন্দ কান্নন’কে নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন।

চিকিৎসক আনন্দ কান্নন জানাচ্ছেন, সদ্যোজাতদের শরীরে একটি বিশেষ প্রোটিনের জেরেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। যেসব সদ্যোজাতের দেহের ওজন বেশি তাঁদের এই প্রোটিন তৈরি হয় না। অন্যদিকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু কম ওজন হলেই ওই প্রোটিনটির বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়। ওই প্রোটিনটি রক্তে মেশা বিলিরুবিনকে জলে দ্রবীভূত হতে দেয় না।

শিশুদের দেহে বিলিরুবিনকে জলে দ্রবীভূত হওয়ার জন্য জন্য যে জিনটি দায়ী, তাকেই কিছু সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় করে দেয় ওই প্রোটিন। এখন ওই প্রোটিনের খোঁজ মেলায় তাকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। ছোটদের চট করে জন্ডিস আক্রমণ শানাতে পারবে না। এখন দেখা হচ্ছে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কোন যৌগ দিয়ে সেই কাজ করা যায়।



বর্জ্য ধাতুতে মেডেল



২০২০-তে অলিম্পিকের আসর বসছে টোকিওতে। একটি কারণের জন্য আগত অলিম্পিক হয়ে উঠবে অনন্য। কেননা টোকিও অলিম্পিকে বিজয়ীদের সব মেডেল তৈরি হবে ‘রিসাইকেলড’ ধাতু দিয়ে। এই ধাতু সংগ্রহের জন্য জাপানবাসীর কাছে আবেদন রেখেছে টোকিও অলিম্পিক আয়োজক সংগঠন। খারাপ হয়ে যাওয়া স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিক গেজেট দান করতে আবেদন জানানো হয়েছে।

ইলেকট্রনিক বর্জ্য এখন গোটা বিশ্বে একটা বড় সমস্যা। প্রতিদিন যত স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ফ্রিজ, টিভি, এসি-র মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রী বাতিল হয়, তা পৃথিবীর একটা বিশাল জায়গা ভরিয়ে তুলছে। এটা নিয়ে বেশ চিন্তিত সব দেশের পরিবেশবিদরা। বাইরে পড়ে থাকা ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে গ্রিন হাউস গ্যাসও তৈরি হয়। তাই সব দিক থেকেই এটি পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর।

এবার সেই দূষকের হাত থেকে মুক্তি পেতেই দারুণ পথ বাছলো জাপান। অলিম্পিক আয়োজনের খরচ না বাড়িয়েই বর্জ্য থেকে মুক্তির পথ বাতলেছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। আগামী অলিম্পিকের সমস্ত মেডেল হবে ফেলে দেওয়া ইলেকট্রনিক বর্জ্য ধাতু দিয়েই। খারাপ ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে জাপান জুড়ে খোলা হয়েছে মোট ২হাজার বিশেষ আউটলেট। যেকেউ পুরানো স্মার্টফোন, ডিজিট্যাল ক্যামেরা, ল্যাপটপ, টিভি-র মতো বাতিল করা জিনিসপত্র ওই স্টোরগুলোতে জমা করতে পারবেন।

এই বছর আগস্ট মাসের শেষ থেকে শুরু হবে ফেলা দেওয়া জিনিস থেকে ধাতু নিষ্কাশন। প্রাথমিক একটা হিসাবে দেখা গেছে যে পরিমাণ ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য জমা পড়বে তা দিয়ে অন্তত ৮ টন ধাতু নিষ্কাশন করা যাবে। এই ধাতু দিয়ে করা যাবে ৫হাজার মেডেল। এই মেডেল সামার এবং স্পেশাল অলিম্পিকের সম্পূর্ণ মেডেল চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এর আগে রিও অলিম্পিকে বাতিল ধাতু দিয়ে ৩০শতাংশ মেডেল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রথম কোনও অলিম্পিকের সমস্ত মেডেল তৈরি হচ্ছে রিসাইকেলড ধাতু দিয়ে।



বিকল্প বালির খোঁজ



নির্মাণর জন্য নদীখাত থেকে বেআইনি বালি তোলার দিন শেষ হতে চলেছে। দেশের অন্যতম স্টিল প্রস্তুতকারক এসার স্টিল নদীর বালির একটি বিকল্পের খোঁজ দিয়েছে। ওই বিকল্প দিয়ে সহজেই নির্মাণের প্রয়োজনীয় বালি তৈরি করা যাবে। বাড়ির তৈরি সব রকমের কাজ এই বালিতে করা যাবে। আনকোরা এই বালির গুণমান নিয়ে নিঃসংশয় হয়ে তা ‘বিকল্প বালি’র উপযোগী বলে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন বালির ব্যবহার চালু হয়ে গেলে নদীর বালির ওপর চাপ অনেকটা কমবে। কমবে বালি মাফিয়াদের রমরমা বেআইনি ব্যবসা। প্রশাসনের সঙ্গে পরিবেশবিদরা দারুণ খুশি। কারণ এই বালির ব্যবহারে প্রকৃতির ওপর এতটুকুও চাপ পড়বে না। নদীর কোনও ক্ষতিও হবে না।

এসার স্টিলের সিইও দিলীপ ওমেন জানিয়েছেন, নতুন এই বিকল্প বালি তৈরি হচ্ছে লোহার ‘স্ল্যাগ’ থেকে। ব্লাস্ট ফার্নেসে ইস্পাত গলানোর পর যে পদার্থ পড়ে থাকে তাকে ‘স্ল্যাগ’ বলে। এই স্ল্যাগ থেকেই তৈরি হয়েছে বিকল্প বালি। এই পদার্থ দিয়ে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, ব্রিজ এমনকী যেকোনও মাপের টাউনশিপও বানিয়ে ফেলা সম্ভব। গুণমানের কোনও ফারাক থাকবে না।

এখানেই শেষ নয়। স্ল্যাগ বালি দিয়ে কংক্রিটের কাজ করতে তার শক্তি সাধারণ বালি থেকে অনেক বেশি হবে। বিকল্প বালি জোগানে তেমন ঘাটতি হবে না ও কোনও ঘাটতি হবে না বলে দাবি করেছে এসার। জানা গেছে, মুম্বাই শহরেই দৈনিক ১৫০০ ট্রাক বালির প্রয়োজন হয়। স্ল্যাগ থেকে তৈরি বালি এই চাহিদাকে পূরণ করতে পারে। প্রাকৃতিক বালিকে বাঁচিয়ে এই বালি ব্যবহার দিয়ে নির্মাণশিল্পে সব রকম কাজই করা যায়। দামও পড়ে কিছুটা কম।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement